এখন পড়ছেন
হোম > রাজনীতি > তৃণমূল > দলত্যাগীদের দলে নেওয়া নিয়ে কি সিদ্ধান্ত মমতার? আড়াআড়ি বিভক্ত তৃণমূল শিবির!

দলত্যাগীদের দলে নেওয়া নিয়ে কি সিদ্ধান্ত মমতার? আড়াআড়ি বিভক্ত তৃণমূল শিবির!



প্রিয় বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট –  বিধানসভা নির্বাচনে তৃতীয়বার তৃণমূল কংগ্রেস রাজ্যের ক্ষমতা দখল করতে না করতেই খেলা ঘুরতে শুরু করেছে। নির্বাচনের আগে তৃণমূলের টিকিট না পেয়ে যারা বিজেপিতে যোগদান করেছিলেন, তাদের অনেককে টিকিট দিয়েছিল ভারতীয় জনতা পার্টি। তবে দলবদলুদের যে বাংলার মানুষ সমর্থন করেন না, তা এবারের নির্বাচনে কার্যত স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। তৃণমূল থেকে বিজেপিতে গিয়ে যারা পদ্মফুলের টিকিট নিয়ে নির্বাচনী লড়েছিলেন, তাদের মধ্যে অনেকেই পরাজিত হয়ে গিয়েছেন।

এমনকি বিজেপি রাজ্যের ক্ষমতা দখল করবে বলে আত্মবিশ্বাসী হলেও, শেষ পর্যন্ত 77 টির বেশি আসন দখল করতে পারেনি তারা। অন্যদিকে 213 টি আসন দখল করে তৃতীয়বারের জন্য বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে রাজ্যের ক্ষমতায় এসেছে তৃণমূল কংগ্রেস। আর তারপরেই সুর নরম করতে শুরু করেছেন ভোটের আগে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যাওয়া নেতা-নেত্রীরা। অনেকে পরাজিত হয়ে এখন আবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শরণাপন্ন হয়েছেন।

সোনালী গুহ থেকে শুরু করে সরলা মুর্মু, অমল আচার্য থেকে শুরু করে অনেক হেভিওয়েট নেতা, নেত্রীরা তৃণমূল কংগ্রেসে ফেরার ব্যাপারে আবেদন করেছেন। যদিও বা এই ব্যাপারে এখনও পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেনি তৃণমূল নেতৃত্ব। পরবর্তী ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

স্বাভাবিক ভাবেই তৃণমূল নেত্রী তথা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বিধানসভা নির্বাচনের আগে অন্য দলের নেতা-নেত্রীদের ফিরে আসা নিয়ে কি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন, এখন তার দিকেই নজর রয়েছে তৃণমূলের সকল স্তরের কর্মী-সমর্থকদের। তবে এই ব্যাপারে কার্যত আড়াআড়ি ভাবে বিভক্ত হয়ে গিয়েছে তৃণমূল শিবির। যা নিয়ে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।

অনেকে বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে দলত্যাগীরা আবার দলে ফিরতে চাইছে। হয়ত বা তারা নিজেদের ভুল বুঝতে পেরেছে। তাই তাদেরকে গ্রহণ করে নেওয়া উচিত। তবে অনেকে আবার এর বিরুদ্ধে মত দিতে শুরু করেছেন। তৃণমূলের একাংশের দাবি, 2021 এর বিধানসভা নির্বাচন খুব একটা সহজ ছিল না। কিন্তু সেই সময় যারা টিকিট না পাওয়ার জন্য লোভের বশবর্তী হয়ে বিজেপিতে যোগদান করেছেন, তারা পরবর্তীতে যে দলকে ব্ল্যাকমেলিং করবে না, তা বলা যায় না। তাই তাদেরকে এই সময় কোনোভাবেই গ্রহন করা উচিত নয়।

বিপদের সময় যারা দলকে বিপদে ফেলে পালায়, তারা আসলে দলের শত্রু। তাই নির্বাচনের আগে যারা টিকিট না পেয়ে দল পরিবর্তন করে বিজেপিতে নাম লিখিয়েছিলেন, তাদের যদি এখন দলের গ্রহণ করা হয়, তাহলে সদ্যসমাপ্ত নির্বাচনে যে সমস্ত কর্মী সমর্থক এবং নেতারা তৃণমূলের হয়ে ব্যাপক পরিশ্রম করেছিলেন, তাদের আবেগকে আঘাত লাগতে পারে। যা ঘাসফুল শিবিরের কাছে খুব একটা ভালো হবে না বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাই দলে থাকা নেতা-কর্মীদের আবেগকে সম্মান দিয়ে এখনই বিজেপিতে যাওয়া নেতা-কর্মীদের গ্রহণ করা উচিত নয় বলেই দাবি উঠতে শুরু করেছে তৃণমূলের অন্দরমহলে।

আমাদের নতুন ফেসবুক পেজ (Bloggers Park) লাইক ও ফলো করুন – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের টেলিগ্রাম গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের সিগন্যাল গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

বিশেষজ্ঞদের একাংশ বলছেন, এই ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে এক্ষেত্রে যারা দলত্যাগ করেছেন, তাদের মধ্যে বাছাই করে দলে কাদের কাদের নেওয়া হবে, সেই ব্যাপারে বড় সিদ্ধান্ত নিতে পারে তৃণমূল কংগ্রেস। দীর্ঘদিন ধরেই দলের সাথে অনেক নেতা-নেত্রী জড়িত। তারা এবার টিকিট না পেয়ে যোগ দিয়েছেন পদ্মফুল শিবিরেঋ যার মধ্যে অন্যতম সোনালী গুহ।

এক্ষেত্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সোনালী গুহর দীর্ঘদিনের পরিচিতি রয়েছে। তাই তাকে দলে যুক্ত করতে পারেন তৃণমূল নেত্রী। এছাড়াও আরও অনেকে রয়েছেন, যাদের ব্যাপারে সুর নরম করে তাদের দলে ফেরার সুযোগ করে দিতে পারেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে অনেকের ব্যাপারে কড়া অবস্থান গ্রহণ করতে পারে দল‌। কেননা সকলকে যদি এভাবে গ্রহণ করে নেওয়া হয়, তাহলে বিধানসভা নির্বাচনে যে সমস্ত বিজেপি নেতা-নেত্রীদের বিরুদ্ধে তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী সমর্থকরা লড়াই করেছিলেন, তাদের আবেগে আঘাত লাগতে পারে।

তাই কিছুদিন আগেই দল পরিবর্তন করে আবার দলে এসে যদি সেই সমস্ত ব্যক্তিরা নেতা হয়ে যায়, তাহলে তৃণমূলের অনেকেই তা মেনে নিতে পারবেন না। যার ফলে সংগঠন সাজাতে গিয়ে আবার নতুন করে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে জর্জরিত হয়ে যেতে পারে তৃণমূল কংগ্রেস। তাই এই সমস্ত বিষয় মাথায় রেখে দলে যারা আসতে চাইছেন, তাদের ব্যাপারে বাছবিচার করে মোক্ষম কৌশল গ্রহণ করতে পারেন তৃণমূল নেত্রী। সব মিলিয়ে গোটা পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, সেদিকেই নজর থাকবে সকলের।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!