এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > উত্তরবঙ্গ > সাধের কোচবিহারেও চিন্তা বাড়িয়ে ভাঙছে সংগঠন? দিলীপ ঘোষের কথায় তীব্র জল্পনা

সাধের কোচবিহারেও চিন্তা বাড়িয়ে ভাঙছে সংগঠন? দিলীপ ঘোষের কথায় তীব্র জল্পনা



লোকসভা ভোটের আগে কোচবিহারের সংগঠন নিয়ে বাড়তি চিন্তায় রাতের ঘুম উড়ল রাজ্য বিজেপির। কার্যত একথা এদিন স্বীকার করে নিলেন খোদ বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। জল্পনা বাড়িয়ে বিজেপির রাজ্য সভাপতি জানালেন পঞ্চায়েত নির্বাচনের পরই নাকি কোচবিহারের সংগঠন ‘অবিন্যস্ত’ এবং ‘ডিসটার্ব’ হয়ে গিয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই তাঁর একথা প্রকাশ্যে বলার পরই রাজনৈতিকমহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।

তবে কোচবিহারের সংগঠনকে এই অবস্থাতেই রেখে দিতে মোটেই রাজি নয় রাজ্য-বিজেপি। লোকসভা ভোটের আগেই বুথ-স্তর পর্যন্ত এই অবিন্যস্ত সংগঠনকে এক জায়গায় আনতেই এদিন দফায় দফায় বৈঠক করেন দিলীপবাবু বলে জানা গেছে। তবে, দলের রাজ্য সভাপতি জেলাতে এলেও দেখা মেলেনি প্রাক্তন জেলা সভাপতি নিখিলরঞ্জন দের। তিনি এদিন সকাল সকালই আসামের পথে রওনা দেন, এ কথা জানার পর দলের অন্দরেই তীব্র গুঞ্জন শুরু হয়। তবে সেসব গুঞ্জনকে পাত্তা না দিয়ে দিলীপবাবু জানান, ‘তিনি অন্যত্র গিয়েছেন – বিষয়টি আমাকে জানিয়েছেন’।

পাশাপাশি এই মূহুর্তে উত্তরবঙ্গের অন্যতম বড় ইস্যু ‘গ্রেটারের’ লড়াইয়ের পক্ষেও যে বিজেপির সমর্থন রয়েছে, একথা পরিষ্কার জানিয়ে দেন দিলীপবাবু। প্রসঙ্গত, গ্রেটারের নতুন কমিটি এদিন বিভিন্ন দাবী তুলে জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের কাছে দাবীপত্রও পাঠায়। অন্যদিকে, কোচবিহারের অবিন্যস্ত সংগঠন প্রসঙ্গে এদিন দিলীপবাবু সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জানান, বিজেপির সংগঠনকে মজবুত করার সংগ্রাম জারি রয়েছে। জেলায় বিজেপির ক্রম-উত্থান দেখে তৃণমূল ভয় পেয়ে গিয়ছিল। তার জেরে তাঁরা বহুবার বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের উপর হামলা করেছে, দল ভাঙার চেষ্টা করেছে।

বিজেপি রাজ্য সভাপতি এই প্রসঙ্গে আরো জানান, এমনকী পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময় ঠিকঠাকভাবে মনোনয়নও জমা করতে দেয়নি। অভিযোগ নিয়ে বারবার বিজেপিকে জেলাশাসক, পুলিশ প্রশাসনের দ্বারস্থ হতে হয়েছে। সবকিছু মিলিয়ে বাড়তি চাপে থাকায় সংগঠনের দিকে নজর কম পড়েছে। তার ফলশ্রুতিতে সংগঠন আজ অবিন্যস্ত হয়ে পড়েছে। তবে অবিন্যস্ত সংগঠনকে গোছানোর প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে বলেই জানালেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি। লোকসভা নির্বাচনে ভোটব্যাঙ্ক বাড়ানোর তাগিদেই সংগঠন পোক্ত করতে হবে বিজেপিকে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

প্রসঙ্গত, ইতিমধ্যেই কোচবিহার জেলা সভাপতিরও বদল ঘটানো হয়েছে। এরসঙ্গে জুড়ে তিনি আরো বলেন, জাতীয়স্তরের মতো কোচবিহারেও সংগঠনকে ঢেলে সাজানোর প্রক্রিয়া চলছিল। তবে একটু ‘ডিসটার্ব’ হয়ে গিয়েছে। এর সূত্র ধরেই দিলীপবাবু এদিন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাহাড় সফর নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়লেন না। তিনি বলেন, পাহাড় এবং জঙ্গলমহল এই নিয়েই মুখ্যমন্ত্রীর যতো ব্যস্ততা। তবে নেত্রী যাঁকে পাহাড়ে নেতা বানানোর চেষ্টায় রয়েছেন পাহাড়বাসী তাকে মান্যতা দিচ্ছে না। তাছাড়া তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরেই এতো সন্ত্রাসের রাজনীতি চলছে যা নিয়ে চিন্তায় রয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়!

তবে কোচবিহারে বিজেপির ভঙ্গুর সংগঠন দেখে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে দার্জিলিঙে কি বিজেপির মাটি শক্ত থাকবে? জবাবে তিনি জানান, মোর্চার অনুগামীদের সামনে আদর্শ নেতার অভাব রয়েছে। যার কারণে তাঁরা কিছুটা হতাশ হয়ে পড়েছেন। এতোদিন বিজেপি যথেষ্ট সহযোগীতা করেছে। তবে এবার ময়দানে নেমে পাহাড়ে বিজেপির শক্তি বাড়ানোর ব্যাপারে উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানালেন রাজ্য-বিজেপির হাইকমান্ডার। এর সঙ্গে জুড়ে তৃণমূল নেতাদের হাতে অস্ত্র প্রসঙ্গে রীতিমত কটাক্ষ করে তিনি বলেন, রাজ্যটাকে অস্ত্রের কারখানা বানিয়ে ফেলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। শুধু তাই নয় – তৃণমূলের অফিসকে ‘বোমের কারখানা’ বলেও কটাক্ষ করেন তিনি।

রাজ্যজুড়ে অস্ত্রের ব্যবহার বেড়ে যাওয়া প্রসঙ্গেও তিনি দায়ী করেন শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসকে। তিনি দাবি করেন, রাজ্যের শাসকদলের মদতেই বাংলাদেশ থেকে দুষ্কৃতিরা এ রাজ্যে ঢুকছে। এনআরসি প্রসঙ্গেও সরব হয়ে দিলীপবাবু বলেন, তৃণমূল অনুপ্রবেশকারীদের সমর্থন করে যতই চিৎকার করুক না কেন, বিজেপি এর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেবেই। রাজ্যে প্রায় এক কোটি ‘অনুপ্রবেশকারী’ রয়েছে বলেও দাবী করেন তিনি। এদের দেশ থেকে বের করে দিতে প্রয়োজন হলে আইনি পথেও হাঁটবে বিজেপি বলে জানান দিলীপ ঘোষ। বাংলায় এনআরসি চালু করার দাবীতে বিজেপি বারবার সরব হবে এমনটাও জানালেন তিনি এদিন।

তবে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের ধারনা, পঞ্চায়েত নির্বাচনে জয়ের লক্ষ্যমাত্রা বিজেপি ছুঁতে পারেনি বলেই কার্যত বিজেপির সংগঠনে ঘুন ধরেছে। দিশেহারা হয়ে পড়েছে কর্মীরা। জেলা সভাপতি এবং জেলা কমিটিতে পরবর্তন এনে সংগঠনকে সক্রিয় করার চেষ্টা করছে রাজ্য-বিজেপি। কিন্তু এতে তেমন কাজের কাজ হচ্ছে না কিছুই। এদিন সংবাদমাধ্যমের সামনেও সংগঠন সম্পর্কে বলতে গিয়ে ততোটা আত্মবিশ্বাসী দেখায়নি দিলীপবাবুকে – এমনটাই মনে করেছেন ওয়াকিবহালমহল। তবে গ্রেটারের লড়াইকে সমর্থন করে জেলার সাংগঠনিক শক্তিবৃদ্ধিতে গ্রেটারের সহযোগীতায় পাওয়ার জন্য সবরকম চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বিজেপি বলেও মনে করা হচ্ছে যা নিয়েও তীব্র চর্চা চলছে রাজনৈতিকমহলে।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!