এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > “দিদিকে বলো” কর্মসূচি সঠিকভাবে রুপায়ন করছেন না নেতারা? বড়সড় অভিযোগ তৃণমূলের একাংশের

“দিদিকে বলো” কর্মসূচি সঠিকভাবে রুপায়ন করছেন না নেতারা? বড়সড় অভিযোগ তৃণমূলের একাংশের



লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূলের রাজ্যে খারাপ ফলাফল হওয়ার পর দলের ভাবমূর্তি স্বচ্ছ করতে একাধিক পদক্ষেপ নিতে দেখা যায় ঘাসফুল শিবিরকে। যেখানে ভোটগুরু প্রশান্ত কিশোরকে দলের রননীতিকার করে, বিরোধীদের কার্যত কোণঠাসা করতে দিদিকে বলো কর্মসূচি নেয় তৃনমূল কংগ্রেস। যে কর্মসূচির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের বাড়ি বাড়ি পৌঁছে গিয়ে তাদের অভাব-অভিযোগ শোনাই ছিল প্রধান লক্ষ্য।

আর প্রশান্ত কিশোরের মস্তিষ্কপ্রসূত এই কর্মসূচি যাতে তৃণমূলের সমস্ত নেতৃত্বরা সঠিকভাবে পালন করেন, তার জন্য দলের তরফে বারবার বৈঠক করে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তবে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের একাংশ আঁচ করেছিল যে, দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনের কাজ না করায় অনেক নেতার মধ্যে ফাঁকিবাজি তৈরি হয়েছে। যার কারণে এই কর্মসূচিতে অনেকে ফাঁকি দেবেন। তবে প্রশান্ত কিশোরের টিম যে সেই দিকে নজর রাখবে, তা জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল। যার কারণে অনেকে আশা করেছিল, কড়া নজরদারির কারণে এই কর্মসূচিতে কোনভাবেই ফাঁকি দিতে পারবে না তৃণমূল নেতৃত্বরা।

কিন্তু না, অলস মস্তিষ্ক যে কর্মসূচি করতে অপারগ, তা এবার ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে রাজ্য নেতৃত্বকে বুঝিয়ে দিল মালদা জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব। আর সেই দিদিকে বলো কর্মসূচিতে ফাঁকিবাজি দেওয়ার কারণে এবার রাজ্য নেতৃত্বের কড়া ধমকের মুখে পড়তে হল মালদা জেলা নেতৃত্বকে। সূত্রের খবর, রবিবার মালদহ জেলা তৃণমূল নেতৃত্বকে কলকাতায় ডেকে এই ব্যাপারে তিরস্কৃত করে রাজ্য নেতৃত্ব।


দেশে যে কোনো দিন ব্যান হয়ে যেতে পারে হোয়াটস্যাপ। তাই এখন থেকে আমরা শুধুমাত্র টেলিগ্রাম ও সিগন্যাল অ্যাপে। প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার নিউজ নিয়মিতভাবে পেতে যোগ দিন –

টেলিগ্রাম গ্রূপটাচ করুন এখানে

সিগন্যাল গ্রূপটাচ করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

এদিনের এই বৈঠকে রাজ্যের তরফে উপস্থিত ছিলেন, রাজ্য তৃণমূল সভাপতি সুব্রত বক্সি, যুব তৃনমূলের সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ভোটগুরু প্রশান্ত কিশোর। অন্যদিকে মালদহ জেলা তৃণমূল নেতৃত্বের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন, জেলা যুব তৃনমূলের সভাপতি অম্লান ভাদুড়ি, বিধায়ক সমর মুখোপাধ্যায়, সাবিনা ইয়াসমিন, নীহার রঞ্জন ঘোষ, দিপালী বিশ্বাস, জেলা তৃণমূলের চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন, ইংরেজবাজার পৌরসভার ভাইস চেয়ারম্যান দুলাল সরকার সহ অন্যান্যরা।

জানা গেছে, এই বৈঠকেই জেলা নেতৃত্বকে কড়া ধমক দিয়ে দিদিকে বলো কর্মসূচি সঠিকভাবে পালনের নির্দেশ দেয় রাজ্য নেতৃত্ব। শুধু তাই নয়, জেলায় বিজেপি বিরোধী রাজনৈতিক কর্মসূচি যাতে আরও বেশি করে নেওয়া হয়, তার জন্য জেলা নেতৃত্বকে নির্দেশ দিতে দেখা যায়।

এদিন এই বৈঠকের পর জেলা তৃণমূলের কো-অর্ডিনেটর অম্লান ভাদুড়ি বলেন, “আগামী এক মাসের মধ্যে বিধানসভা থেকে বুথস্তর পর্যন্ত দিদিকে বলো কর্মসূচি রূপায়ণ করতে হবে। প্রত্যেক নেতাকে অন্তত পাঁচ জায়গায় যেতে হবে। জেলা তৃণমূল সভানেত্রী মৌসম নুর দেশের বাইরে থাকায় রাজ্য নেতৃত্ব আমাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিয়েছেন। সভানেত্রী ফিরলে এই ব্যাপারে তাকে অবহিত করা হবে।”

আর জেলা নেতৃত্বকে রাজ্য নেতৃত্বের ধমকের ফলে একপ্রকার স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে যে, দিদিকে বলো কর্মসূচি মালদহ জেলাতে ঠিকমতো রুপায়ন হয়নি। যার কারণেই জেলা নেতৃত্বের পর রীতিমতো ক্ষুব্ধ রাজ্য নেতৃত্ব। এখন রাজ্য নেতৃত্বের নির্দেশে ফাঁকিবাজি বন্ধ করার বার্তা জেলা নেতৃত্বকে দেওয়া হলেও তা কতটা বন্ধ হয়! আদৌ সঠিক ভাবে এই কর্মসূচি রূপায়ণ করতে পারে কিনা মালদহ তৃণমূল কংগ্রেস! এখন সেদিকেই নজর থাকবে সকলের।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!