এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > জল্পনা বাড়িয়ে ঘুরে দাঁড়াতে আরও কাছাকাছি আসার ইঙ্গিত বাম-কংগ্রেসের

জল্পনা বাড়িয়ে ঘুরে দাঁড়াতে আরও কাছাকাছি আসার ইঙ্গিত বাম-কংগ্রেসের



2016 সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলকে রুখতে জোট বেধেছিল তারা। কিন্তু আলিমুদ্দিন স্ট্রিট ও বিধান ভবনের নেতারা সেই জোট করলেও তা সাফল্য না পাওয়ায় পরবর্তীতে আর হাতে হাত ধরে লড়েনননি কেউই। সদ্যসমাপ্ত লোকসভা নির্বাচনে রাজ্যে তারা জোট করে লড়ার কথা ভাবলেও তা সম্ভব হয়নি।

কিন্তু সাম্প্রতিককালে সেই বাম এবং কংগ্রেস নেতারা ফের কাছাকাছি আসার ব্যাপারে আলোচনা শুরু করেছেন। ইতিমধ্যেই রাজ্যের উদীয়মান বিরোধী শক্তি বিজেপি এবং শাসকদল তৃণমূলের বিরুদ্ধে বাম-কংগ্রেসের যৌথ লড়াই বিধানসভার চৌহদ্দিতে প্রকাশ পাচ্ছে। তবে শুধু বিধানসভার অন্দরমহলেই যে তাদের এই জোট সীমাবদ্ধ করে রাখলে হবে না, তা ভালই বুঝতে পারছেন দুই দলের নেতৃত্বরা। আর তাই তো এবার বিধানসভার বাইরেও ইস্যুভিত্তিক ভাবে শাসকদল তৃণমূল ও বিজেপির বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামতে চাইছে তারা।

সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার রাজ্য বিধানসভা ভবনে বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে তৃণমূল-বিজেপির বিরুদ্ধে বাম এবং কংগ্রেস একসাথে লড়লেই সাফল্য আসবে বলে শোনা গেল সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র এবং কংগ্রেস পরিষদীয় তথা বিরোধী দলনেতা আব্দুল মান্নানের গলা থেকে।

বস্তুত, এই বিধানসভা ভবনের নৌসাদ আলি কক্ষে ২৪ ঘণ্টা আগেই কংগ্রেস পরিষদীয় দলের তরফে আয়োজিত তাঁর সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বাম বিধায়কদের উপস্থিতিতে একই সুরে সওয়াল করে গিয়েছিলেন লোকসভার কংগ্রেস দলনেতা অধীর চৌধুরী। এবার এক মঞ্চে বসে সেই সুরকেই আরও একবার জোরালো করলেন সূর্যবাবু-মান্নানরা।

ফেসবুকে আমাদের নতুন ঠিকানা, লেটেস্ট আপডেট পেতে আজই লাইক ও ফলো করুন – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের টেলিগ্রাম গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের সিগন্যাল গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

সূত্রের খবর, এদিনের এই অনুষ্ঠানের মূল উদ্যোক্তা ছিল বাম পরিষদীয় দল। যেখানে উপস্থিত ছিলেন বিধানসভার কংগ্রেসের বিরোধী দলনেতা আব্দুল মান্নান সহ কংগ্রেসের অন্যান্য বিধায়করা। কিন্তু কি ব্যাপারে তাদের এই অনুষ্ঠান! প্রসঙ্গত, গত 2016 সালে দ্বিতীয়বারের জন্য ক্ষমতায় বসার পর গত তিন বছরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে রাজ্যের নানা সমসাময়িক বিষয়ে পদক্ষেপ তথা প্রতিকারের আশায় বহু চিঠি লিখেছেন বাম পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তী।

অভিযোগ, এই চিঠির কোনওটিরই জবাব না পাওয়ায় এবার সুজনবাবু তাঁর লেখা চিঠিগুলির মধ্যে বাছাই করা ৩০টি’র একটি সঙ্কলন পুস্তিকা আকারে তৈরি করেছেন। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, সিপিএমের এই কর্মসূচির মধ্যে একটা অনন্য রাজনৈতিক কৌশল রয়েছে।

অনেকে বলছেন, বিগত লোকসভা ভোটে ধাক্কা খাওয়ার পর জনসংযোগ বাড়ানোর লক্ষ্যে চালু হয়েছে তৃণমূলের ‘দিদিকে বলো’। কিন্তু এই কর্মসূচিকে কটাক্ষ করতে জবাব না পাওয়া সুজন বাবু চিঠির সঙ্কলনের নাম দিয়েছেন ‘মুখ্যমন্ত্রীকেই বলছি’। এদিন এই পুস্তিকার আনুষ্ঠানিক প্রকাশ উপলক্ষে বিধানসভা ভবনে হাজির হয়েছিলেন সূর্যকান্ত মিশ্র। তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায়, নরেন চট্টোপাধ্যায়, বিশ্বনাথ চৌধুরীর মতো বামফ্রন্টের শীর্ষস্থানীয় শরিক নেতারাও।

অন্যদিকে বামেদের পক্ষ থেকে এই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল কংগ্রেসের বিরোধী দলনেতা আব্দুল মান্নানকেও। আর এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে বিরোধী দলনেতা তাঁর ভাষণে বলেন, “বিজেপি এবং তৃণমূলের বিরুদ্ধে বাম ও কংগ্রেস ঐক্যবদ্ধ হয়ে সর্বস্তরে মানুষের হয়ে আন্দোলনে নামলে বাংলায় অবশ্যই বিকল্প শক্তি হয়ে ওঠা সম্ভব। ২০১৬ সালে তড়িঘড়ি হলেও আমরা বিধানসভা নির্বাচনে জোট বেঁধে লড়ায় বিজেপির শক্তি কমাতে সক্ষম হয়েছিলাম। কিন্তু তারপর সেই ঐক্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা যায়নি।

গত লোকসভা ভোটেও আমরা নিচুতলার মানুষের চাহিদার মর্যাদা দিতে পারিনি। এই কারণেই সাম্প্রদায়িক শক্তির উত্থান সম্ভব হয়েছে। তবে পরিস্থিতি থেকে শিক্ষা নিয়ে আমরা বিধানসভার ভিতরে বাম ও কংগ্রেস এক হয়ে লড়াই চালাচ্ছি। বিভিন্ন জনস্বার্থবাহী ইস্যুতে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে সরব হচ্ছি। কিন্তু তৃণমূল বা বিজেপির মতো শক্তির মোকাবিলায় এই লড়াইকে বাইরেও ছড়িয়ে দেওয়া দরকার। সেটা সম্ভব হলে আমাদের বিকল্প শক্তি হয়ে ওঠা মোটেও অসম্ভব হবে না।”

এদিকে আব্দুল মান্নানের এহেন বক্তব্যকে কার্যত সমর্থন নিয়ে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র বলেন, “আমরা দলগতভাবে এই কৌশলের পক্ষেই পদক্ষেপ করছি। ইতিমধ্যে ব্যারাকপুরে আমরা দুই পক্ষ এক সঙ্গে মিছিল, মিটিং করেছি। পরিষদীয় দলের পক্ষেও দলমত নির্বিশেষে রাজ্যের নানা প্রান্তে যৌথভাবে আক্রান্তদের পাশে ছুটে যাওয়া হয়েছে। আগামীদিনে এই ধরনের আরও কর্মসূচিতে অংশ নেব আমরা। এই কৌশল আমরা আগেই গ্রহণ করেছিলাম। সেটা হয়তো বিগত নির্বাচনে ফলপ্রসূ হয়নি। কিন্তু মনে রাখতে হবে, কৌশল কখনও পরিত্যক্ত হয় না। তা কখনও সফল, কখনও ব্যর্থ হয়।”

আর এদিনের এই আয়োজিত অনুষ্ঠান থেকে বাম-কংগ্রেস জোটের পথে যে আরও একধাপ এগিয়ে গেল বিধান ভবন এবং আলিমুদ্দিন স্ট্রিটের নেতারা, তা নিঃসন্দেহে বলাই যায়।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!