এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > মেদিনীপুর > ছত্রধর মাহাতোকে এত দীর্ঘদিন জেলে বাস করতে হল কেন ? প্রশ্ন তুললেন বিজেপি নেতা মুকুল রায়

ছত্রধর মাহাতোকে এত দীর্ঘদিন জেলে বাস করতে হল কেন ? প্রশ্ন তুললেন বিজেপি নেতা মুকুল রায়



দীর্ঘদিন ধরে,প্রায় ১০ বছর হাজতবাস করার পর সম্প্রতি ছত্রধর মাহাতো মুক্তি পেয়েছেন। রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হওয়ার পর চ্যালেঞ্জ করেন ছত্রধর মাহাতো। সেই চ্যালেঞ্জ এর জবাব হিসেবে তাঁর যাবজ্জীবন কারাদন্ড বদলে হয়ে যায় 10 বছরের কারাবাসে। সেই হাজতবাস শেষে এদিন বাইরে আসেন ছত্রধর মাহাতো। একসময় রাজ্যের শাসক দল সিপিএম রীতিমতন নাস্তানাবুদ হয়েছিলেন ছত্রধরের বিভিন্ন কাণ্ডকারখানায়। ছত্রধর মাহাতোর জেল মুক্তির খবরে বিজেপি নেতা মুকুল রায় তীব্র কটাক্ষ করলেন এদিন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে।

জেলে যাবার আগেও ছত্রধর মাহাতো তৃণমূলের হয়ে কাজ করেছেন। দীর্ঘদিন হাজতবাস এর পর লালগড়ে পা দিয়ে তিনি যে তৃণমূলের হয়েই কাজ করবেন তা মেনে নিয়েছেন রাজনৈতিক দলের কর্তাব্যক্তিরা। অন্যদিকে, সেই ইঙ্গিত ছত্রধর মাহাতো নিজেও দিয়েছেন। গতকাল ছত্রধর মাহাতোর মুক্তির সময় তাঁর সাথে ছিলেন লালগড় ব্লক তৃণমূল সভাপতি শ্যামল মাহাতো। এই ঘটনা আরো উসকে দিয়েছে ছত্রধরের তৃণমূলে যোগদানের প্রসঙ্গটি। এ প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে বিজেপি নেতা মুকুল রায় মেদিনীপুরে দাঁড়িয়ে এদিন প্রশ্ন করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে, দীর্ঘ নয় বছর পশ্চিমবঙ্গের বুকে তৃণমূল রাজত্ব করার পরেও ছত্রধর মাহাতো এতদিন কেন জেল হাজত বাস করলেন?

উল্লেখ্য, গত 2019 এর লোকসভা নির্বাচনে জঙ্গলমহলে রীতিমতো ভরাডুবি হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের। বিজেপি লোকসভা নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে জঙ্গলমহলে তাদের একচেটিয়া দাপট দেখায়। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এবার বিধানসভা নির্বাচনের আগে লালগড়ের মাটিতে নিজেদের সাম্রাজ্য পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে তৃণমূল কাজে লাগাতে চলেছে ছত্রধর মাহাতোকে। এ প্রসঙ্গে বিজেপি নেতা মুকুল রায় এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘ছত্রধরকে ব্যবহার করে তৃণমূল ওই এলাকার দখল নিয়েছিল। ছত্রধর এতদিন জেলে কেন থাকল সেটাই তো ওর সহ়কর্মীদের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে প্রশ্ন করা উচিত। রাজনৈতিক স্বার্থে ছত্রধরকে ব্যবহার করা হয়েছিল, জেলে পাঠানো হয়েছিল আবার রাজনৈতিক কারণেই তাঁকে মুক্তি দেওয়া হলো।’


দেশে যে কোনো দিন ব্যান হয়ে যেতে পারে হোয়াটস্যাপ। তাই এখন থেকে আমরা শুধুমাত্র টেলিগ্রাম ও সিগন্যাল অ্যাপে। প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার নিউজ নিয়মিতভাবে পেতে যোগ দিন –

টেলিগ্রাম গ্রূপটাচ করুন এখানে

সিগন্যাল গ্রূপটাচ করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

ছত্রধর মাহাতোর মুক্তির ঘটনায় এদিন বিজেপি নেতা মুকুল রায় উল্লেখযোগ্যভাবে পুরনো দিনের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘সেই সময়ের লালগড়ের ঘটনা আমাদের চোখের সামনেই রয়েছে। ছত্রধরের দাদা শশধরের মৃত্যু জানি, সুচিত্র মাহাতোর ঘটনাও জানি। ছত্রধর মাহাতোর সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মেদিনীপুর সার্কিট হাউসে যে বৈঠক হয়েছিল, সেটাও আমি জানি। ছত্রধর এতদিন কেন জেলে রইল সেই প্রশ্ন উত্তর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই দিতে হবে। ছত্রধরের কাঁধে পা দিয়েই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জঙ্গলমহলে পা দিয়েছেন।’

অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পরেই মুকুল রায় সেই সময় জঙ্গলমহলে পৌঁছে ছত্রধর মাহাতোর বাড়ি গিয়েছিলেন। এ প্রসঙ্গে অবশ্য পরবর্তীতে মুকুল রায় বিজেপি সংক্রান্ত কোন যোগ থাকার কথা অস্বীকার করেছিলেন। বরং তিনি বলেছিলেন, ছত্রধর মাহাতোর পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্যই তিনি লালগড় গিয়েছিলেন। এদিন অবশ্য তৃণমূল কংগ্রেস ও ছত্রধরের ভবিষ্যৎ সম্পর্ক নিয়ে রীতিমতো কটাক্ষ করে বিজেপি নেতা মুকুল রায় মন্তব্য করেন, ‘সরকারের আতিথেয়তার কী দাম ছত্রধর দেয়, সেটাই এখন দেখার।’

এই মুহূর্তে ছত্রধর মাহাতোর মাথায় আর কোনরকম মামলার খাঁড়া ঝুলে নেই। জঙ্গলমহলে ফিরে তিনি কোন দলে যোগ দেবেন, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই গুঞ্জন শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। তবে ছত্রধর মাহাতো নিজেই ইঙ্গিত দিয়েছেন, তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করবেন ভবিষ্যতে। অন্যদিকে, বিজেপি শিবিরের দাবি, জঙ্গলমহলে এখন বিজেপির রাজ। হাওয়া পুরোপুরি গেরুয়া শিবিরের দিকে। এই অবস্থায় ছত্রধর মাহাতো কিভাবে গেরুয়া রংকে সবুজে পরিবর্তন করেন, সেদিকে উৎসুকতার সঙ্গে নজর রাখবেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকগণ।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!