এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > উত্তরবঙ্গ > প্রার্থী বাছাইয়েও বড়সড় গোলযোগ, সহমত নয় নেতারা, বাড়ছে জটিলতা

প্রার্থী বাছাইয়েও বড়সড় গোলযোগ, সহমত নয় নেতারা, বাড়ছে জটিলতা



ভারতবর্ষের প্রতিটা রাজনৈতিক দলের মধ্যে বিজেপি বৃহৎ সাংগঠনিক এবং শৃঙ্খলাপরায়ন রাজনৈতিক দল বলে মনে করেন অনেকেই। কিন্তু বর্তমানে ফালাকাটা বিধানসভা উপনির্বাচনে প্রার্থী হওয়া নিয়ে বিজেপির অন্দরে যেভাবে কোন্দল শুরু হয়েছে, তাতে রীতিমত অস্বস্তিতে পদ্ম শিবির। এখনও পর্যন্ত এই বিধানসভা উপনির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা না হলেও, বিজেপি একাংশ এই কেন্দ্রের প্রার্থী হিসেবে দলের পুরোনো কর্মী হেমন্ত রায়কে চাইছেন।আর এতেই নানা মহলে তৈরি হয়েছে প্রশ্ন।

যেখানে দল হিসেবে বিজেপি কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেনি, সেখানে তাদের দলের কিছু কর্মী হেমন্তবাবুকে প্রার্থী করবার জন্য যেভাবে উঠে পড়ে লেগেছে, তাতে বিজেপির কি ভেতরকার ঐক্য নষ্ট হচ্ছে না? সূত্রের খবর, এই হেমন্ত রায়কে ফালাকাটা বিধানসভা উপনির্বাচনে প্রার্থী করবার জন্য বিজেপির একাংশ দলের কাছে প্রস্তাব পাঠানোর জন্য তৎপর হয়ে উঠেছে। এদিন এই প্রসঙ্গে বিজেপির প্রাক্তন জেলা সহ-সভাপতি জগদীশ অধিকারী বলেন, “রাজ্যের তিনটি উপনির্বাচনে আমাদের দল হেরেছে। তাই ফালাকাটা বিধানসভা উপনির্বাচন আমাদের কাছে প্রেস্টিজ ইস্যু। নির্বাচনে জিততে হলে হেমন্তবাবুর মত পরিচিত মুখ দরকার। তাই আমাদের দাবি, হেমন্তবাবুকেই প্রার্থী করতে হবে।”

 


ফেসবুকে আমাদের নতুন ঠিকানা, লেটেস্ট আপডেট পেতে আজই লাইক ও ফলো করুন – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের টেলিগ্রাম গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের সিগন্যাল গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

 

একইভাবে হেমন্ত রায়কে প্রার্থী করার পক্ষে সওয়াল করেছেন বিজেপির সংখ্যালঘু মোর্চার প্রাক্তন ফালাকাটা ব্লকের সভাপতি মহাবুল আলম ও পূর্ব কাঠালবাড়ি পঞ্চায়েতের বিজেপি প্রমুখ সুরেন সরকার। কিন্তু দলের একাংশ কর্মী প্রার্থী নিয়ে যেভাবে তাদের মত প্রকাশ করতে শুরু করেছেন, তাতে দল কি অস্বস্তিতে পড়বে না! এদিন এই প্রসঙ্গে মাদারিহাটের বিজেপি বিধায়ক মনোজ টিগ্গা বলেন, “এভাবে কোনো ভোটে কাউকে প্রার্থী করার দাবিতে প্রস্তাব নেওয়া যায় না। এটা দলের গঠনতন্ত্রের বিরোধী। প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছা থাকলে দলের কাছে ব্যক্তিগতভাবে যে কেউ আবেদন করতে পারে। পরে দল ঠিক করবে, কাকে প্রার্থী করা হবে। কিন্তু এভাবে প্রস্তাব নেওয়া যায় না।”

একইভাবে এই প্রসঙ্গে বিজেপির জাতীয় পরিষদের সদস্য গুণধর দাস বলেন, “আমাদের দলের সংবিধানে আছে, প্রার্থী হওয়ার জন্য কারো হয়ে এভাবে প্রকাশ্যে প্রস্তাব নেওয়া যায় না। হেমন্তবাবু আমাদের পুরনো দিনের নেতা। তাকে প্রার্থী করার জন্য দলের কেউ দাবি জানাতেই পারে। কিন্তু সেটা প্রকাশ্যে নয়।” তবে যাকে নিয়ে এত কিছু, সেই হেমন্ত রায় ঠিক কি বলছেন! এদিন এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমার অজান্তে আমাকে প্রার্থী করার দাবিতে ফালাকাটায় দলের পুরোনো নেতাকর্মীরা বৈঠক করে প্রস্তাব আনায় আমি অভিভূত ও আপ্লুত। যদিও প্রার্থী হওয়ার জন্য আমি দল বা কারও কাছে কোনো আবেদন করিনি।”

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হেমন্তবাবু কিছু জানেন না বলে প্রকাশ্যে জানালেও, তাকে না জানিয়ে তার অনুগামীরা যে এই ধরনের কাজ করবেন না, সেই ব্যাপারে নিশ্চিত একাংশ। ফলে নিজের প্রার্থীপদ নিশ্চিত করার জন্য, দলের অনুগামীদের দিয়ে হেমন্ত রায় এই ধরনের কাজ করিয়েছেন বলে দাবি অনেকের। এখন গোটা পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, আদৌ ফালাকাটা বিধানসভা উপনির্বাচনে হেমন্তবাবুকে প্রার্থী করে বিজেপি, নাকি অন্য কোনো মুখ উঠে আসে! সেদিকেই নজর থাকবে সকলের।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!