এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > উত্তরবঙ্গ > যত দিন যাচ্ছে ভিড় কমছে বিজেপি পার্টি অফিসে! কি বলছেন সাংসদ-নেতা-নেত্রীরা?

যত দিন যাচ্ছে ভিড় কমছে বিজেপি পার্টি অফিসে! কি বলছেন সাংসদ-নেতা-নেত্রীরা?


 

লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির কাছে অন্যতম “সেফসিট” হিসেবে পরিচিত ছিল কোচবিহার লোকসভা কেন্দ্র। নির্বাচনের কিছুদিন আগে তৃণমূলের যুবনেতা নিশীথ প্রামাণিক বিজেপিতে যোগ দেয়। আর তারপরই প্রার্থী ঘোষণায় দেখা যায় যে, বিজেপি তাঁকে প্রার্থী করে দিয়েছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে।

যার ফলে একদিকে তৃণমূলের প্রার্থী পরেশ অধিকারীর সঙ্গে জোর লড়াইয়ে অবতীর্ণ হতে দেখা যায় প্রাক্তন তৃণমূল নেতা তথা বিজেপির প্রার্থী নিশীথ প্রামাণিককে। শেষ পর্যন্ত তৃণমূলের বিরম্বনা বাড়িয়ে এই কোচবিহার লোকসভা কেন্দ্রে জয়লাভ করেন নিশীথবাবু। আর নির্বাচনের সময় থেকে শুরু করে নির্বাচনে জয়লাভ পর্যন্ত, বিভিন্ন সময়ে বিজেপি নেতৃত্বের সাথে এবং অফিস চত্বরে প্রচুর মানুষের ঢল দেখা গেলেও এখন আর সেই ভিড় দেখতে পাচ্ছেন না বিশেষজ্ঞরা। যা নিয়ে বিভিন্ন মহলে তৈরি হয়েছে গুঞ্জন।

অনেকেই প্রশ্ন করতে শুরু করেছেন, তাহলে কি কোচবিহার লোকসভা কেন্দ্রের রাজনৈতিক সমীকরণ বদলাচ্ছে! বিজেপি এখানে জয়লাভ করলেও এবার কি তৃণমূলের দিকে ফিরে যাচ্ছেন মানুষ! অনেকে বলছেন, লোকসভা নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে বিজেপি এই কোচবিহার জেলায় যেমনভাবে কোনো কর্মসূচি গ্রহণ করতে পারেনি। যার ফলে মানুষ তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে শুরু করেছে।

আবার একাংশের মতে, প্রাক্তন তৃণমূল নেতা নিশীথ প্রামাণিক বিজেপির প্রার্থী হওয়ায় অনেকেই উৎসুক হয়ে উঠেছিলেন। যার ফলে সকলে সেই নিশীথবাবুকে রেকর্ড ভোটে জয়লাভ করিয়েছিলেন। কিন্তু সাংসদ হিসেবে শপথ নেওয়ার পর নিশীথ প্রামাণিক সেইভাবে জেলায় আসেননি। যা সাধারণ মানুষের মনে গভীরভাবে দাগ কাটতে শুরু করেছে।

আর তাই তো সেইভাবে বিজেপির দলীয় অফিসে ভিড় চোখে পড়ছে না বলেই দাবি সমালোচক মহলের। যদিও বা সমালোচকদের এই সমস্ত দাবিকে গুরুত্ব দিতে নারাজ কোচবিহার লোকসভা কেন্দ্রের বিজেপি সাংসদ নিশীথ প্রামানিক এবং কোচবিহার জেলা বিজেপি নেতৃত্ব।

 

WhatsApp-এ প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার খবর পেতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া গ্রূপের লিঙ্ক – টেলিগ্রামফেসবুক গ্রূপ, ট্যুইটার, ইউটিউব, ফেসবুক পেজ

আমাদের Subscribe করতে নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।

এবার থেকে আমাদের খবর পড়ুন DailyHunt-এও। এই লিঙ্কে ক্লিক করুন ও ‘Follow‘ করুন।



আপনার মতামত জানান -

এদিন এই প্রসঙ্গে কোচবিহার জেলা বিজেপির সভানেত্রী মালতি রাভা রায় বলেন, “লোকসভা নির্বাচনের পর দলীয় কর্মীদের কাজ অনেক কম ছিল। কিন্তু এখন জেলাজুড়ে দলের অনেক সাংগঠনিক কাজ চলছে। তাই সকলে নিজের নিজের এলাকায় রয়েছে। বিশেষ করে গ্রামে রয়েছেন। আমরাও বিভিন্ন কাজে গ্রামে যাচ্ছি। তাই পার্টি অফিসে আর আগের মত দেখা যাচ্ছে না। নির্দিষ্ট কাজ নিয়ে যাদের পার্টি অফিসে আসার প্রয়োজন, তারাই আসেন। এছাড়াও বহু কর্মীর নামে মামলা রয়েছে। এর ফলে পার্টি অফিসে কিছুটা ভিড় কম হচ্ছে।”কিন্তু সাধারণ মানুষ তো অনেক আশা করে বিজেপির প্রার্থী হিসেবে তাঁকে জিতেছিলেন। তিনি কেন তাঁর লোকসভা কেন্দ্রে সময় দিচ্ছেন না!

এদিন এই প্রসঙ্গে কোচবিহার লোকসভা কেন্দ্রের বিজেপি সাংসদ নিশীথ প্রামাণিক বলেন, “এখন আমার বাড়ি থেকে ও কোচবিহারের দলীয় কার্যালয় থেকেই সমস্ত কাজ করা হচ্ছে। 15 দিনের মধ্যে নতুন অফিস চালু হবে। মানুষ আমাকে সংসদে পাঠিয়েছেন কাজ করার জন্য। আমি রাজনীতিতে বিশ্বাসী নই, কাজনীতিতে বিশ্বাসী। বিভিন্ন দাবি নিয়ে যাতে সোচ্চার হওয়া যায়, সেজন্য আমি চেষ্টায় থাকি। এখানে বসে থেকে শুধু রাজনীতি করলে চলবে না। মানুষের কাজ করতে হবে।”

তবে জেলা বিজেপির সভানেত্রী থেকে শুরু করে বিজেপি সাংসদ যে কথাই বলুন না কেন, সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিজেপির অনেক কর্মীরা যে বিজেপি পার্টি অফিসে ভিড় কমাচ্ছেন, তা এক বাক্যে স্বীকার করে নিচ্ছেন তারা। তাই শেষ পর্যন্ত নিজেদের সংগঠনকে চাঙ্গা করতে এবং ভিড় বাড়াতে এখন জেলা বিজেপি নেতৃত্ব এবং বিজেপি সাংসদ ঠিক কি পদক্ষেপ গ্রহণ করেন, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!