এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > পুরুলিয়া-ঝাড়গ্রাম-বাঁকুড়া > ছত্রধরকে পদ দিতেই নতুন বানে বিদ্ধ তৃণমূল? বিধানসভার আগে জঙ্গলমহলে উড়তে চলেছে ঘুম?

ছত্রধরকে পদ দিতেই নতুন বানে বিদ্ধ তৃণমূল? বিধানসভার আগে জঙ্গলমহলে উড়তে চলেছে ঘুম?



প্রিয় বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট –একসময় বাম আমলে তার বিরুদ্ধে মাওবাদী কার্যকলাপের অভিযোগ উঠেছিল। যার ফলস্বরূপ দীর্ঘদিন শ্রীঘরে থাকতে হয়েছিল তাকে। সাম্প্রতিককালে তিনি জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পরেই তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই নজর ছিল সকলের। অবশেষে সেই ছত্রধর মাহাতোকে তৃণমূল তাদের রাজ্য সম্পাদকের পদ দিয়েছে। স্বাভাবিক ভাবেই ছত্রধর মাহাতোর মতো ব্যক্তিত্ব যিনি একসময় গোটা জঙ্গলমহলকে হাতের তালুর মতো চিনতেন, সেই জঙ্গলমহল পুনরুদ্ধারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে তার ওপরই ভরসা রাখছেন, তা কার্যত স্পষ্ট হয়ে গেছে সকলের কাছে।

তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছত্রধর মাহাতোকে রাজ্যের অন্যতম দায়িত্ব দিলেও, এবার সেই ছত্রধর মাহাতোর বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ করতে শুরু করেছে বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতা-নেত্রীরা। যার ফলে বিধানসভা নির্বাচনের আগে ছত্রধর মাহাতোকে নিয়ে ফের বিড়ম্বনায় পড়ছে শাসক দল। জানা গেছে, ইতিমধ্যেই এই ব্যাপারে নানা মহলে উঠতে শুরু করেছে সমালোচনার ঝড়। বেলপাহাড়ির এক বাসিন্দা সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, “মাননীয়া, আপনি জঙ্গলমহলের মানুষকে আরও একটা কারন দিলেন, আপনাকে ভোট না দেওয়ার।” অন্যদিকে ঝাড়গ্রামের এক পরিবেশ কর্মী পুরোনো ছবি পোস্ট করে ছত্রধর মাহাতোকে জায়গা দেওয়া নিয়ে সরব হয়েছেন।

 

আমাদের নতুন ফেসবুক পেজ (Bloggers Park) লাইক ও ফলো করুন – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের টেলিগ্রাম গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের সিগন্যাল গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

তিনি লেখেন, “মাওবাদী নেতা ছত্রধর মাহাতো তৃণমূলের রাজ্য কমিটির মেম্বার। বেশ ভালো খবর।” অন্যদিকে ছত্রধর মাহাতোকে কিম জং উনের সাথে তুলনা করেছেন আরও এক ব্যক্তি। স্বাভাবিক ভাবেই গোটা ঘটনায় তৃণমূল এখন যে চরম অস্বস্তিতে পড়েছে, তা নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। ইতিমধ্যেই বিরোধীদের তরফেও এই ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া আসতে শুরু করেছে। এদিন এই প্রসঙ্গে জেলা বিজেপির সভাপতি সুখময় শতপথী বলেন, “ছত্রধরকে জেলাবাসী মাওবাদী হিসেবেই চেনেন। তাকে দলীয় পদ দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মাওবাদী- তৃণমূল আঁতাতকেই মান্যতা দিয়েছেন। সাধারণ মানুষ তাই সমাজমাধ্যমে প্রতিবাদ করছেন।”

তবে সমাজমাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তিত্বরা ছত্রধর মাহাতোর অতীতের ঘটনাকে তুলে ধরে তৃণমূলকে কটাক্ষ করলেও, তাকে গুরুত্ব দিতে নারাজ ছত্রধরবাবু। তিনি বলেন, “আমি চিরকাল সাধারণ মানুষের দাবি নিয়ে আন্দোলন করেছি। 2011 সালে জেল থেকে ভোটে লড়েছি। তৃণমূল নেত্রী দলের পদ দিয়েছেন। আমি তার মর্যাদা রাখব।” রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জঙ্গলমহলের মাটিকে শক্ত করতে ছত্রধর মাহাতোকে গুরুত্ব দিয়েছেন।

কিন্তু তার বিরুদ্ধে যেভাবে নানা সন্ত্রাসের অভিযোগ তুলে সরব হচ্ছে বিরোধী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ, তাতে তৃণমূলের বিড়ম্বনা নতুন করে বাড়তে শুরু করেছে। মানুষের মনে যদি ছত্রধর মাহাতোকে নিয়ে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়, তাহলে সেই ছত্রধর মাহাতোকে নেতা করে আদৌ তৃণমূলের লাভ হবে কিনা, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে বড়সড় প্রশ্ন। এখন গোটা পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, তৃণমূল এই অস্বস্তি ঢাকতে কি পদক্ষেপ গ্রহণ করে, সেদিকেই নজর থাকবে সকলের

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!