এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > সিপিএম বাবার হাতে প্রহৃত হয়ে তৃণমূলী ছেলে ভর্তি হলেন হাসপাতালে

সিপিএম বাবার হাতে প্রহৃত হয়ে তৃণমূলী ছেলে ভর্তি হলেন হাসপাতালে



রঙ্গে ভরা বঙ্গ রাজনীতি এবারের পঞ্চায়েত নির্বাচনে কম উত্তেজনার মশলা পায় নি। কিন্তু ইসলামপুরের চোপড়া ব্লকের দাসপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের মত ঘটনা খুব কম জায়গাতেই ঘটেছে। সেখানে এবারের পঞ্চায়েত নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটে প্রার্থী হন ছেলে জাফর আলি আর তাঁর বিরুদ্ধে সিপিএমের টিকিটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন বাবা মফিজুল ইসলাম। যথারীতি, বাংলার অন্যান্য জায়গার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই তৃণমূলী ছেলের কাছে পরাভূত হন সিপিএম বাবা। পঞ্চায়েত নির্বাচন মিটে গেলেও রাজনৈতিক লড়াই যে ফুরিয়ে যায়নি তা বাবার প্রমাণিত হল – এবার বাবার বেদম প্রহারে গুরুতর জখম হয়ে ইসলামপুর মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি হতে হল ছেলেকে। ফলে রীতিমত চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়।

তবে মফিজুল ইসলামের বক্তব্য সম্পূর্ণ অন্য। তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, স্থানীয় স্কুলে ডিএলএড পরীক্ষার কেন্দ্র ছিল, তিনি খবর পান স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগসাজশে কিছু কর্মী পরীক্ষার্থীদের অনৈতিক সুবিধা পাইয়ে দিতে জন প্রতি দেড় থেকে দুহাজার টাকা করে নিয়েছে। তাঁর পুত্র যেহেতু ওই স্কুলের পরিচালন কমিটির সঙ্গে যুক্ত, তাই তিনি এই অনৈতিক কাজের প্রতিবাদ করেন। কিন্তু এই নিয়ে ছেলের সঙ্গে প্রথমে বচসা ও পরে ধস্তাধস্তি হয়, ঘটনাটিকে অহেতুক রাজনৈতিকভাবে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে, জাফর আলির স্ত্রী পুলিশকে জানিয়েছেন, এই ঘটনার পিছনে তাঁর শ্বশুরমশায়ের হাত নেই। সিপিএমের স্থানীয় কর্মীরা তাঁর স্বামীকে সংশ্লিষ্ট স্কুলের মাঠে ডেকে নিয়ে গিয়ে বেদম প্রহার করে। বন্দুকের বাঁট দিয়ে তাঁর স্বামীর মাথায় ও বুকে আঘাত করে পালায় ওই সিপিএম কর্মীরা। যদিও স্থানীয় বাসিন্দা ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতাদের মত, জাফর আলির জেতা আসন এতদিন সিপিএমের দখলে ছিল। স্কুল কমিটিতেও জাফর আলির বাবা মফিজুল ইসলাম ছিলেন। দু জায়গাতেই পিতার স্থান নিয়েছেন পুত্র, কিন্তু তা তৃণমূলের হয়ে। ভোটপ্রচারের সময় থেকেই বাবা-ছেলের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি হয়েছে, নির্বাচনের পর তো স্কুলের আভ্যন্তরীন বিষয় নিয়ে ঝামেলা লেগেই আছে – সুতরাং এখন যতই ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হোক রাজনৈতিক বিভেদ থেকেই এই লড়াই বলেই অভিমত পোষন করছেন তাঁরা।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!