এখন পড়ছেন
হোম > জাতীয় > বিজেপির অন্দরের আগুন কি সামাল দিতে পারবেন অমিত শাহ, সফরের আগে আশার আলো দেখছেন কর্মী নেতারা

বিজেপির অন্দরের আগুন কি সামাল দিতে পারবেন অমিত শাহ, সফরের আগে আশার আলো দেখছেন কর্মী নেতারা



প্রিয় বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট – সম্প্রতি বঙ্গ সফরে আসতে চলেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। আগামী ৫ ই ও ৬ ই নভেম্বর রয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বঙ্গ সফর। ইতিপূর্বে গত ১ লা মার্চ শেষবারের মতো তিনি পশ্চিমবঙ্গ সফর করেছিলেন। যখন কলকাতার শহীদ মিনারে তিনি প্রকাশ্য সমাবেশের আয়োজন করেছিলেন। কিন্তু, এবারে এমন একটি সময়ে তাঁর বঙ্গ সফর হতে চলেছে, যখন রাজ্য বিজেপির মধ্যে অন্তর্দ্বন্দ্ব চলছে তীব্রভাবে। তাই প্রশ্ন উঠেছে রাজ্য বিজেপির অন্দরে ধিক ধিক জ্বলতে থাকা আগুনে কতটা জল ঢালতে পারবেন বিজেপির চাণক্য অমিত শাহ?

বিজেপির অন্দরের এই তীব্র বিরোধের কারণ হলো বিজেপি ও আরএসএস-এর অদৃশ্য দ্বন্দ্ব। প্রসঙ্গত আরএসএস বা রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ হলো বিজেপির ভিত্তিভূমি। ধর্মীয় ও সামাজিক এই সংগঠনের ওপর ভর করেই দেশের বিভিন্ন স্থানে নিজেদের শক্তি বৃদ্ধি করেছে বিজেপি। আরএসএস এর বহু সদস্য, নেতা বিজেপির বড় বড় পদাধিকারী যেমন হয়েছেন, বিজেপির জনপ্রতিনিধিত্ব যেমন করেছেন, তেমনি মন্ত্রীও হয়েছেন। নরেন্দ্র মোদির শাসনকালে মুখ্যমন্ত্রী পর্যন্ত করা হয়েছে সংঘের কার্যকর্তাকে।

কিন্তু বিজেপি ও আরএসএস এর দ্বন্দ্ব চলে আসছে বহুদিন ধরেই। অটল বিহারি বাজপেয়ির সময়ও যা দেখা দিয়েছিল। আসলে আরএসএস সবসময় চায় বিজেপি পরিচালিত কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারগুলিকে নিয়ন্ত্রণ করতে। কিন্তু ক্ষমতা লাভের পর বিজেপি বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আরএসএস এর শাসন মানতে চায় না। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সরকারের বিলগ্নীকরণ, বেসরকারিকরণ, বিদেশনীতিতে আরএসএসের সায় নেই।

আরএসএস ও বিজেপির বিভিন্ন বিবাদের ছায়া পড়েছে রাজ্যের বিজেপি সংগঠনে। পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ হলেন আরএসএস এর একজন কর্মকর্তা। তাঁর হাত ধরে পশ্চিমবঙ্গে রাজ্য বিজেপি নিজের শক্তি যথেষ্ট বৃদ্ধি করতে পেরেছে। কিন্তু দিলীপ ঘোষের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, তিনি যেভাবে মারমূখী ভাবে, হুমকি দিয়ে দলকে চালাচ্ছেন, তাতে যেমন দলের মধ্যে বিরোধিতা বাড়ছে, সেই সঙ্গে সাধারণ মানুষও মুখ ফিরিয়ে নিতে শুরু করেছে বিজেপি থেকে।

আবার রাজ্য বিজেপির এক বিরাট সমস্যা হয়ে দেখা দিয়েছে স্বজনপোষণ, দুর্নীতি, চারিত্রিক অধঃপতন ইত্যাদির মতো সমস্যাগুলি। অভিযোগ উঠেছে, অন্য দল থেকে আসা সাংসদ, বিধায়কদের দলে প্রায় গুরুত্বহীন করে রাখা হয়েছে। এমন পরিস্থিতির যদি দিনের পর দিন ধরে চলতে থাকে তবে আগামী বিধানসভা নির্বাচনে দলের বিরাট ক্ষতি হতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে। এই অবস্থায় পশ্চিমবঙ্গে আসছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।


WhatsApp-এ প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার খবর পেতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া গ্রূপের লিঙ্ক – টেলিগ্রামফেসবুক গ্রূপ, ট্যুইটার, ইউটিউব, ফেসবুক পেজ

আমাদের Subscribe করতে নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।

এবার থেকে আমাদের খবর পড়ুন DailyHunt-এও। এই লিঙ্কে ক্লিক করুন ও ‘Follow‘ করুন।



আপনার মতামত জানান -

ইতিমধ্যেই রাজ্য বিজেপি থেকে আরএসএস এর নিয়ন্ত্রণ কিছুটা শিথিল করতে দিলীপ ঘোষের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত সুব্রত চট্টোপাধ্যায়কে তাঁর পদ থেকে অপসারণ করা হয়েছে। যার ফলে দলে ক্ষোভ বেড়েছে। আবার, সম্প্রতি মুকুল রায়ের ক্ষমতা বৃদ্ধির ফলে ক্ষোভ বেড়েছে দিলীপ ঘোষের অনুগামীদের। এর ফলে দলের মধ্যে একাধিক গোষ্ঠী বিভাজন তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি এমন জায়গায় চলে গেছে যে, এক গোষ্ঠী বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠীর সভা, মিছিল যতদূর সম্ভব এড়িয়ে চলার চেষ্টা করছেন। এই অবহে সুব্রত চট্টোপাধ্যায়কে অপসারিত করার পর দিলীপ ঘোষকে সভাপতির পদ থেকে অপসারণ করা হবে বলে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে।

এমনও শোনা যাচ্ছে যে, দিলীপ ঘোষকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী করে দেয়া হতে পারে, রাজ্য সভাপতির পদ থেকে অপসারিত করে। তেমনি ভাবে বঙ্গ বিজেপি থেকে সরিয়ে দেয়া হতে পারে কেন্দ্রীয় বিজেপি নেতা কৈলাস বিজয়বর্গীয়কে। বঙ্গ বিজেপিতে দিল্লির নিয়ন্ত্রণ অধিক শক্ত করতে দায়িত্ব বাড়ানো হচ্ছে শিবপ্রকাশ ও অরবিন্দ মেননের। দিল্লির এই পদক্ষেপে আপত্তি রয়েছে আরএসএসের। এমন পদক্ষেপ গ্রহণ করলে বিজেপিতে থাকা আরএসএস-এর লোকেরা আগামী বিধানসভা নির্বাচনের আগেই গুটিয়ে বসে যেতে পারেন আশঙ্কা রয়েছে।

বিজেপি দলের এই তীব্র অন্তর্দ্বন্দ্বকে কতটা ঠান্ডা করতে পারবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী? এসব নিয়ে নানা প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। অনেকেই প্রশ্ন করছেন, বিবাদ মিটিয়ে দলকে তিনি কতটা ঐক্যবদ্ধ করতে পারবেন? তবুও তাঁর আগমনকে কেন্দ্র করে আশার আলো দেখতে পাচ্ছেন বিজেপির বেশ কিছু কর্মী-সদস্য।   কারণ এর আগে তিনি বহু গুরুতর সমস্যার সমাধান করেছেন।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!