এখন পড়ছেন
হোম > জাতীয় > সব্যসাচী দত্তের বিরুদ্ধে তোলাবাজি কাণ্ডে আইনি প্রক্রিয়া শুরু, বাড়ছে জল্পনা

সব্যসাচী দত্তের বিরুদ্ধে তোলাবাজি কাণ্ডে আইনি প্রক্রিয়া শুরু, বাড়ছে জল্পনা



মুকুল রায় তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিতেই একসময় মুকুল রায়ের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত রাজারহাট-নিউটাউনের দাপুটে বিধায়ক সব্যসাচী দত্তর ক্ষমতা দলের মধ্যে বৃদ্ধি পায়। এর আগে মুকুল রায় ত্রিপুরার দায়িত্ত্ব সামলাতেন, মুকুলবাবুর ছেড়ে যাওয়া সেই দায়িত্ত্ব বিধাননগরের মেয়র সাব্যসাচীবাবুর হাতেই তুলে দেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু এর কিছুদিন পরেই হয় ছন্দপতন। প্রকাশ্য সভামঞ্চ থেকে বকেয়া ডিএ নিয়ে তিনি এমন কিছু মন্তব্য করেন যা অস্বস্তিতে ফেলে দেয় শাসকদলকে। এরপরেই জল্পনা বাড়িয়ে দলের মধ্যেই তাঁর বিরোধী গোষ্ঠী বলে পরিচিত একাধিক নেতার সঙ্গে বৈঠক করেন দলেরই এক শীর্ষনেতা। কিন্তু যেহেতু ত্রিপুরাতে বিধানসভা নির্বাচন আসন্ন এবং সাব্যসাচীবাবু সেখানকার দায়িত্ত্বপ্রাপ্ত নেতা, তাই দলের তরফ থেকে এই নিয়ে কোনো সরকারি প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায় না।

কিন্তু ত্রিপুরা নির্বাচনের প্রচারের মাঝেই সব্যসাচী দত্তের বিরুদ্ধে এক কোটি টাকা ‘তোলাবাজির’ অভিযোগ আনেন রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী মধুসূদন চক্রবর্তী। এক সাংবাদিক বৈঠকে মধুসূদন বাবু অভিযোগ জানান, সব্যসাচী বাবু আমার কাছে ১ কোটি টাকা তোলা চেয়েছেন। ইতিমধ্যেই আমি বিধায়ককে ২ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা দিয়েছি, তারপরেও উনি বাকি টাকার জন্য চাপ দিচ্ছেন। এই নিয়ে আমি আইনের সাহায্য নেওয়ার পাশাপাশি দলনেত্রীকেও সব জানাবো। এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় সাব্যসাচীবাবু জানান, আমি মধুসূদনবাবুকে চিনি না। ওঁনার কাছে তথ্যপ্রমাণ থাকলে উনি আদালতে যাচ্ছেন না কেন?

আর এরপরেই কুরিয়ার করে বিধাননগর উত্তর থানায় বিধাননগরের মেয়র তথা রাজারহাট-নিউটাউনের তৃণমূলের দাপুটে বিধায়ক সব্যসাচী দত্তর বিরুদ্ধে তোলাবাজি নিয়ে লিখিত অভিযোগ পাঠান মধুসূদন চক্রবর্তী। পরবর্তীকালে মধুসূদনবাবু জানান, কুরিয়র সংস্থা থেকে টেলিফোনে জানিয়েছে পুলিশ অভিযোগ গ্রহণ করেছে, প্রচুর ফোন আসছে, প্রচণ্ড আতঙ্কে রয়েছি। অন্যদিকে পুলিশ সূত্রেও এই ঘটনার কথা স্বীকার করে নেওয়া হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ। এমনকি ‘হাই-প্রোফাইল’ বিধায়কের বিরুদ্ধে তদন্তের বিষয়ে পুলিশের শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে থানার তরফে পরামর্শ চাওয়া হয়েছে। সেই নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতেই পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলেও জানা গেছে। আর তাই সবমিলিয়ে এমন ‘হাই-প্রোফাইল’ কেসে কি হবে সেই নিয়ে ক্রমশ বাড়ছে জল্পনা, এমনকি এর পিছনে কোনো ‘রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট’ আছে কিনা সে বিষয়েও সন্দেহ করেছেন কিছু কিছু রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!