এখন পড়ছেন
হোম > জাতীয় > Breaking News, আবার বড়োসড়ো বিতর্কের মুখে বিজেপি, জানুন বিস্তারিত

Breaking News, আবার বড়োসড়ো বিতর্কের মুখে বিজেপি, জানুন বিস্তারিত



প্রিয় বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট –  আবারো পরস্পর বিতর্কের মুখে বিজেপি। বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডার একটি বক্তব্য তীব্র বিতর্কর সৃষ্টি করেছে। গত ৯ ই জানুয়ারি জে পি নাড্ডা রাজ্য সফরে এসে বর্ধমানে গিয়ে কাটোয়ার জগদানন্দপুরে রাধাগোবিন্দ মন্দিরে পুজো দিয়েছিলেন। পুজো দেওয়ার পর তিনি জানিয়েছিলেন যে, এই মন্দির থেকে দীক্ষা নিয়েছিলেন মহাপ্রভু শ্রী চৈতন্য। তাঁর এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হয়েছে বিতর্ক। রাজ্য সনাতন ব্রাহ্মণ ট্রাস্ট এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এই মন্দির মহাপ্রভু শ্রী চৈতন্যর সমকালীন নয়, মহাপ্রভু শ্রী চৈতন্যর সময়ের তিন শতাব্দি পর এই মন্দিরের প্রতিষ্ঠা।

ইতিপূর্বে, বিরসা মুন্ডার মূর্তিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর মাল্যদানের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র বিতর্ক ছড়িয়ে পড়েছিল। তৃণমূলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল যে, মূর্তিতে মাল্যদান করা হয়েছে জনৈক আদিবাসী শিকারির মূর্তি, বিরসা মুন্ডার মূর্তি নয়। এরপর গত মাসে বোলপুর সফরে এসে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডা জানিয়েছিলেন যে, বোলপুরেই জন্মগ্রহণ করেছেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। এই বক্তব্যেও তীব্র বিতর্ক ছড়িয়ে ছিল। আবার বিতর্ক ছড়ালো মহাপ্রভুর দীক্ষা গ্রহণ নিয়ে তাঁর বক্তব্যকে কেন্দ্র করে।

প্রসঙ্গত, বর্ধমান সফরের দিন কাটোয়ার জগদানন্দ পুরের রাধাগোবিন্দ মন্দিরে পুজো দিয়েছিলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জগত প্রকাশ নাড্ডা। পূজা দেবার পর তিনি জানিয়েছিলেন যে, এই মন্দিরেই দীক্ষা গ্রহণ করেছিলেন মহাপ্রভু শ্রী চৈতন্য। তাঁর এই বক্তব্যকে ঘিরে তুমুল বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। লোকসংস্কৃতি গবেষকেরা জানিয়েছেন যে, ১৫১০ খ্রিস্টাব্দের ২৯ সে মাঘ কাটোয়ার গৌরাঙ্গ বাড়িতে কেশব ভারতীর কাছে দীক্ষা নিয়েছিলেন বিশ্বম্ভর মিশ্র বা নিমাই। দীক্ষা নেওয়ার পর তাঁর নাম হয়েছিল শ্রী শ্রী কৃষ্ণ চৈতন্য। আর জগদানন্দপুরের রাধাগোবিন্দ মন্দিরের প্রতিষ্ঠা হয়েছে হাজার ১৮৩৯ খ্রিস্টাব্দে। একাধিক গ্রন্থে এই তথ্যের উল্লেখ পাওয়া যায় বলে, লোক সংস্কৃতির গবেষকেরা জানালেন।


দেশে যে কোনো দিন ব্যান হয়ে যেতে পারে হোয়াটস্যাপ। তাই এখন থেকে আমরা শুধুমাত্র টেলিগ্রাম ও সিগন্যাল অ্যাপে। প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার নিউজ নিয়মিতভাবে পেতে যোগ দিন –

টেলিগ্রাম গ্রূপটাচ করুন এখানে

সিগন্যাল গ্রূপটাচ করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

কাটোয়ার জনৈক লোক সংস্কৃতি গবেষক তারকেশ্বর মহারাজ জানিয়েছেন যে, কাটোয়া থেকে দীক্ষা নিয়েছিলেন মহাপ্রভু শ্রী চৈতন্য। যার সময়কাল ১৫১০ খ্রিস্টাব্দ। কিন্তু জগদানন্দপুরের রাধাগোবিন্দ মন্দিরের প্রতিষ্ঠা হয়েছে ১৮৩৯ খ্রিস্টাব্দে। মহাপ্রভু শ্রী চৈতন্য দেবের অন্যতম পর্ষদ বাসুদেব ঘোষের কনিষ্ঠ ভ্রাতা মীনকেতন ঘোষের বংশধরেরা এই রাধাগোবিন্দ মন্দিরের প্রতিষ্ঠা করেছেন ১৮৩৯ সালে। অর্থাৎ মহাপ্রভু শ্রী চৈতন্য দেবের সময়ে এই মন্দিরের কোনো অস্তিত্বই ছিল না।

বিষয়টি নিয়ে যথেষ্ট রাজনৈতিক তরজার সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে বিজেপিকে কটাক্ষ করেছে তৃণমূল শিবির। কাটোয়ার বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় বলেছেন যে, হিন্দু ধর্মের কথা বলে বিজেপি। কিন্তু হিন্দু ধর্মকে নিয়েই ছেলে খেলা করছে বিজেপি। মানুষ কখনোই তা মেনে নেবে না। স্থানীয় বিজেপি শিবিরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এ সম্পর্কিত তথ্যের বিষয়ে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডার সঙ্গে ঠিকমতো যোগাযোগ করতে পারেনি দল। ফলে যে ভুল হয়েছে সে ভুল বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতির নয়।

এভাবে, আগামী বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে আবার বিতরকের মুখে বিজেপি। বিজেপিকে বারবার বহিরাগত, অবাঙালির দল বলে কটাক্ষ করেছে তৃণমূল। এই আবহে এমন বিতর্ক যথেষ্ট অস্বস্তি বাড়িয়ে দিল গেরুয়া শিবিরের, এমনটাই একাধিক বিশ্লেষকদের মতামত।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!