এখন পড়ছেন
হোম > জাতীয় > বঙ্গ বিজেপিতে কি বড় জায়গা পাচ্ছেন শুভেন্দু? দিল্লির হাইপ্রোফাইল বৈঠকের পর জল্পনা!

বঙ্গ বিজেপিতে কি বড় জায়গা পাচ্ছেন শুভেন্দু? দিল্লির হাইপ্রোফাইল বৈঠকের পর জল্পনা!



প্রিয় বন্ধু মিডিয়ারি পোর্ট – গত বছরের ডিসেম্বর মাসে বিজেপিতে যুক্ত হয়েছেন তিনি। এরকম নজির খুব কম রয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টিতে যে, বিজেপিতে আসার সাথে সাথেই দলের নেতা-কর্মীদের মন জয় করে নিয়েছেন। কিন্তু শুভেন্দু অধিকারী সেদিক থেকে একেবারেই আলাদা। বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভারতীয় জনতা পার্টি তাকে নিজেদের দলের স্বাগত জানিয়েছিল। আর নতুন দলে যুক্ত হওয়ার পর থেকেই নিজের দাপট দেখিয়ে এসেছেন শুভেন্দু অধিকারী। নরেন্দ্র মোদী এবং অমিত শাহের ক্রমাগত ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন তিনি। এমনকি সদ্য সমাপ্ত বাংলার বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্য বিজেপির অন্যতম মুখ হয়ে উঠেছিলেন তিনি।

দিলীপ ঘোষ সভাপতি থাকলেও নির্বাচনী রণনীতি থেকে শুরু করে পরিকল্পনা, নানা বিষয়ে তার সায় নিতে দেখা যেত রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে। তবে শুভেন্দু অধিকারী পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় আসবে বলে জানালেও, তার সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি। তবে নন্দীগ্রামে তৃণমূল নেত্রী তথা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করে নিজের চ্যালেঞ্জ রক্ষা করেছেন তিনি। আর তারপরই বিজেপির পক্ষ থেকে দল ক্ষমতায় না আসলেও, প্রতিপক্ষ টিমের প্রধান মুখ যে শুভেন্দু অধিকারী হতে চলেছেন, সেই ব্যাপারে নেওয়া হয়েছে সিদ্ধান্ত।

বর্তমানে সেই শুভেন্দু অধিকারীকে রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা করা হয়েছে। কিন্তু ধীরে ধীরে নিজের গুরুত্ব আরও বাড়াতে শুরু করেছেন মেদিনীপুরের ভূমিপুত্র। সম্প্রতি রাজ্য নেতৃত্বের কাউকে দিল্লির পক্ষ থেকে ডাকা না হলেও, শুভেন্দু অধিকারীকে দিল্লিতে তলব করা হয়েছিল। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ থেকে শুরু করে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি এবং স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে একপ্রস্থ বৈঠক করে নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী।

এদিকে রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, এই ব্যাপারে তিনি কিছুই জানেন না। আর এই পরিস্থিতিতে বাংলার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর দিল্লি সফর এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনাকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে জল্পনা। তাহলে কি আগামীদিনে শুভেন্দু অধিকারী রাজ্য বিজেপিতে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা দখল করতে চলেছেন? এখন এই প্রশ্ন এবং মুখ চাওয়াচাওয়ি শুরু করেছেন বিজেপির অনেক পদাধিকারী থেকে শুরু করে হেভিওয়েট নেতা-নেত্রীরা।

বিশেষ সূত্র মারফত খবর, দলের একাংশ চাইছেন, শুভেন্দু অধিকারীকে শুধু বিরোধী দলনেতা নয়, তাকে যাতে দলের সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে বসানো হয়। তাহলে ঘরে এবং বাইরে দলকে আরও বেশি করে চাপে রাখতে পারবে ভারতীয় জনতা পার্টি। বিশ্লেষকদের মতে, শুভেন্দু অধিকারী তৃণমূলের কাছে যথেষ্ট অস্বস্তির কারণ। দীর্ঘদিন তৃণমূল কংগ্রেস করে এসেছেন এই হেভিওয়েট নেতা। সেদিক থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘরের খবর জানেন তিনি।

তাই তাকে বিরোধী দলনেতা করে অত্যন্ত ভালো করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি। তবে সংগঠনের দায়িত্ব যদি সেই শুভেন্দু অধিকারীকে দেওয়া হয়, তাহলে নিজের সাংগঠনিক ক্ষমতা প্রয়োগ করে দলকে গোটা রাজ্যজুড়ে বিস্তার লাভ করতে সক্ষম হবেন তিনি। আর এই বিষয়টি নিয়েই এখন জল্পনা তৈরি হয়েছে বিজেপির অন্দরমহলে।

আমাদের নতুন ফেসবুক পেজ (Bloggers Park) লাইক ও ফলো করুন – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের টেলিগ্রাম গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের সিগন্যাল গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

অনেকে বলছেন, দিল্লিতে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করে রাজ্যের সমস্যার কথা তুলে ধরেছেন, এটা অত্যন্ত বাস্তব। তবে বাংলার সংগঠনের ক্ষেত্রে শুভেন্দু অধিকারীকে যে যথেষ্ট গুরুত্ব দিতে চাইছে ভারতীয় জনতা পার্টির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব, তা দিল্লিতে এই তলবের মধ্য দিয়েই পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে। যার ফলে একাংশ বলছেন, তাহলে কি এবার ধীরে ধীরে রাজ্য বিজেপির অন্যতম মুখ হয়ে উঠবেন শুভেন্দু অধিকারী?

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষকে আরও বড় কোনো জায়গা দিয়ে শুভেন্দু অধিকারীকে রাজ্য বিজেপির সভাপতি করা হতে পারে। তাহলে বিধানসভার ভেতরে যেমন বিরোধী দলনেতা হিসেবে তিনি তৃণমূলের অস্বস্তি বাড়িয়ে দিতে সক্ষম হবেন, ঠিক তেমনই সাংগঠনিকভাবে দলের বিস্তৃতি ঘটাতে অনেকটাই সচেষ্ট হবেন। অনেকে বলছেন, বিধানসভা নির্বাচনের আগে এবং পরে বেশ কিছু বিস্ফোরক মন্তব্য করে দলকে অস্বস্তিতে ফেলে দিয়েছেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। তার মন্তব্য যে ঠিক মত বাংলার মানুষ গ্রহণ করে না, তা সদ্যসমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে দিলীপ ঘোষকে সেনাপতি করে লড়ার পর ভরাডুবিতেই কার্যত পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে।

আর এই পরিস্থিতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করে শুভেন্দু অধিকারী যেভাবে জয় পেয়েছেন, তাতে আগামী দিনে তিনি বাংলার বিজেপির মুখ হতে পারেন বলে মনে করছেন বিজেপির একাংশ। যার জেরে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে তার বৈঠকের পর খুব দ্রুত শুভেন্দু অধিকারীকে সংগঠনের ক্ষেত্রেও বড় কোনো জায়গা দিতে পারে গেরুয়া শিবির বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে এখনও পর্যন্ত এই ব্যাপারে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। সব মিলিয়ে গোটা পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, বিরোধী দলনেতার পর পর শুভেন্দু অধিকারীর সংগঠনের ক্ষেত্রে বড় প্রাপ্তি হয় কিনা, সেদিকেই নজর থাকবে সকলের।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!