এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > করোনা নিয়েও তৃণমূল-বিজেপি রাজনীতি, জোর তরজা!

করোনা নিয়েও তৃণমূল-বিজেপি রাজনীতি, জোর তরজা!



করোনা ভাইরাসকে কিভাবে প্রতিহত করা যাবে, তা নিয়ে বর্তমানে চিন্তায় রয়েছে গোটা ভারতবর্ষ। প্রতিটি রাজ্য সরকার এবং কেন্দ্রীয় সরকার এই ভাইরাসকে মোকাবিলা করার জন্য নানা পদ্ধতি অবলম্বন করছে। এক জায়গায় জমায়েত না হওয়া, একে অপরের সঙ্গে হাত না মেলানো, দূরত্ব বজায় রেখে কথা বলা, ইত্যাদি পরামর্শ বারবার দেওয়া হচ্ছে বিশেষজ্ঞদের তরফে। আর এরই মধ্যে চতুর্থ মৃত্যু হয়ে গিয়েছে ভারতবর্ষে।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও ভারতবর্ষের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যে তীব্র রাজনৈতিক দ্বৈরথ থাকলেও, করোনাকে রুখতে তারা সকলেই সচেষ্ট হয়েছেন। অনেকেই ভেবেছিলেন, করোনা নিয়ে দুই সরকার সদর্থক পদক্ষেপ নেবেন। কিন্তু এবার এই মারন ভাইরাসকে কেন্দ্র করেও, রাজনৈতিক তরজায় জড়িয়ে পড়তে দেখা গেল তৃণমূল এবং বিজেপি নেতাদের।

বস্তুত, বৃহস্পতিবার রাত্রি আটটায় জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে আগামী রবিবার সকাল সাতটা থেকে রাত 9 টা পর্যন্ত জনতা কার্ফুর কথা ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। অনেকের মনেই অনুভূত হচ্ছে যে, কোনো বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে এই জনতা কার্ফু করতে চলেছেন নরেন্দ্র মোদী। অর্থাৎ এই কার্ফুর পরে তিনি দেশে লগআউটের ঘোষণা করতে পারেন। তবে সকলেই এটা ভেবে নিশ্চিন্ত যে, যেভাবে রাজ্য সরকার এবং কেন্দ্রীয় সরকার এই করোনাভাইরাসকে প্রতিহত করবার জন্য নানা সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, তাতে শেষপর্যন্ত করোনা ভাইরাস বিদায় হলেই সকলে শান্তি পাবেন।

ফেসবুকে আমাদের নতুন ঠিকানা, লেটেস্ট আপডেট পেতে আজই লাইক ও ফলো করুন – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের টেলিগ্রাম গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের সিগন্যাল গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

সেদিক থেকে এই দুই সরকার যতই কঠোর সিদ্ধান্ত নিক না কেন, তাতে কোনো বিরোধীতা করছে না সাধারণ মানুষ। কিন্তু আশ্চর্য্যজনকভাবে নরেন্দ্র মোদির তরফ থেকে আগামী 22 মার্চ কার্ফু জারী করার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হলেও, তার চরম বিরোধিতা করেছেন রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের হেভিওয়েট মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়।

জানা গেছে, এদিন প্রধানমন্ত্রী জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দিতে গিয়ে জরুরি পরিষেবায় সঙ্গে যুক্ত সমস্ত মানুষ কার্ফুতে অংশ নিতে পারবেন না। তাই তাদের ধন্যবাদ জানাতে বিকেল পাঁচটা থেকে পাঁচটা পাঁচ মিনিট পর্যন্ত বাড়ির বারান্দায় দাঁড়িয়ে সকলকে ঘন্টা এবং থালা বাজানোর নিদান দিয়েছেন। আর এরই চরম বিরোধিতা করেছেন রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়। এদিন তিনি বলেন, “এই ঘন্টা বাজানোর কথা বলে মোদি আসলে হিন্দুত্ববাদের কথাই বলতে চেয়েছেন। মহামারী নিয়ে জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণেও তার আরএসএস, বিজেপি রাজনীতি বেরিয়ে পড়েছে। ভেবেছিলাম দেশের প্রধানমন্ত্রী দিশা দেবেন। কিন্তু দেশের মানুষ সেই দিশা পেল না।”

আর সুব্রত মুখোপাধ্যায় এই মন্তব্য করার পরেই, তার পাল্টা তাকে কটাক্ষ করেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, “সুব্রতদার কথা শুনে বোঝা যাচ্ছে, ওনার বয়স হচ্ছে। এই তো কদিন আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কাঁসর ঘন্টা নিয়ে ক্যা ক্যা করলেন, ওটা কি হিন্দুত্বের ঘন্টা ছিল! দিদিমণি ব্রিগেডে সিপিএমের মৃত্যুঘণ্টা বাজিয়েছিলেন, ওটা কি হিন্দুত্বের ঘন্টা ছিল! আসলে ওরা এখন সব কিছুতেই বিজেপি- আরএসএস দেখতে পান।”

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনা ভাইরাস থেকে মুক্তি পেতে এখন রীতিমত আতংক রয়েছে গোটা ভারতবর্ষ। এই সময় অন্তত রাজনীতিকে নিয়ে আসবেন না রাজনীতিবিদরা, এমনটাই আশায় করেছিলেন সকলে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর যেভাবে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিরোধী দল বিজেপি রাজনৈতিক তরজায় জড়িয়ে পড়লেন, তাতে রীতিমত হতাশ জনতা জনার্দন।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!