এখন পড়ছেন
হোম > বিশেষ খবর > ‘শিষ্য’ গেরুয়া শিবিরে পা বাড়াতেই ‘গুরুর’ জন্য জল্পনা শুরু বিজেপি সমর্থকদের মধ্যে

‘শিষ্য’ গেরুয়া শিবিরে পা বাড়াতেই ‘গুরুর’ জন্য জল্পনা শুরু বিজেপি সমর্থকদের মধ্যে



পঞ্চায়েত নির্বাচনের পর নতুন ‘জোশে’ যেন ফুটছে গেরুয়া শিবির। সারা রাজ্য জুড়েই ঘাসফুলের দাপট দেখা গেলেও, বেশ কয়েকটা জেলায় চমকে দেওয়ার মত ফল গেরুয়া শিবিরের। কিন্তু গেরুয়া শিবিরের দাবি, পঞ্চায়েতে ‘আসল’ ফলের কিছুই দেখা যায় নি, কেননা শাসকদল মানুষকে নাকি নিজের ভোট দিতেই দেয় নি। আর যেখানেই মানুষ নাকি নিজের ভোট দিতে পেরেছেন সেখানেই পদ্ম ফুটেছে। বঙ্গ-রাজনীতির উত্তপ্ত ট্রাকের বিষয় এখন এইটাই। চায়ের দোকান থেকে লোকাল ট্রেনের নিত্যযাত্রী – কার্যত আড়াআড়ি বিভক্ত এখন। একদল বলে রাজ্যে গেরুয়া শক্তির পরিস্ফুটন সময়ের অপেক্ষা, তো আরেকদলের দাবি মমতা ব্যানার্জির ‘ম্যাজিক’ সামলানোর মত ক্ষমতা বাংলা কেন ভারতেও নেই বর্তমানে। কিন্তু এরই মধ্যে দলবদলের জল্পনাও কম হচ্ছে না।

আর এই দলবদলের জল্পনায় সবথেকে বড় নাম এই মুহূর্তে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী। এর আগেও অধীরবাবুর বিজেপিতে যোগদান নিয়ে অনেকবার জল্পনা ছড়িয়েছে, কিন্তু প্রতি ক্ষেত্রেই অধীরবাবু নিজেই সেই জল্পনায় জল ঢেলেছেন। কিন্তু বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এবং রাজ্য রাজনীতিতে ঘটে যাওয়া ও ঘটতে চলে কিছু ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গেরুয়া শিবিরের সমর্থকেরা ধরেই নিয়েছেন অধীরবাবুর বিজেপিতে আসা নাকি সময়ের অপেক্ষা। যদিও অধীরবাবু নিজে এখনো এই নিয়ে কিচ্ছু বলেননি, ফলে ধরেই নেওয়া যায় তিনি তাঁর পুরোনো অবস্থানেই অনড়, অর্থাৎ বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন না। কিন্তু রাজনীতি প্রিয় বাঙালি সেকথা শুনবে কেন? অধীরবাবুর বিজেপি যোগের কারণ হিসাবে বাঙালির রাজনৈতিক আড্ডায় যেসব বিষয় উঠে আসছে –

১. রাজনৈতিক মহলে অধীরবাবুর ‘ডানহাত’ বা ‘শিষ্য’ হিসাবে পরিচিত হুমায়ুন কবীর বিজেপিতে যাচ্ছেন, আসলে অধীরবাবুই তাঁকে জল মাপতে পাঠাচ্ছেন। এরপর ‘শিষ্য’ সবুজ সঙ্কেত দিলেই অধীর চৌধুরী পদ্ম শিবিরে যাবেন।
২. কংগ্রেস জাতীয় স্তরে খুব ভালোভাবে বুঝে গেছে মমতা ব্যানার্জির মত নেতাদের হাত না ধরলে কেন্দ্রে বিজেপিকে হারানোর সম্ভাবনা কার্যত শূন্য, ফলে লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেস – কার্যত তৃণমূল কংগ্রেসের কাছে আত্মসমর্পন করবে। আর সেটা ‘স্বঘোষিত মমতা-বিরোধী’ অধীর চৌধুরী কি করে মেনে নেবেন? তার থেকে মান বাঁচাতে এবং পূর্ন মমতা-বিরোধিতা করতে হলে গেরুয়া শিবিরই তাঁর আদর্শ জায়গা।
৩. ২০১৯ এ বাংলায় যদি কংগ্রেস-তৃণমূল কংগ্রেস জোট হয় তাহলে হয়ত বহরমপুরে অধীর চৌধুরীকে টিকিটই দেবেন না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কেননা শুভেন্দু অধিকারী মুর্শিদাবাদ থেকে কংগ্রেসকে মুছে দিতে চান। বা টিকিট দিলেও সেখানে তৃণমূল কংগ্রেসও প্রার্থী দিতে পারে, কংগ্রেস-তৃণমূলের ভোট-কাটাকাটিতে ফায়দা তুলে বেরিয়ে যেতে পারে বিজেপি, তারথেকে বিজেপিতে অধীরবাবু এলে সবদিক থেকেই তিনি লাভবান।
৪. শোনা যাচ্ছে, আগামী ১৮ ই জুন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি হিসাবে দায়িত্ত্ব শেষ করবেন অধীরবাবু, তাঁর স্থলাভিষিক্ত হতে পারেন প্রদীপ ভট্টাচার্য – কেননা তিনি মমতা-ঘনিষ্ঠ। আর সত্যিই যদি তা হয়, ২০১৯ এর দিকে তাকিয়ে এটা তো আখেরে অধীর চৌধুরীকে বার্তা, বাংলায় শেষ কথা বলবেন মমতা ব্যানার্জি। সেটা মেনে নেওয়ার থেকে বিজেপি শিবিরে চলে যাওয়াটা অনেক বেশি আত্মমর্যাদার হবে।
৫. অধীর চৌধুরীর ‘সৈনিকদের’ একে একে সব ছিনিয়ে নিচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস, কিন্তু কংগ্রেস পাল্টা প্রত্যাঘাত করার কথা ভাবছে না। গেরুয়া শিবিরে গেলে, পাল্টা একটা প্রত্যাঘাত তো তিনি দিতেই পারেন।
৬. সবথেকে বড় কথা – অধীর চৌধুরী ‘জননেতা’, মমতা বিরোধিতায় ২০২১-এ বিজেপি সরাসরি তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী মুখ ঘোষণা করে নির্বাচনে যেতেই পারে। কংগ্রেসে থেকে যা কোনোদিন সম্ভব নয়।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!