এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > কলকাতা হাইকোর্টে ডিএ মামলার শুনানি – কি হল আজকে? জেনে নিন বিস্তারিত

কলকাতা হাইকোর্টে ডিএ মামলার শুনানি – কি হল আজকে? জেনে নিন বিস্তারিত



বকেয়া ডিএ ও কেন্দ্রীয়হারে বেতনের দাবিতে করা রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের মামলায় গত ১০ ই জুলাই রাজ্যের হয়ে নিজের সওয়াল শেষ করেন রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত। সেখানে তিনি স্পষ্ট জানান যে, ১৯৫৪ সালের রায়ে লেখা রয়েছে – কেন্দ্রীয় হারে ডিএ দিতে বাধ্য নয় রাজ্য। আজ তার পরিপ্রেক্ষিতে নিজেদের বক্তব্য জানানোর কথা ছিল মামলাকারীদের পক্ষের আইনজীবী সর্দার আমজাদ আলি ও বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্যের।

এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

আজকের শুনানির শুরুতেই রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত বিভিন্ন সময় বিভিন্ন আদালতে ডিএ সংক্রান্ত বিভিন্ন মামলার রায় আদালতের হাতে তুলে দেন। এরপরে বলতে উঠে বিকাশবাবু জানান, রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেলের ‘সাবমিসন’ এককথায় ‘ডেঞ্জারাস সাবমিসন’। কেন তা ‘ডেঞ্জারাস’, এরপরে ব্যাখ্যা করে তিনি আদালতকে বলেন।

বিকাশবাবু জানান, রাজ্য সরকার নিজে রাজ্য সরকারি কর্মীদের বেতন কাঠামো কি হওয়া উচিত তা নিয়ে একটি ‘এক্সপার্ট কমিটি’ তৈরী করে। সেই কমিটি যা যা সুপারিশ করেছিল তা নিয়ে মন্ত্রীসভার বৈঠক হয় এবং মন্ত্রীসভার বৈঠকে সেই সুপারিশ পাশ হয়ে তা যায় রাজ্যপালের কাছে, রাজ্যপাল তাতে সই করেন। এরপর তা সংবিধানের ৩০৯ নম্বর ধারা অনুযায়ী গেজেট নোটিফিকেশন হয়ে বেরোয় – সেখানে অন্যান্য সুপারিশের সঙ্গে স্পষ্ট জানানো আছে বছরে দুবার করে ডিএ বাড়ার কথা এবং তা সিপিআই রেট মেনে। তাহলে রাজ্য সরকার কিভাবে তারপরে বলে ডিএর উপর রাজ্য সরকারি কর্মীদের কোনো অধিকার নেই?

বিকাশবাবু আরো জানান, ডিএর রেট কি হবে তা নিয়ে রাজ্যের নির্দিষ্ট কোনো নিয়ম নেই। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরেই কেন্দ্রীয়হারে (যা সিপিআই রেট অনুযায়ী ঠিক হয়) দিয়ে আসা হচ্ছে। বিভিন্ন রাজ্য বিভিন্ন হারে ডিএ দিয়ে থাকে, এমনকি কোনো কোনো রাজ্য কেন্দ্রীয়হারের থেকে বেশি হারেও তা দিয়ে থাকে। কিন্তু যেহেতু আমাদের রাজ্যে এই নিয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট নিয়ম নেই এবং দীর্ঘদিন ধরেই কেন্দ্রীয়হারে দিয়ে আসা হচ্ছে, সুতরাং তাই হওয়া উচিত। কেননা রোপা আইন অনুযায়ী ২০০৭-০৮-০৯ সালে কি হারে দেওয়া হবে স্পষ্ট জানানো আছে এবং শেষে লেখা আছে ‘সো অন’, অর্থাৎ সেইভাবেই তা আগামী দিনেও দেওয়া হবে। তাই এতদিন যখন সিপিআই রেট অনুযায়ী দেয় হয়েছে – সেইভাবেই তো বর্তমানেও তা সরকারি কর্মীদের পাওয়া উচিত।

বিকাশবাবুর সওয়ালের পরেই আজ সময়াভাবে আর শুনানি চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয় নি আদালতের। ফলে মামলাকরীদের পক্ষের অপর আইনজীবী সর্দার আমজাদ আলি নিজের বক্তব্য পেশ করার সুযোগ পান নি। বিচারপতিরা আগামী বৃহস্পতিবার আবার এই মামলার শুনানির দিন ধার্য্য করেছেন এবং আমজাদ সাহেবের বক্তব্যের পরেই এই মামলার শুনানি শেষ করবেন বলে জানিয়েছেন।

এই প্রসঙ্গে, মামলাকারীদের অন্যতম তথা সরকারি কর্মচারী সংগঠন কনফেডারেশনের অন্যতম শীর্ষনেতা সুবীর সাহার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেলের শেষ দুদিনের সওয়ালের পরিপ্রেক্ষিতে আজ আমাদের দুই আইনজীবী সর্দার আমজাদ আলি ও বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্যের পাল্টা সওয়াল করার কথা থাকলেও আদালতের সময়াভাবে আমজাদ সাহেবের বক্তব্য রাখা হয় নি। আদালত আগামী ১৯ তারিখ তা শুনবেন এবং সেদিনই এই মামলার শুনানি শেষ হবে বলে আশা করা যায়। রাজ্য সরকারের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে বিকাশবাবু যুক্তি দিয়ে জানিয়েছেন যে রাজ্য সরকারই স্বীকার করে নিয়েছে ডিএ সরকারি কর্মচারীদের অধিকারের মধ্যে পরে। সুতরাং, আশা করা যায় আদালত সেই মত সরকারি কর্মচারীদের পক্ষে মানবিক রায়ই দেবেন।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!