এখন পড়ছেন
হোম > রাজনীতি > তৃণমূল > দলের একাংশই ক্ষমতার অপব্যবহার করে অবৈধ কাজে লিপ্ত? বিস্ফোরক অভিযোগ মমতার হেভিওয়েট মন্ত্রীর

দলের একাংশই ক্ষমতার অপব্যবহার করে অবৈধ কাজে লিপ্ত? বিস্ফোরক অভিযোগ মমতার হেভিওয়েট মন্ত্রীর



আপনাদের সুবিধার্থে খবরের শেষে বিধানসভা ২০২১ উপলক্ষে আমাদের করা সর্বশেষ সমীক্ষার প্রতিটির লিঙ্ক দেওয়া আছে।

আপনার মতামত জানান -

প্রিয় বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট – দীর্ঘদিন ধরেই গেরুয়া শিবির থেকে অভিযোগ উঠছিলো শাসক দলের দুর্নীতির বিরুদ্ধে। এই অভিযোগ আরও তীব্র হয়েছে একুশের বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে। তবে এবার শাসকদলের নেতা তথা রাজ্যের হেভিওয়েট মন্ত্রী যেভাবে দলের একাংশের অবৈধ কাজের বিরুদ্ধে মুখ খুললেন, তাতে বিরোধীদের অভিযোগ মান্যতা পেল বলেই মনে করা হচ্ছে। সম্প্রতি শাসকদলের দুর্নীতির বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন রাজ্যের মন্ত্রী তথা মঙ্গলকোটের তৃণমূল বিধায়ক সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী। এদিন তিনি অভিযোগ করেন, দলের একাংশ নিজেদের ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন। পাশাপাশি দলের লোকজনকে ভুয়ো মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

আর একই সাথে তিনি দাবি করেন, কারো অনুগত হয়ে তিনি চলতে পারবেন না। অন্যদিকে রাজ্যের মন্ত্রীর এহেন অভিযোগ সামনে আসার সাথে সাথেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র চাঞ্চল্য। অন্যদিকে মঙ্গলকোটের তৃণমূল বিধায়ক সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীর এহেন অভিযোগ পেয়ে এখনো পর্যন্ত কোনো প্রতিক্রিয়া দেননি তৃণমূলের বীরভূম জেলা সভাপতি তথা মঙ্গলকোটের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা অনুব্রত মণ্ডল। জানা গেছে, এদিন মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী প্রথমে বীরভূম জেলার পুলিশ সুপার ভাস্কর মুখোপাধ্যায়, তারপরেই জেলাশাসক এনাউর রহমানের সঙ্গে দেখা করে তাঁর অভিযোগ জানান। পাশাপাশি সংবাদমাধ্যমেও তিনি বলেন, মঙ্গলকোটের বাইশটি বালি খাদান থেকে নিয়মিত অবৈধ উপায়ে বালি তোলা হচ্ছে।

শুধু তাই নয়, সিদ্দিকুল্লা আরও জানান, একটি চালান তৈরি করে অনেকগুলি বালির গাড়ি পাস করানো হচ্ছে। অথবা কোন একটি বৈধ বালিঘাটের সঙ্গে অনেকটি এলাকা থেকে নিয়মবহির্ভূতভাবে বালি তোলা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, একই চালানে অন্য খাদান থেকেও বালি নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। মঙ্গলকোটের মানুষ এ ব্যাপারে ইতিমধ্যেই অভিযোগ জানাতে শুরু করেছেন। অন্যদিকে মন্ত্রী জানান, এভাবে বালির চোরাকারবারি হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া হচ্ছে। তবে মন্ত্রী অভিযোগ জানানোর পর পুলিশ এবং ভূমি সংস্কার দপ্তর বিষয়টি উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী।

বীরভূম জেলা শাসকের কাছে অভিযোগ করেন মন্ত্রী বিধায়ক তহবিল এর উন্নয়নের কাজ আটকে যাচ্ছে। এদিন মন্ত্রী জেলা শাসকের কাছে অভিযোগ করেন বীরভূমের গিধগ্রাম, ভাল্যগ্রাম এবং অন্য আরেকটি পঞ্চায়েতে 2017 সালে একটি করে অ্যাম্বুলেন্স দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু মানুষ সেই অ্যাম্বুলান্স পরিষেবা এখনো পর্যন্ত পাননি। তাই এদিন সিদ্দিকুল্লা দাবি করেছেন, ওই অ্যাম্বুলান্সগুলিকে সরকারি সংস্থার হাতে তুলে দিতে। পাশাপাশি তিনি জানান, কাজ করতে গেলে বিভিন্নভাবে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। এবং নাম না করেই তাঁর ইঙ্গিত যে জেলার তৃণমূল প্রধানের দিকে সে কথা বুঝতে কারও বাকি থাকেনি। অন্যদিকে গাঁজা কেসে ফাঁসানো নিয়ে রাজ্য প্রশাসনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করছে বিজেপি।


দেশে যে কোনো দিন ব্যান হয়ে যেতে পারে হোয়াটস্যাপ। তাই এখন থেকে আমরা শুধুমাত্র টেলিগ্রাম ও সিগন্যাল অ্যাপে। প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার নিউজ নিয়মিতভাবে পেতে যোগ দিন –

টেলিগ্রাম গ্রূপটাচ করুন এখানে

সিগন্যাল গ্রূপটাচ করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

কিন্তু এবার বিজেপির পাশাপাশি মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীও অভিযোগ করলেন, দলের একাংশ ক্ষমতার অপব্যবহার করে দলেরই অনেক কর্মীকে গাঁজা কেসে ফাঁসাচ্ছেন। সেক্ষেত্রে মনে করা হচ্ছে, শুধু বিজেপি নয় তৃণমূলের অনেক রাজনৈতিক কর্মীও মিথ্যা কেসে হয়রান হচ্ছেন। এ প্রসঙ্গে সিদ্দিকুল্লা জানান, পুরো বিষয়টি পুলিশ সুপারকে খতিয়ে দেখার জন্য তিনি আবেদন করেছেন। তবে প্রশ্ন উঠেছে, কারা ক্ষমতার অপব্যবহার করছে? এদিন মন্ত্রী সেই উত্তরে বলেন, মঙ্গলকোটের শাসক দলের একটি অংশ এই ক্ষমতার অপব্যবহারে নেমেছেন। তবে তিনি জানিয়েছেন, কোন বড় মাথাকে ধাক্কা দিতে পারছেন না বলে অন্য জায়গায় ধাক্কা দিচ্ছেন। এ কথাটি যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

অন্যদিকে সিদ্দিকুল্লা জানিয়েছেন দলীয় নেতৃত্ব তাঁকে মঙ্গলকোটে রাজনৈতিক কর্মসূচি প্রারম্ভ করতে বলেছেন। কিন্তু তিনি রাজনৈতিক কর্মসূচি করলেই এলাকায় অশান্তি শুরু হবে বলে সিদ্দিকুল্লা দাবি করেন। অন্যদিকে প্রশাসনিক স্তরে এই সমস্যার সমাধান হওয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন। সিদ্দিকুল্লা আরও জানিয়েছেন, 2021 এর বিধানসভা নির্বাচনে তাঁকে যদি দলের পক্ষ থেকে মঙ্গলকোটের প্রার্থী হিসেবে দাঁড় করানো হয়, তাহলে তিনি পূর্ণ স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করতে চান। কারোর অনুগত হয়ে তিনি যে থাকতে পারবেন না সে কথা স্পষ্ট করেন এবং এক্ষেত্রে ইঙ্গিত যে সোজাসুজি অনুব্রত মণ্ডলের দিকে সে কথা চোখ বন্ধ করেও বলে দেওয়া যায়।

সাংবাদিকরাও সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীকে অনুব্রত মণ্ডলের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করাতে তিনি এবার স্পষ্ট বলে দেন, ‘‘সবই তো বুঝতে পারছেন। দলের নেতা হয়ে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কথা তো বলতে পারব না।’’ এই পুরো ব্যাপারটি নিয়ে অনুব্রত মণ্ডলের সঙ্গে কথা বলায় তিনি জানান, এ ব্যাপারে তিনি কোনো প্রতিক্রিয়া দেবেন না। অন্যদিকে বিশেষজ্ঞদের মতে, 2021 এর বিধানসভা নির্বাচনের পরিপ্রেক্ষিতে যেভাবে বীরভূম জেলার দুই হেভিওয়েট নেতার মধ্যে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়েছে, তা কিন্তু আগামী বিধানসভা নির্বাচনের ওপর যথেষ্ট প্রভাব ফেলবে।

অন্যদিকে রাজনৈতিক মহলের অনেকেই মনে করছেন তৃণমূল শিবিরের অনেক নেতাই অভিযোগ করছেন দলের কিছু সংখ্যক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে। অভিযোগ করা হচ্ছে ক্ষমতার অপব্যবহারের। তাই এবার দলীয় নেতৃত্বর পক্ষ থেকে এ ধরনের অভিযোগ খন্ডন করতে কি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে, সে দিকেই লক্ষ্য থাকবে রাজ্যের ওয়াকিবহাল মহলের। রাজনোইতিক মহলের মতে, যেভাবে তৃণমূলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ উঠছে দলের মধ্য থেকেই, তাতে কিন্তু বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের বিপাকে পড়ার সমূহ সম্ভাবনা।

 

একনজরে দেখে নিন আমাদের সর্বশেষ বিধানসভা ২০২১ ওপিনিয়ন পোল –

# মুর্শিদাবাদ জেলার ওপিনিয়ন পোল – দ্বিতীয় পর্ব – 

# মুর্শিদাবাদ জেলার ওপিনিয়ন পোল – প্রথম পর্ব – 

# মালদহ জেলার ওপিনিয়ন পোল –

# দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার ওপিনিয়ন পোল –

# উত্তর দিনাজপুরে জেলার ওপিনিয়ন পোল –

# জলপাইগুড়ি ও কালিম্পঙ জেলার ওপিনিয়ন পোল –

# আলিপুরদুয়ার ও দার্জিলিং জেলার ওপিনিয়ন পোল –

# কুচবিহার জেলার ওপিনিয়ন পোল –

আপনার মতামত জানান -
আপনার মতামত জানান -

ট্যাগড
Top
error: Content is protected !!