এখন পড়ছেন
হোম > রাজনীতি > তৃণমূল > বিজেপি রাজ্য নেতাদের ‘হাঁড়ির হাল’ নিয়ে বিস্ফোরক তৃণমূল থেকে আগত তিন হেভিওয়েট, উত্তাল বিজেপি

বিজেপি রাজ্য নেতাদের ‘হাঁড়ির হাল’ নিয়ে বিস্ফোরক তৃণমূল থেকে আগত তিন হেভিওয়েট, উত্তাল বিজেপি



প্রিয় বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট – তৃণমূল থেকে নেতা নিয়ে এসে রাজ্যে পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখেছিল ভারতীয় জনতা পার্টি। কিন্তু সেই স্বপ্ন তাদের সার্থক হয়নি। পূরণ হয়নি পরিবর্তনের লক্ষ্য। 77 টি আসন দখল করে কোনোরকমে ভারতীয় জনতা পার্টি রাজ্যে বিরোধী দলের জায়গা অর্জন করেছে। আর বিরোধীদল হিসেবে বিধানসভায় দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন জায়গায় তৃণমূলের সন্ত্রাসের মুখে পড়তে হচ্ছে বিজেপি নেতা কর্মীদের বলে অভিযোগ উঠেছে। কিন্তু শুধু বাইরে নয়, এবার নিজেদের ঘরের ভেতরেও তৃণমূল থেকে আসা নেতাদের প্রশ্নবানে বিদ্ধ হয়ে কার্যত জর্জরিত হতে হল বিজেপির রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বদের।

তৃণমূল থেকে আসা শুভেন্দু অধিকারী, অর্জুন সিংহ এবং সৌমিত্র খাঁয়ের কটাক্ষের মুখে পড়তে হল রাজ্য বিজেপি এবং কেন্দ্রীয় বিজেপির একাংশকে। যেখানে লাগাতার ভাবে বিভিন্ন এলাকায় সন্ত্রাস চললেও কেন কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এবং রাজ্য নেতৃত্ব হস্তক্ষেপ করছে না, তা নিয়ে দলের অভ্যন্তরীণ বৈঠকে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তৃণমূল থেকে আসা বর্তমানে বিজেপির তিন জনপ্রতিনিধি বলে খবর।

স্বাভাবিক ভাবেই একদিকে যেমন প্রতিমুহূর্তে তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হচ্ছে ভারতীয় জনতা পার্টিকে, ঠিক তেমনই ঘরের ভেতরে তৃণমূল থেকে আসা বর্তমানে তাদের তিন জনপ্রতিনিধি যেভাবে দলের নীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিলেন, তাতে রীতিমত সমস্যার মুখে গেরুয়া শিবির বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। যার ফলে এখন বিজেপি হাড়ে হাড়ে টের পেতে শুরু করেছে, তৃণমূল থেকে নেতা নেওয়ার কি জ্বালার মুখে তাদের পড়তে হয়েছে।

বিশেষ সূত্র মারফত খবর, শুক্রবার সমস্ত জেলা নেতাদের রিপোর্ট নিয়ে বিজেপির রাজ্য দপ্তরে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। যেখানে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তরুণ চুঘকে, রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ সহ অন্যান্য নেতা এবং জনপ্রতিনিধিরা। আর সেখানেই রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সামনে কার্যত ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন ব্যারাকপুরের বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিংহ।

একসময় তৃণমূল কংগ্রেসের দাপুটে নেতা হিসেবে পরিচিত অর্জুন সিংহ বিজেপিতে নাম লেখানোর পর দিনকে দিন গেরুয়া শিবিরে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা দখল করতে শুরু করেন। ব্যারাকপুর লোকসভা কেন্দ্র থেকে জয়লাভ করে সেখানকার সাংসদ হন তিনি। কিন্তু এবার বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির বিভিন্ন জায়গায় পরাজিত হওয়ার কারণে এদিনের বৈঠক থেকে রীতিমতো ক্ষোভ উগরে দিতে দেখা যাচ্ছে হেভিওয়েট এই বিজেপি সাংসদকে। কেন কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ঠিকমত হস্তক্ষেপ করছেন না, তা নিয়ে বৈঠকে প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলে দিয়েছেন তিনি।

আমাদের নতুন ফেসবুক পেজ (Bloggers Park) লাইক ও ফলো করুন – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের টেলিগ্রাম গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের সিগন্যাল গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

একইভাবে আক্রান্ত কর্মীদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না বলেও সরব হতে দেখা গেছে নন্দীগ্রামের বিজেপির বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারীকে। শুধু তাই নয়, বিজেপি যুব মোর্চার রাজ্য সভাপতি তথা সাংসদ সৌমিত্র খাঁও দলের ভরাডুবির পর জেলার নেতারা কার্যত গুটিয়ে আছেন বলে প্রশ্ন তুলেছেন। স্বভাবতই দলের তিন গুরুত্বপূর্ণ জনপ্রতিনিধি ভরাডুবির পর যেভাবে অভ্যন্তরীণ বৈঠকে প্রশ্ন তুলেছেন, তাতে তৃণমূল থেকে আসা এই তিন নেতার মন্তব্যে ভারতীয় জনতা পার্টি যে এখন যথেষ্ট অস্বস্তির মুখে, তা বলাই যায়।

অনেকে বলছেন, তৃণমূল যে বিজেপির বড় সমস্যার কারণ, তা কারও অজানা নয়। কিন্তু ঘরে এবং বাইরে একইভাবে যে তৃণমূল থেকে আসা নেতাদের সঙ্গে লড়াই করতে হবে ভারতীয় জনতা পার্টিকে, তা অতীতে বোঝা উচিত ছিল রাজ্য নেতাদের। যেভাবে শুভেন্দু অধিকারী থেকে শুরু করে অর্জুন সিংহ, সৌমিত্র খাঁ থেকে শুরু করে অন্যান্য তৃণমূল থেকে আসা নেতাদের গুরুত্ব দিতে শুরু করেছিলেন বিজেপির রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় নেতারা, তাতে সেই সমস্ত নেতৃত্বরা মাথাচাড়া দিতে শুরু করেছেন।

তাই নির্বাচনে ভরাডুবি হওয়ার পর সেই তৃণমূল থেকে আসা নেতারা এখন দলের নীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে দলকে কার্যত সমস্যার মুখে দাঁড় করিয়ে দিচ্ছেন। অতীতে যদি তৃণমূল থেকে আসা নেতাদের বেশি গুরুত্ব না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিত ভারতীয় জনতা পার্টি, তাহলে এখন সেই ঘাসফুল শিবির থেকে পদ্মফুল শিবিরে নাম লেখানো নেতাদের প্রশ্নের মুখে পড়তে হত না গেরুয়া শিবিরকে বলেই মনে করছেন একাংশ।

বলা বাহুল্য, ইতিমধ্যেই রাজ্যজুড়ে একটি জল্পনা তৈরি হয়েছে, যে যারা তৃণমূল থেকে বিজেপিতে গিয়েছেন, তারা অনেকেই আবার তৃণমূলে ফিরে আসতে পারেন। কিন্তু এতদিন তৃণমূল থেকে আসা যে সমস্ত নেতাদের দায়িত্ব দিয়ে রাজ্যে পরিবর্তন আনার স্বপ্ন দেখেছিল বিজেপি, ভরাডুবির পর সেই সমস্ত নেতারাই প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন। ইতিমধ্যেই ভোটের ফলাফল পরবর্তী সন্ত্রাস রাজ্যে মারাত্মক আকার ধারণ করেছে।

যার কারণে অর্জুন সিংহ থেকে শুরু করে শুভেন্দু অধিকারী, সৌমিত্র খাঁ-এর মত নেতারা রাজ্য নেতৃত্বের দিকে প্রশ্ন তুলে কেন কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব হস্তক্ষেপ করছে না, সেই ব্যাপারটি তুলে ধরেছেন। অর্থাৎ যখন নেতাকর্মীরা সঙ্কটের মুখে, তখন তাদের পাশে দাঁড়ানো উচিত বলে দাবি করতে দেখা যাচ্ছে তাদের। তবে সব থেকে বড় অস্বস্তির কারণ, তৃণমূল থেকে আসা এই সমস্ত নেতারা যেভাবে দলের ভরাডুবির জন্য এবং ভোটের ফলাফল পরবর্তী সন্ত্রাসের পরিপ্রেক্ষিতে দলের কোনো নীতি না থাকার জন্য প্রশ্ন তুলছেন, তাতে ভারতীয় জনতা পার্টির রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব যথেষ্ট অস্বস্তিতে।

ভবিষ্যতে লড়াই দেওয়ার জন্য যদি বিজেপি একইভাবে সদ্য দলে আসা নেতাদের নেতৃত্বের জায়গায় নিয়ে আসে, তাহলে এই রকমই অবস্থার মুখোমুখি বারবার গেরুয়া শিবিরকে হতে হবে বলে দাবি করছেন সমালোচক মহল। সব মিলিয়ে গোটা পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, সেদিকেই নজর থাকবে সকলের।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!