এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > এবার কি বিজেপির জন্য পিছিয়ে যেতে চলেছে পৌরসভা ভোট! বাড়ছে জল্পনা!

এবার কি বিজেপির জন্য পিছিয়ে যেতে চলেছে পৌরসভা ভোট! বাড়ছে জল্পনা!



“তুমি এসেছিলে পরশু, কাল কেন আসনি।” পশ্চিমবঙ্গের পৌরসভা ভোট এখন যেন বাংলা চলচ্চিত্রের সমার্থক হয়ে দাড়িয়েছে। দুয়ারে এসেও তা যেভাবে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে, তাতে রীতিমত চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে অনেকের কপালেই। কথা ছিল, আগামী এপ্রিল মাসেই পৌরসভার নির্বাচন হবে। এমনকি এই ব্যাপারে কমিশন তাদের পক্ষ থেকে কোনোরূপ ঘোষণা না করলেও, একের পর এক জেলাশাসককে নির্বাচন কমিশনের দপ্তর থেকে তলব করায় নির্বাচন যে আসন্ন, তা কার্যত স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল। অনেকে বলেছিলেন, অবশেষে বিরোধীদের দাবি পূরণ হতে চলেছে।

কেননা দীর্ঘদিন ধরেই রাজ্যের মেয়াদোত্তীর্ণ পৌরসভাগুলোর নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হওয়ায় বিরোধীরা সরকারের বিরুদ্ধে গণতন্ত্রকে ধ্বংস করার অভিযোগ তুলে সরব হয়েছিল। তবে এবার সরকারপক্ষ তাতে রাজি হয়ে কমিশনের কাছে এপ্রিল মাসে নির্বাচনের দিন করানোর আর্জি জানানোয় বিরোধীরা খুশি হবে বলেই আশা করেছিলেন অনেকে। কিন্তু রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল ভারতীয় জনতা পার্টির পক্ষ থেকে এতদিন এই নির্বাচন না করানোর জন্য সরকারের বিরুদ্ধে সরব হলেও, এবার তারাই সেই নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার আর্জি জানাতে চলেছে কমিশনে! শুনতে আশ্চর্যের মনে হলেও এটাই সত্যি।

ফেসবুকে আমাদের নতুন ঠিকানা, লেটেস্ট আপডেট পেতে আজই লাইক ও ফলো করুন – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের টেলিগ্রাম গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের সিগন্যাল গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

সূত্রের খবর, পরীক্ষার মরসুমে যাতে পৌরসভা ভোট না হয়, তার জন্য বৃহস্পতিবার রাজ্য নির্বাচন কমিশনে যাচ্ছে বঙ্গ বিজেপি। জানা গেছে, রাজ্য বিজেপির সহ-সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার এদিন রাজ্য নির্বাচন কমিশনার সৌরভ দাসের সঙ্গে দেখা করে পৌরসভা ভোট পেছানোর ব্যাপারে আর্জি জানাবেন। কিন্তু হঠাৎ বিজেপির তরফে পৌর নির্বাচন নিয়ে এহেন সিদ্ধান্ত ঘিরে এখন উঠতে শুরু করেছে নানা প্রশ্ন। যে বিজেপি এতদিন পৌরভোট করানো নিয়ে সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করত, সেই বিজেপি পরীক্ষার মরসুমের কারণ দেখিয়ে কেন ভোট পিছিয়ে দেওয়ার কথা বলছেন!

বিশ্লেষকরা বলছেন, যে সমস্ত ছাত্ররা পরীক্ষার আগে তাদের সিলেবাস শেষ করতে পারে না, পরীক্ষা যদি একটু দেরিতে হয় তাহলে তাদের সুবিধা হয় বলে মাস্টারমশাইদের কাছে জানাতে শুরু করে। বিজেপির অবস্থাও ঠিক এরকমই হয়েছে। মুখে তারা যাই বলুন না কেন, বাস্তবে তাদের সংগঠন যে শক্তিশালী নয় এবং অনেক জায়গাতেই প্রার্থী তালিকা যে তারা ঠিকমতো তৈরি করতে পারেনি, তা দেখেই এবার নির্বাচন কমিশনের কাছে গিয়ে পরীক্ষার অযুহাত দেখিয়ে নির্বাচন পেছানোর আবেদন করবে বিজেপি নেতৃত্ব বলে মত একাংশের। তবে নানা মহলের তরফে বিজেপির এই দুর্বলতাকে তুলে ধরার চেষ্টা হলেও, তা মানতে নারাজ গেরুয়া শিবির।

তাদের পাল্টা দাবি, গত 1999 সালে শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের নির্বাচনের সময়ে পরীক্ষার সময় যাতে সেই নির্বাচন না হয়, তার জন্য কলকাতা হাইকোর্টে আবেদন করেছিলেন আজকের বিজেপি নেতা তথা তৎকালীন তৃণমূল নেতা মুকুল রায়। আর সেই সময়ে হাইকোর্টের পক্ষ থেকে তৃণমূলের দিকেই রায় গিয়েছিল। এবার মুকুল রায়ের সেই সময়কার মামলার রায়ের কপি নিয়ে গিয়ে বর্তমানে পরীক্ষা চলছে, তাই পরীক্ষার সময় যাতে ভোট না হয়, তার জন্য রাজ্য নির্বাচন কমিশনের কাছে আবেদন জানাবে বিজেপি।

তবে বিজেপি এখন এসব কথা বললেও, যেভাবে এতদিন এই পৌরভোট দ্রুত করানোর ব্যাপারে তারা দাবি তুলেছে, এখন তারা কেন সেই দাবি থেকে সরে আসছে, তা নিয়ে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে জনমানসে। তাই বিজেপির যে নেতা এই পৌরভোট পিছিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে যে কথাই বলুন না কেন, অনেকেরই ধারণা, সংগঠনের দুর্বলতা এবং ঠিকমত প্রার্থী তালিকা না করার কারণেই বিজেপি এখন এই নির্বাচনে রণেভঙ্গ দিতে চাইছে। তবে গেরুয়া শিবিরের নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার জন্য যে আবেদন, তা আদৌ নির্বাচন কমিশন মানে কিনা, সেদিকেই নজর থাকবে সকলের।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!