এখন পড়ছেন
হোম > রাজনীতি > তৃণমূল > বিজেপির কাছে হারলেও পুর এলাকায় ক্রমশ ব্যবধান কমাচ্ছে তৃণমূল, পুরভোট নিয়ে বাড়ছে আত্মবিশ্বাস

বিজেপির কাছে হারলেও পুর এলাকায় ক্রমশ ব্যবধান কমাচ্ছে তৃণমূল, পুরভোট নিয়ে বাড়ছে আত্মবিশ্বাস



প্রিয় বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট – গত 2019 সালের লোকসভা নির্বাচনের সময় থেকেই রাজ্যে হাওয়া ঘুরতে শুরু করেছিল। দাপট শুরু হয়েছিল গেরুয়া ঝড়ের। আর তারপর থেকেই গ্রামাঞ্চলে বিজেপি খুব একটা সুবিধা করতে না পারলেও, শহরাঞ্চলে তাদের গতি ক্রমশ বাড়তে শুরু করে। লোকসভা নির্বাচনের বিধানসভা ভিত্তিক ফলাফল থেকেই স্পষ্ট হয়ে যায়, বিজেপি এবার শহরাঞ্চলের মানুষের মন জয় করতে শুরু করেছে।

স্বাভাবিক ভাবেই বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই লোকসভা নির্বাচন শহরাঞ্চলে মানুষের মনে বিজেপিকে জায়গা দেওয়ার ঘটনা কার্যত তৃণমূলের মনে কিছুটা হলেও ভয়ের সঞ্চার করে। তবে শহরে বিজেপি ভালো জায়গা করে নিলেও, তারা তাদের লক্ষ্যে বিধানসভা নির্বাচনে পৌঁছতে পারেনি। রাজ্যে তারা ক্ষমতা দখল করবে বলে দাবি করলেও 77 টি আসন দখল করে মোটে বিরোধী দলের জায়গা দখল করতে সক্ষম হয়েছে গেরুয়া শিবির। ইতিমধ্যেই বিধানসভা নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে।

সামনে রয়েছে বিভিন্ন পৌরসভার নির্বাচন। তাই এখন শহরাঞ্চলে বিধানসভা নির্বাচনে কোন দল কত ভোটে এগিয়ে রয়েছে, তা নিয়ে চর্চা শুরু করে দিয়েছে শাসক থেকে বিরোধী প্রতিটি রাজনৈতিক দল। তবে লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি আলিপুরদুয়ার শহরে প্রচুর ভোটে এগিয়ে থাকলেও, বিধানসভা ভোটে তার ব্যবধান অনেকটাই কমে এসেছে।

যার ফলে এখন পৌরসভা নির্বাচন নিয়ে আশাবাদী হয়ে উঠেছে তৃনমূল কংগ্রেস। তাদের দাবি, ধীরে ধীরে বিজেপির এই সমর্থন আরও নিচের দিকে নামতে শুরু করবে। তাই পৌরসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে এখন থেকেই মানুষের মনে জায়গা করতে প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে আলিপুরদুয়ার শহর তৃণমূল নেতৃত্ব।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, গত লোকসভা নির্বাচনে আলিপুরদুয়ার পৌরসভার কুড়িটি ওয়ার্ডে বিজেপি তৃণমূলকে পেছনে ফেলে প্রায় 13 হাজার 800 ভোটে এগিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু বিধানসভা ভোটের ফলাফল পর্যালোচনা করতে গিয়ে দেখা গেছে, বিজেপি তৃণমূলের থেকে হয়ত বা এগিয়ে গেছে। কিন্তু লোকসভা নির্বাচনে যত ভোটে এগিয়ে গিয়েছিল, তার থেকে অনেকটাই কমে গেছে ভারতীয় জনতা পার্টির ভোট।

যেখানে মাত্র 7 হাজার ভোটে আলিপুরদুয়ার শহর এলাকায় তৃণমূলকে পেছনে ফেলে দিয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি। তাই পৌরসভা নির্বাচন আসতে না আসতেই বিজেপির এই লিড কার্যত ধুলিস্যাৎ হয়ে যাবে বলেই দাবি করছেন তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা। তাই তৃনমূল কংগ্রেস এখন প্রধান লক্ষ্য রেখেছে, পৌরসভা নির্বাচনকে। আর সেই মত করেই বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির লিড শহরাঞ্চলে কমে আসায়, তা যাতে আরও নিচের দিকে নামিয়ে আনা যায়, তার কৌশল প্রয়োগ করতে শুরু করেছে ঘাসফুল শিবির বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

আমাদের নতুন ফেসবুক পেজ (Bloggers Park) লাইক ও ফলো করুন – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের টেলিগ্রাম গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের সিগন্যাল গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

এদিন এই প্রসঙ্গে আলিপুরদুয়ার টাউন ব্লক তৃণমূল সভাপতি দীপ্ত চট্টোপাধ্যায় বলেন, “আমরা পরাজিত হলেও বিধানসভা ভোটে শহরে আমরা লোকসভা ভোটে হারানো জমির অনেকটা ফিরে পেয়েছি। কাজেই বিধানসভা ভোটে হারলেও এখনই ভেঙে পড়ার কোনো কারণ নেই। রাজ্যে আমাদের দল সরকারে আছে। আলিপুরদুয়ার পৌরসভা ভোটে আমরাই জয়লাভ করব। আমরা জানি, বিধানসভা ভোটে বিজেপি জিতলেও ওই দলের বিধায়করা করোনা মহামারীতে অসহায় মানুষের পাশে থাকবেন না। বিজেপির জনপ্রতিনিধিরা গত বছর শীতঘুমে কাটিয়েছেন। তাই আমরা আগের মত করোনা পরিস্থিতিতে অসহায় মানুষের পাশে থাকতে পৌর এলাকায় বাড়ি বাড়ি যাওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি।”

একাংশ বলছেন, তৃণমূলের এই উদ্যোগ থেকে কার্যত স্পষ্ট যে, বিপদের সময় মানুষের পাশে থাকতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ঘাসফুল শিবির। অর্থাৎ সামনের পৌরসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে এবং বিজেপিকে পর্যুদস্ত করতেই যে তৃণমূলের এই কৌশল, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। কেননা বিধানসভা নির্বাচনে পরাজিত হয়ে যাওয়ার পর পৌরসভা নির্বাচনেও যদি তৃণমূল এখানে পরাজিত হয়ে যায়, তাহলে তাদের যথেষ্ট শক্তি ক্ষয় হয়ে যাবে।

তাই এই পরিস্থিতিতে লোকসভা নির্বাচনের থেকে বিধানসভা নির্বাচনে শহরাঞ্চলে বিজেপির লিড নিচের দিকে নেমে আসায় বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট করতে চাইছে না ঘাসফুল শিবির। এখন থেকেই বিপদের সময় মানুষের পাশে থাকার বার্তা দিয়ে মানুষের মন জয় করে আগামী পৌরসভা নির্বাচনে যাতে শহরাঞ্চলে তারাই এগিয়ে থাকে, তার জন্য চেষ্টা শুরু করে দিচ্ছেন তৃণমূলের স্থানীয় নেতৃত্বরা বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তবে গেরুয়া হাওয়াকে ফিকে করে আগামী পৌরসভা নির্বাচনে তৃণমূল এখানে নিজেদের দাপট কতটা দেখাতে পারে, সেদিকেই নজর থাকবে সকলের।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!