এখন পড়ছেন
হোম > জাতীয় > উলটপুরাণ বাংলায়! হেভিওয়েট বিজেপি সাংসদের বিরুদ্ধে কাটমানির অভিযোগ! উত্তাল সোশ্যাল মিডিয়া

উলটপুরাণ বাংলায়! হেভিওয়েট বিজেপি সাংসদের বিরুদ্ধে কাটমানির অভিযোগ! উত্তাল সোশ্যাল মিডিয়া



লোকসভা নির্বাচনে এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় 42 এ 42 এর ডাক দিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর সেই স্লোগান পূর্ণ হয়নি। উল্টে বিজেপি বাংলা থেকে 18 টি আসন নিজেদের দখলে নিয়ে তৃণমূলের ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলতে শুরু করেছে। আর দলের এই খারাপ ফলাফলের পরই ফলাফল পর্যালোচনা বৈঠকে কি কারণে এই খারাপ ফলাফল হল, তা নিয়ে বিশ্লেষণ করেছে ঘাসফুল শিবির।

যেখানে দলের একশ্রেণীর দুর্নীতিই প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। আর দলের অন্দরে দুর্নীতি যে জাঁকিয়ে বসেছে, তা বুঝতে পেরেই ভোটের খারাপ ফলাফলের পর কেউ ‘কাটমানি’ খেলে সেই টাকা তাঁকেই ফেরত দিতে হবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন তৃণমূল নেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

আর এরপরই দিকে দিকে তৃণমূলের ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’ নেতাদের বাড়ি ঘেরাও করে টাকা ফেরতের দাবিতে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন সাধারণ মানুষ। আর এই ঘটনায় ক্রমশ অস্বস্তি বাড়তে শুরু করে রাজ্যের শাসকদলের। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে, কাটমানি খাওয়ার অভিযোগে শাসকদলের প্রধান তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সরব হতে দেখা যায় বঙ্গ বিজেপির নেতাদের।

আমাদের নতুন ফেসবুক পেজ (Bloggers Park) লাইক ও ফলো করুন – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের টেলিগ্রাম গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের সিগন্যাল গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

যেখানে বিজেপির পক্ষ থেকে দাবি জানানো হয় যে, কিছুদিন আগেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন 25 শতাংশ কর্মীরা খাক, আর 75 শতাংশ দলকে দিক। তাহলে দলের সর্বোচ্চ নেত্রী তো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাহলে তাঁকেই এই কাটমানি খাওয়ার হিসেবটা বুঝিয়ে দিতে হবে। আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে যখন উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি, ঠিক তখনই এবার আসানসোলের বিজেপি সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়র বিরুদ্ধে কাটমানি খাওয়ার অভিযোগ তোলা হল।

সূত্রের খবর, সোশ্যাল মিডিয়ায় বাবুল সুপ্রিয়র সাংসদ তহবিলের কোটায় তৈরি একটি যাত্রী প্রতীক্ষালয়ের ছবি তুলে ধরে সেখানে বিজেপি সাংসদের বিরুদ্ধে কাটমানি খাওয়ার অভিযোগ তোলা হয়েছে। যেখানে সোশ্যাল-মিডিয়ায়-ভাইরাল একটি ছবিতে দেখা যাচ্ছে একটি যাত্রী প্রতীক্ষালয় রয়েছে। যার ফলকে আসানসোলের বিজেপি সাংসদ বাবুল সুপ্রিয়র সাংসদ তহবিলের কোটায় তৈরি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। যেখানে খরচ দেখানো হয়েছে 7,74,419.88 লক্ষ টাকা। কিন্তু বাইরে থেকে দেখলে মনে হবে সেটা অতি সাধারন মানের।

ফলে এত প্রভূত অংকের টাকা দিয়ে এত নিম্নমানের যাত্রী প্রতীক্ষালয় কি করে তৈরি হল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন একাংশ। রীতিমত ভাইরাল হয়ে যাওয়া এই ছবিটি সোশ্যাল সাইটে তুলে ধরে শেয়ার করা হচ্ছে তৃণমূলের তরফ থেকে। অনেক পোস্টে আসানসোলের বিজেপি সাংসদকে কটাক্ষ করে লিখেছেন, “বলছি বাবুলদা, কাটমানি কি একা খেয়েছেন, নাকি দিলুদা আর মুকুলদাকে কিছু দিয়েছেন!” আর এই ঘটনাতেই এবার তৈরি হয়েছে বিতর্ক।

বিজেপির দাবি, তৃণমূলের পক্ষ থেকে পরিকল্পিতভাবে তাঁদের বিরুদ্ধে চরিত্রহনন করা হচ্ছে। ঘাসফুল শিবিরের বক্তব্য, এই ঘটনার সঙ্গে তাঁদের কোনো যোগ নেই। আসলে বিজেপি আদ্যপ্রান্ত একটি দুর্নীতিগ্রস্ত দল। সাধারণ মানুষই এবার বিজেপির ‘মুখোশ’ খুলে দিতে শুরু করেছে।

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের অনেকে বলছেন, কাটমানি নিয়ে যেভাবে বঙ্গ রাজনীতি সরগরম হয়ে উঠেছে, যেভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হুঁশিয়ারিতে দিকে দিকে তৃণমূলের ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’ নেতাদের ঘিরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করছে সাধারণ মানুষ, তাতে এতদিন বাংলা প্রবলভাবে উত্তপ্ত ছিল অভিযোগের সব তীর তৃণমূলের দিকে রেখে।

আর এবার আসানসোলের বিজেপি সাংসদের বিরুদ্ধে নিম্নমানের যাত্রী প্রতীক্ষালয়ের অভিযোগ তুলে বিপুল টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে গেরুয়া শিবিরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে ময়দানে নামল তৃনমূল। যা রাজ্য রাজনীতিতে শাসক বনাম বিরোধীর কাটমানি ইস্যুতে তরজাকে আরও দ্বিগুনভাবে বাড়িয়ে দিল বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞরা।

এই প্রসঙ্গে প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার তরফে বাবুলবাবুর সাথে বারবার যোগাযোগ করার চেষ্টা হলেও তিনি ফোন ধরেন নি বা মেসেজের কোনো জবাব দেন নি। ফলে তাঁর তরফে এই নিয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে, ‘কাটমানি’ ইস্যুতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়র বিরুদ্ধে তৃণমূল কংগ্রেসে কর্মী-সমর্থকদের এই পোস্ট সোশ্যাল মিডিয়ায় যে আরও তীব্র হবে তার ইঙ্গিত তৃণমূলের পেজ বা গ্রূপ গুলিতে উঁকি মারলেই স্পষ্ট হচ্ছে।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!