এখন পড়ছেন
হোম > জাতীয় > দিল্লি বিধানসভা – বাঙালি ভোটের মন কোন দিকে? গেরুয়াপন্থী নাকি আম আদমির?

দিল্লি বিধানসভা – বাঙালি ভোটের মন কোন দিকে? গেরুয়াপন্থী নাকি আম আদমির?



দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনে যে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের রীতিমতো লাভ হতে চলেছে দিল্লির বাঙালি এলাকাগুলিতে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। চিত্তরঞ্জন পার্কের ব্লক থেকে শুরু করে কালকাজী এলাকা, মাই গ্রেটার কৈলাস এলাকা সবখানেই মধ্যবিত্তের পকেটে সাশ্রয় পৌঁছানোর কেজরিওয়াল সরকারের যোজনার ভূয়সী প্রশংসা চলছে। এই বিষয়ে সিআর পার্ক বসবাসকারী একজন ব্যক্তির সঙ্গে আলোচনা করলে জানা যায়, প্রথম মাসে তার বিদ্যুতের বিল এসেছে দুই টাকা।

নিয়ম মেনে বিদ্যুৎ বিভাগে সেই বিল জমা করতে গেলে বিভাগীয় আধিকারিকরা জানিয়েছেন, 5 টাকার নিচে বিল হলে পেমেন্ট করতে হবে না। পরবর্তীতে এমন অনেক মাস পড়েছে, যখন বিদ্যুতের বিল এসেছে শূন্য টাকা। কিন্তু কি করে এই অসম্ভব সম্ভব হল! যে সমস্ত জায়গায় ফ্ল্যাটের লিফট ব্যবহার করতে গেলেই বিল দিতে হয় প্রায় 2000 টাকার কাছাকাছি, সেইখানে সম্পূর্ণ নিখরচায় বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে পারাটা রীতিমত অসম্ভব ব্যাপারই মনে হয়।

স্থানীয় পরিবারগুলো বলছে, এসবই হয়েছে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের নেতৃত্বাধীন আম আদমি পার্টির সরকারের কল্যাণে। যেখানে 20 পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহার করলে 100% ভর্তুকি দেয় দিল্লি সরকার, আবার 201 থেকে শুরু করে 400 মিনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ খরচা করলে 50% ভর্তুকি দেবে সেই দিল্লি সরকার। মানেটা এই দাঁড়ায়, 200% পর্যন্ত বিদ্যুৎ ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ নিখরচায় সুবিধা ভোগ করবেন সাধারণ মানুষ। আর 400 ইউনিট পর্যন্ত খরচা করলে অর্ধেক ব্যয় সরকার বহন করবে।

এই প্রকল্পের মাধ্যমে সবথেকে বেশি উপকৃত যে মধ্যবিত্ত শ্রেণীর হয়েছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। সেই কারণেই বাঙালি থেকে শুরু করে মিডিল ক্লাস পরিবারের আধিক্য যে সমস্ত এলাকায় রয়েছে, সেই সবখান থেকেই আম আদমি পার্টি সরকারের সুনামের বন্যা বয়ে যাচ্ছে। গ্রেটার কৈলাস এলাকার এক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শুধুমাত্র বিদ্যুতের নয়, 100% ব্যয় বহন করে দিল্লি সরকার কাজেই নিখরচায় পাওয়া যায় পানীয় জল।

তাই মানুষ বলছে, যারা আমাদেরকে সুবিধা দেবে, আমরা তো তাদের দিকেই থাকব। এর মাধ্যমেও স্পষ্ট হয় মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে শুরু করে নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো পারিবারিক সাশ্রয়ের দিকে যেইভাবে নজর দিয়েছে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের সরকার, তাতে করে রীতিমতো স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে সেই সমস্ত মানুষরা। তাই বাঙালি এলাকাজুড়ে এখন কেজরিওয়াল সরকারের জয়জয়কার শুরু হয়েছে।

ফেসবুকে আমাদের নতুন ঠিকানা, লেটেস্ট আপডেট পেতে আজই লাইক ও ফলো করুন – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের টেলিগ্রাম গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের সিগন্যাল গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে এমনকি যে কোনো নির্বাচনে যেরকম ব্যানার থেকে শুরু করে পোস্টার, পতাকা থেকে শুরু করে হোর্ডিংয়ের বাড়বাড়ন্ত লক্ষ করা যায়, দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনে সেই প্রচারের’ বাহুল্য মোটেই নেই বলা চলে‌। দিল্লির সিআর পার্ক এলাকায় দুই নম্বর মার্কেটে ভালো করে নজর দিলেই দেখা যাবে এই ছবি‌‌। সেখানকার বাঙ্গালী ভোটারদের স্পষ্ট মত, দিল্লিতে লোকসভা নির্বাচনে সাতটি আসনের মধ্যে সাতটি আসন ভারতীয় জনতা পার্টি জিতলেও, বিধানসভা নির্বাচনের ক্ষেত্রে কিন্তু আম আদমি পার্টির দিকেই পাল্লা ভারী।

কিন্তু, লোকসভার মাত্র ৬ মাসের মধ্যেই কিভাবে বদলে যাচ্ছে ছবিটা? বাঙালি মহল্লার উত্তর, বিধানসভা নির্বাচন এবং লোকসভা নির্বাচনের মধ্যে বিস্তর ফারাক রয়েছে। লোকসভা নির্বাচন মূলত সমগ্র দেশের পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে। যেখানে বিধানসভা নির্বাচনের ক্ষেত্রে স্থানীয় ইস্যুটি প্রাধান্য পায়। তবে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের নামে শুধু যে সুনামের বন্যা বয়ে যাচ্ছে, তাই নয়। ভাঙাচোরা রাস্তা থেকে শুরু করে একাধিক বিষয়ে সরকারের নামে সাধারণ মানুষের অভিযোগ রয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই এলাকায় কংগ্রেস নামকাওয়াস্তে প্রার্থী দিলেও প্রতিদ্বন্দীতা ভারতীয় জনতা পার্টি এবং আম আদমি পার্টির মধ্যেই, সেই বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। 2015 সালের বিধানসভা নির্বাচনে দেখা গিয়েছিল ভারতীয় জনতা পার্টির বিরুদ্ধে দিল্লির কালকাজি এলাকায় অবতার সিংকে প্রার্থী করেছে। তাতে জয়লাভে সক্ষম হয়েছিলেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল। শুধু তাই নয়, তার প্রাপ্ত ভোটের শতাংশ 52 শতাংশের কাছাকাছি ছিল।

কাজেই এই কথা বলার অপেক্ষা রাখে না, 2014 সালের লোকসভা নির্বাচনে দিল্লি থেকে এগিয়ে থাকলেও, বিধানসভা নির্বাচনে কিন্তু মুখ থুবড়ে পড়তে হয় ভারতীয় জনতা পার্টিকে। এবারও কি সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটতে চলেছে! বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের সমীক্ষা কিন্তু সেই দিকে ইঙ্গিত করছে। তরুণ তুর্কি বিভিন্ন প্রার্থীদের সামনের সারিতে এনে এবারের বাজিমাত করতে চায় আম আদমি পার্টি।

গতবার 52 শতাংশ ভোটে অবতার সিং জয়লাভ করলেও, এবার প্রার্থী বদল করেছে আপ। ওই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন অতসী। আবার কালকাজী এলাকায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ধরমবির সিং। গ্রেটার কৈলাস এলাকায় কিন্তু প্রার্থী পদে কোনো রকম বদল করেনি আম আদমি পার্টি। সেই এলাকায় সৌরভ ভারতওয়াজকেই ফের প্রার্থী করেছে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের দল।

মনে করা হচ্ছে, রীতিমত হিসেব কষে এবং নিজেদের উন্নয়নকে পাথেয় করে নির্বাচনী বৈতরণী পার করতে রীতিমত মরিয়া হয়ে পড়েছে আম আদমি পার্টি। সেক্ষেত্রে বিগত 2019 সালের লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল এবং ভারতীয় জনতা পার্টির প্রাপ্ত ভোটের পরিসংখ্যান শেষবেলায় অরবিন্দ কেজরিওয়ালের হাত থেকে দিল্লির বাজি নিজের হাতে নিয়ে আসতে পারে কিনা, সেদিকেই লক্ষ্য থাকবে সকলের।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!