এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > দার্জিলিং পৌরসভা নিয়ে বড়সড় নির্দেশ হাইকোর্টের, জেনে নিন!

দার্জিলিং পৌরসভা নিয়ে বড়সড় নির্দেশ হাইকোর্টের, জেনে নিন!



রাজ্যের মেয়াদউত্তীর্ণ পৌরসভার নির্বাচন নিয়ে যখন নানা মহলে নানা গুঞ্জন চলছে, ঠিক তখনই দার্জিলিং পৌরসভা নিয়ে সামনে এল নয়া তত্ত্ব। বস্তুত, দার্জিলিং পৌরসভায় প্রশাসক বসার নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করেছিল 15 জন কাউন্সিলার। যার পরিপ্রেক্ষিতে দায়ের হয়েছিল রিট পিটিশন। আর এবার তার শুনানি দিন ধার্য করে দার্জিলিং পৌরসভার নির্বাচন না করার নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্টের জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চ। যা নিয়ে এখন চরম চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, গত 2017 সালের মে মাসে 32 আসনবিশিষ্ট দার্জিলিং পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে 31 টি আসনে জয়লাভ করে তৎকালীন বিমল গুরুংয়ের নেতৃত্বাধীন গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা। দার্জিলিং পৌরসভার চেয়ারম্যান হন ডিকে প্রধান। কিন্তু এর কিছুদিন যেতে না যেতেই ফের দার্জিলিঙ অশান্তির আগুনে পুড়তে থাকে। লাগাতার বনধ এবং অশান্তিতে গ্রেফতার হতে হয় সেই দার্জিলিং পৌরসভার চেয়ারম্যান ডিকে প্রধানকে।

পরবর্তীতে বিমল গুরুংকে কার্যত অস্বস্তিতে ফেলে তার অনুগামী বলে পরিচিত বিনয় তামাং এবং অনীত থাপারা রাজ্য সরকারের সঙ্গে হাত মিলিয়ে পাহাড়ে শান্তি স্থাপনে উদ্যোগী হন। এরপর 2018 সালের জানুয়ারি মাসে দার্জিলিং পৌরসভার চেয়ারম্যান পদে বসেন সেই বিনয় তামাংয়ের অনুগামী বলে পরিচিত প্রতিভা রাই। এত পর্যন্ত সব ঠিকঠাক থাকলেও গত 2019 এর লোকসভা নির্বাচন থেকে পরিস্থিতির বদল করতে শুরু করে।

যেখানে দার্জিলিং লোকসভা কেন্দ্র থেকে বিজেপি জয়লাভ করার পরেই দার্জিলিং পৌরসভা দখলে আনতে উদ্যোগী হয় তারা। ঠান্ডা লড়াই শুরু হয় গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা এবং ভারতীয় জনতা পার্টির মধ্যে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে, বিনয় তামাংয়ের গোষ্ঠীরই 17 জন কাউন্সিলর সেখানকার চেয়ারম্যান প্রতিভা রাইয়ের বিরুদ্ধে অনাস্থা এনে ভারতীয় জনতা পার্টিতে যোগ দেন।

ফেসবুকে আমাদের নতুন ঠিকানা, লেটেস্ট আপডেট পেতে আজই লাইক ও ফলো করুন – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের টেলিগ্রাম গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের সিগন্যাল গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

এদিকে পরিস্থিতি হাতের বাইরে বেরিয়ে যাওয়ায় গত 2019 সালের 18 জুন এই দার্জিলিং পৌরসভার বোর্ড ভেঙে দিয়ে সেখানে প্রশাসক বসিয়ে দেয় রাজ্য সরকার। আর এরপরই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা না 17 জন কাউন্সিলরের মধ্যে দুজন কাউন্সিলার গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার থাকলেও, বাকি 15 কাউন্সিলর রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সরব হন। জানা যায়, সেই সময় এই 15 জন কাউন্সিলর দার্জিলিং পৌরসভায় প্রশাসক বসানোর সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দাখিল করেন।

এদিকে রাজ্য সরকার এখানে নির্বাচন করাতে পারে, এই আশঙ্কায় দ্রুত যাতে সেই শুনানি সমাপ্ত করা হয়, তার জন্য আর্জি জানায় আবেদনকারীরা। অবশেষে এবার সেই আবেদনের ভিত্তিতে দার্জিলিং পৌরসভা নিয়ে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্টের জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চ। সূত্রের খবর, আবেদনকারীদের শুনানির পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি অমৃতা সিনহা নির্দেশ দিয়েছেন যে, আগামী 30 এপ্রিল পর্যন্ত দার্জিলিং পৌরসভার নির্বাচন করানো যাবে না। অন্যদিকে এই ব্যাপারে আগামী 24 এপ্রিল রিট পিটিশনের শুনানি হবে বলেই জানানো হয়েছে বিচারপতির তরফে। আর হাইকোর্টের জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চের বিচারপতি দার্জিলিং পৌরসভা নির্দেশ দেওয়ায় রাজ্য সরকার যে অস্বস্তিতে পড়ল এবং রিট পিটিশনের জন্য আবেদন করা কাউন্সিলররা যে অনেকটা স্বস্তিতে পড়লেন, সেই ব্যাপারে নিশ্চিত ওয়াকিবহাল মহল।

এদিন এই প্রসঙ্গে 15 জন আবেদনকারী কাউন্সিলারের আইনজীবী আনন্দ ভান্ডারী বলেন, “আমাদের আবেদন গ্রাহ্য হয়েছে। এই প্রসঙ্গে হলফনামা জমা দিতে বলেছে আদালত। ইতিমধ্যে কয়েকজন কাউন্সিলার যারা রি পিটিশনের সঙ্গে ছিল না, তারাও পার্টি হতে চেয়ে আবেদন করেছে। আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করেছে। আমরা দার্জিলিং পৌরসভার নির্বাচন যাতে এখনই না হয়, তার অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ চেয়েছিলাম। এখনও এই পৌরসভার আড়াই বছর মেয়াদ বাকি রয়েছে। আদালত আপাতত 30 এপ্রিল পর্যন্ত স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছে‌। আশা করছি, তার মধ্যেই আমাদের আবেদনের শুনানি সম্পন্ন হবে।”

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই রাজ্যের মেয়াদউত্তীর্ণ পৌরসভাগুলোর নির্বাচন করতে উদ্যোগী হয়েছে। তাই এই পরিস্থিতিতে দার্জিলিং পৌরসভার মেয়াদ শেষের আগেই যাতে সেখানে নির্বাচন না করানো হয়, তার জন্যই দ্রুত শুনানির আর্জি জানানো হয়েছিল। আর সেই শুনানির রায় না বেরোলেও নির্বাচন যে করা যাবে না, তার ব্যাপারে একপ্রকার স্পষ্ট জানিয়ে দিল হাইকোর্ট। যার ফলে রাজ্য সরকারের হাতে দার্জিলিং পৌরসভা নিয়ে বেড়ি পড়ে গেল বলেই মত বিশ্লেষকদের। এখন গোটা পরিস্থিতি কোনদিকে গড়ায়, পরবর্তীতে এই দার্জিলিং পৌরসভার নির্বাচন নিয়ে জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চের বিচারপতিরা কি রায় দেন, সেদিকেই নজর থাকবে সকলের।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!