এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > খেল শুরু শুভেন্দু গড়ে, বড়সড় ভাঙ্গন বিজেপিতে,জোর জল্পনা

খেল শুরু শুভেন্দু গড়ে, বড়সড় ভাঙ্গন বিজেপিতে,জোর জল্পনা



2019 সালের লোকসভা নির্বাচনে রাজ্যে 18 টি আসন লাভ করার পরে তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বিজেপিতে যোগদান করার হিড়িক লক্ষ করা গিয়েছিল। কিন্তু লোকসভা নির্বাচনের বছর ঘুরতে না ঘুরতেই বর্তমান প্রেক্ষিতে পরিস্থিতি অনেকটা পাল্টে গিয়েছে। বিশেষত, রাজ্যের হেভিওয়েট মন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম নেতা শুভেন্দু অধিকারীর গড়ে একের পর এক ধাক্কা খাচ্ছে রাজ্যের গেরুয়া শিবির।

আর সেই ধারাকে অব্যাহত রেখেই এবার বিজেপি ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করলেন ভারতীয় জনতা পার্টির অন্যতম নেতা সন্দীপ বেরা। শুধু তিনি একা নন, তার সঙ্গে আরও দেড়শো জন বিজেপি কর্মী যোগদান করে ঘাসফুল শিবিরে। যা নিয়ে ইতিমধ্যেই চরম শোরগোল লক্ষ করা গেছে রাজনৈতিক আঙ্গিনায়। বস্তুত, কয়েকদিন আগেই সদ্য তৃণমূলে যোগদানকারী এই সন্দীপ বেরা ভাঙচুরের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত হয়ে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন।

আর জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পরই দেড়শো জন কর্মী নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করার পরে ভারতীয় জনতা পার্টির পক্ষ থেকে রাজ্যের শাসকদলের বিরুদ্ধে রীতিমতো গায়ের জোরে ভয় দেখিয়ে বিজেপি কর্মীদেরকে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করানোর অভিযোগ করতে দেখা গেছে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, বিগত কিছুদিন আগে ভারতীয় জনতা পার্টির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ নন্দীগ্রামে প্রবেশের পথে বাধাপ্রাপ্ত হন। তারপরই দিলীপবাবু রীতিমত আক্রমণ শানান রাজ্যের পরিবহনমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে।

 


দেশে যে কোনো দিন ব্যান হয়ে যেতে পারে হোয়াটস্যাপ। তাই এখন থেকে আমরা শুধুমাত্র টেলিগ্রাম ও সিগন্যাল অ্যাপে। প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার নিউজ নিয়মিতভাবে পেতে যোগ দিন –

টেলিগ্রাম গ্রূপটাচ করুন এখানে

সিগন্যাল গ্রূপটাচ করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

 

শুধু তাই নয়, নন্দীগ্রাম থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের পতনের সূচনা হবে বলেও ভবিষ্যৎবাণী করতে দেখা যায় রাজ্য বিজেপির সভাপতিকে। কার্যত এই ঘটনার পরেই শুভেন্দুবাবুর তত্ত্বাবধানে থাকা এই জেলায় ভারতীয় জনতা পার্টি শিবিরে ভাঙ্গন যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বলে মনে করছে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। তবে বিজেপির তরফ থেকে এই বিষয়ে শাসক দলের বিরুদ্ধে ভয় দেখানো সহ একাধিক অভিযোগ করা হলেও, সেই সমস্ত অভিযোগ রীতিমত প্রত্যাখ্যান করতে দেখা গিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসকে। এই বিষয়ে তৃণমূলের থেকে দাবি করা হয়েছে, কোনোরকম ভয়ভীতির কারণে নয়, কার্যত সিটিজেনশিপ আমেন্ডমেন্ট অ্যাক্ট এবং এনআরসি মানতে না পেরে ভারতীয় জনতা পার্টির কর্মী সমর্থকরা তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করছে।

তা বিজেপি কর্মীরা বুঝতে পারছে ভারতীয় জনতা পার্টি সঠিক রাজনৈতিক দল নয়। সেই কারণেই বিজেপির প্রতি মোহভঙ্গ হচ্ছে সকলের। তবে এই ঘটনার চারদিন আগে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ক্ষেত্র লক্ষ্য করা গিয়েছিল, সেখানকার বাঘাস্তি গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান সুকুমার সিং ভারতীয় জনতা পার্টির সংসর্গ ত্যাগ করে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করেছিলেন। তার সঙ্গে ওই গ্রাম পঞ্চায়েতের আরও তিনজন সদস্য গেরুয়া শিবির ছেড়ে ঘাসফুল শিবিরে নাম লেখায়।

ওই যোগদানের সঙ্গে সঙ্গেই সংশ্লিষ্ট পঞ্চায়েত তৃণমূল কংগ্রেসের দখলে চলে আসে। তবে দীর্ঘ কয়েক বছর ধরেই যেভাবে একটি দলের প্রতীক চিহ্ন জয়যুক্ত হয়ে আশা জনপ্রতিনিধিরা মুড়ি-মুড়কির মতো দল বদল করছেন। তাতে করে তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠতে শুরু করেছে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মধ্যে। কারণ দলবদলের ক্ষেত্রে কোনো নেতাই মতাদর্শকে প্রাধান্য দিচ্ছেন না। বিশেষত অনেকের মধ্যেই ব্যাক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করাই মূল উদ্দেশ্য হিসেবে লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আগামী দিনে 2021 সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্য রাজনীতিতে আর কত এরুপ ঘটনা লক্ষ করা যায়! সেদিকেই দৃষ্টি থাকবে সকলের।

আপনার মতামত জানান -

Top
Facebook Friends
error: Content is protected !!