এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > টিকিট পাচ্ছেন না বহু কাউন্সিলর, পিকের রিপোর্টে অস্বস্তিতে তৃণমূল! বাড়ছে অসন্তোষ

টিকিট পাচ্ছেন না বহু কাউন্সিলর, পিকের রিপোর্টে অস্বস্তিতে তৃণমূল! বাড়ছে অসন্তোষ



গত লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূলের কাউন্সিলররা অনেক ওয়ার্ডেই দলের সাংসদ পদপ্রার্থীকে জয়লাভ করাতে পারেননি। যার কারণে অনেক কেন্দ্রেই হারতে হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসকে। আর লোকসভার মত ফলাফল যাতে পৌরসভায় না হয়, তার জন্য ভালো মুখকে প্রার্থী করার দিকে ইতিমধ্যেই নজর দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের রননীতিকার প্রশান্ত কিশোরের টিম বিভিন্ন পৌরসভায় ঘুরে সাধারণ মানুষের জনাদেশ নিতে শুরু করেছে। কাকে প্রার্থী করলে ভালো হয়, অতীতে কাউন্সিলারদের কাজকর্ম ওয়ার্ডে কেমন ছিল, তাদের সাংগঠনিক দক্ষতা কেমন, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই সমীক্ষা অনেক জায়গাতেই সম্পূর্ণ হয়েছে।

জানা গেছে, প্রশান্ত কিশোরের সংস্থা আইপ্যাক যে রিপোর্ট ইতিমধ্যেই তৃণমূল কংগ্রেসের কাছে জমা পড়েছে, তাতে সরাসরি তৃণমূলের টিকিটে জেতা 114 জন কাউন্সিলরের সম্পর্কে জনমত যাচাই করা হয়েছে। কলকাতা পৌরসভার সিংহভাগ ওয়ার্ড তৃণমূল কংগ্রেসের দখলে থাকলেও, বিগত লোকসভা নির্বাচনে এখানকার 48 টি ওয়ার্ডেই জয়লাভ করতে পারেনি তৃণমূল কংগ্রেস।

আর যার ফলে এখন প্রশান্ত কিশোরের সংস্থার কাছে বড়সড় প্রশ্ন এসে দাঁড়িয়েছে যে, তাহলে এই সমস্ত কাউন্সিলররা এতদিন ধরে কি করলেন! ইতিমধ্যেই সম্পূর্ণ পেশাদারী কৌশলে বুথভিত্তিক সমীক্ষা শুরু করেছে সেই টিম। যেখানে সমীক্ষার পর্যবেক্ষণে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠে আসতে দেখা গেছে। যেখানে অনেকে বলছেন, দল নয়, ব্যক্তি হিসেবে নিজেকে তুলে ধরতেই এই সমস্ত কাউন্সিলররা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে চেষ্টা করেছেন। যার ফলে দলীয় কাজকর্ম ঠিকঠাক মত না করায়, সেই সমস্ত ওয়ার্ডে হেরে গিয়েছে তৃণমূল।


দেশে যে কোনো দিন ব্যান হয়ে যেতে পারে হোয়াটস্যাপ। তাই এখন থেকে আমরা শুধুমাত্র টেলিগ্রাম ও সিগন্যাল অ্যাপে। প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার নিউজ নিয়মিতভাবে পেতে যোগ দিন –

টেলিগ্রাম গ্রূপটাচ করুন এখানে

সিগন্যাল গ্রূপটাচ করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

শুধু তাই নয়, কাউন্সিলরদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক বৃদ্ধি, জনসাধারণের সঙ্গে ঠিকমত না মেশার কারনও উঠে এসেছে প্রশান্ত কিশোরের টিমের সমীক্ষায়। তবে লোকসভা নির্বাচনে কাউন্সিলরদের খারাপ ব্যবহার এবং তাদের দুর্নীতির কারণে সাধারণ মানুষ ক্ষোভে সেই সমস্ত ওয়ার্ডে তৃণমূলের পক্ষে ভোট না দিলেও, তার পরবর্তীকালে তৃণমূলের ভোট মেরামতি করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছিল পদক্ষেপ।

যেখানে দিদিকে বলো কর্মসূচি চালু করে বিভিন্ন ওয়ার্ডের কাউন্সিলরকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। আর এখানেই সমীক্ষক সংস্থার অভিযোগ, সেই “দিদিকে বলো” কর্মসূচিও ঠিকমত পালন করেননি অনেক ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর। ফলে একবার সুযোগ দিয়েও, কাউন্সিলররা ঠিকমত দলীয় কর্মসূচি না করায় এবার সেই সমস্ত কাউন্সিলরদের টিকিট না পাওয়ার ব্যাপারে তৃণমূলের কাছে রিপোর্ট দিতে পারে প্রশান্ত কিশোরের টিম বলে মনে করছে একাংশ। আর এই রিপোর্টের ফলেই সেই সমস্ত কাউন্সিলর এবার টিকিট নাও পেতে পারেন বলে দাবি বিশেষজ্ঞদের।

তবে প্রশান্ত কিশোরের তরফে সমীক্ষা করে কাউন্সিলরদের টিকিট না দেওয়ার ব্যাপারে, দলের কাছে জানালেও, শেষ পর্যন্ত তৃণমূল নেতৃত্ব কি সিদ্ধান্ত নেয়, সেদিকে নজর রয়েছে সকলের। সব মিলিয়ে বারবার সতর্ক করা সত্ত্বেও যেভাবে তৃণমূলের কলকাতা পৌরসভার কাউন্সিলররা দলীয় কর্মসূচি থেকে নিষ্ক্রিয় হয়ে যাচ্ছেন, তা নিয়ে দলের অন্দরে উঠতে শুরু করেছে প্রশ্ন। এখন শেষ পর্যন্ত সেই সমস্ত নিষ্ক্রিয় হয়ে যাওয়া কাউন্সিলর এবং দুর্নীতির সাথে যুক্ত থাকা কাউন্সিলরদের টিকিট দেওয়া নিয়ে তৃণমূল নেতৃত্ব কড়া সিদ্ধান্ত নেয় কিনা, সেদিকেই নজর থাকবে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!