এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > উত্তরবঙ্গ > দিলীপ ঘোষের পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম তৃণমূল কাউন্সিলরের! শুরু তীব্র জল্পনা

দিলীপ ঘোষের পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম তৃণমূল কাউন্সিলরের! শুরু তীব্র জল্পনা



রাজনীতিতে সৌজন্যে থাকবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু বিরোধী দলের নেতা-নেত্রীদের প্রতি সৌজন্যতা যদি অতিসৌজন্যতা হয়ে যায়, তাহলে তা নিঃসন্দেহে দলবদলের জল্পনাকে তীব্র করে। ঠিক এইরকমই ঘটনার সাক্ষী থাকল বুধবার জলপাইগুড়ি শহর। আর বিরোধীদলের নেতা তথা বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের সাথে সৌজন্য করতে গিয়ে, রীতিমতো তাকে প্রণাম করে বসলেন জলপাইগুড়ি পৌরসভার চেয়ারম্যান কাউন্সিল সন্দীপ মাহাতো।

আর তৃণমূলের সন্দীপবাবুর বিজেপি নেতার প্রতি এই অতিসৌজন্য দেখে নানা মহলে তৈরি হয়েছে জল্পনা। একাংশ বলছেন, সামনেই পৌরসভা নির্বাচন। আর তার আগে তৃণমূলের হেভিওয়েট কাউন্সিলরের বিজেপি নেতার প্রতি এই দরদ নিঃসন্দেহে তৃণমূল নেতৃত্বকে বিপাকে ফেলে দিল। তাহলে কি দিলীপ ঘোষের পা ছুঁয়ে প্রণাম করে দলবদলের জল্পনা উস্কে দিলেন সন্দীপ মাহাতো! নানা মহলে এই ব্যাপারে তৈরি হয়েছে প্রশ্ন।

যদিও বা এর সঙ্গে রাজনীতির কোনো ব্যাপার নেই বলে দাবি করেছেন জলপাইগুড়ি পৌরসভার তৃণমূলের চেয়ারম্যান ইন কাউন্সিল সেই সন্দীপ মাহাতো। তবে তৃণমূল নেতৃত্ব অবশ্য ব্যাপারটিকে ছোট করে দেখতে নারাজ। কেন তিনি হঠাৎ দিলীপ ঘোষকে প্রণাম করে বসলেন!

ফেসবুকে আমাদের নতুন ঠিকানা, লেটেস্ট আপডেট পেতে আজই লাইক ও ফলো করুন – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের টেলিগ্রাম গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের সিগন্যাল গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

এদিন এই প্রসঙ্গে সন্দীপবাবু বলেন, “এদিন সকালে কলকাতা যাওয়ার জন্য রওনা হচ্ছিলাম। সেইসময় বাড়ির সামনের রাস্তা দিয়ে মাথায় টুপি পড়ে বিজেপি নেতারা প্রাতঃভ্রমণ করছিলেন। সেখানেই বিজেপির জেলা সভাপতি আমাকে দাঁড় করিয়ে দীলিপবাবুর সঙ্গে পরিচয় করায়। সৌজন্য জানিয়ে ওনার পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করেছি। এখন বিষয়টি নিয়ে অনেকেই রসালো গল্প ছড়াচ্ছে। আমি তৃণমূলের সৈনিক, তৃণমূলেই আছি। শিষ্টাচারকে নিয়ে কেউ যদি রাজনীতি করে, তার চেয়ে লজ্জাজনক আর কিছু নেই।”

একইভাবে এই ব্যাপারে দিলীপ ঘোষ এবং জেলা বিজেপি সভাপতি বাপী স্বামীর গলাতেও শোনা গেছে একই সুর। তবে তৃণমূল অবশ্য দলের চেয়ারম্যান ইন কাউন্সিলের এহেন মন্তব্য নিয়ে কিছুটা হলেও হতবাক হয়ে গেছেন। এদিন এই প্রসঙ্গে জলপাইগুড়ি জেলা তৃণমূলের আহ্বায়ক চন্দন ভৌমিক বলেন, “সৌজন্যতা দেখাতে কেউ হাতজোড় করে নমস্কার করতেই পারেন। কিন্তু পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করে যে ইঙ্গিতপূর্ণ বার্তা সন্দীপবাবু দিয়েছেন, তা আলোচনার বিষয়। ওনার ইঙ্গিতবাহী আচরণের কারণ দল জানতে চাইবে। এনআরসি নিয়ে বিজেপি ব্যাকফুটে। তাই কোন কাউন্সিলার এল বা গেল, তাতে তৃণমূলের কিছু আসে যায় না।”

বিশ্লেষকরা বলছেন, জলপাইগুড়ি পৌরসভা নির্বাচনের জন্য ইতিমধ্যেই প্রশান্ত কিশোরের টিমের তরফে শহরে সমীক্ষা শুরু করা হয়েছে। যেখানে স্বচ্ছ ভাবমূর্তির ব্যক্তিদের প্রার্থী করার ব্যাপারে চিন্তাভাবনা শুরু করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। আর এই পরিস্থিতিতে কিছুটা হলেও কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন সেই সন্দীপ মাহাতো। আর তাইতো বিজেপির রাজ্য সভাপতির পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করে তিনি দলবদলে জল্পনাই উস্কে দিলেন বলে মনে করছে একাংশ। তবে এখন সন্দীপ মাহাতো বিজেপির রাজ্য সভাপতির পা ছুঁয়ে প্রণাম করে সৌজন্যতার বার্তা দেন, নাকি একেবারেই দলবদল করেন! সেদিকেই নজর থাকবে বিশেষজ্ঞদের।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!