এখন পড়ছেন
হোম > জাতীয় > বিরোধীদের সঙ্গে একসুরে CAA বিরোধিতায় খোদ বিজেপি বিধায়ক! চূড়ান্ত অস্বস্তিতে পদ্মশিবির

বিরোধীদের সঙ্গে একসুরে CAA বিরোধিতায় খোদ বিজেপি বিধায়ক! চূড়ান্ত অস্বস্তিতে পদ্মশিবির



নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন নিয়ে প্রথম থেকেই বিরোধীদের প্রতিবাদ-প্রতিরোধের কথা প্রায় সকলেরই জানা। ইতিমধ্যেই এই আইন বাতিলের দাবিতে বিরোধীদের তরফে গর্জে ওঠার মত ঘটনা ঘটেছে। তবে বিরোধীদের এই প্রচারকে দমিয়ে দিতে পাল্টা নিজেদের নেতা, কর্মী বিধায়ক সহ শীর্ষ নেতা নেত্রীদের ময়দানে নামিয়ে এই আইনের পক্ষে প্রচার করছে ভারতীয় জনতা পার্টি।

যা কিছুটা হলেও কাজে দিতে শুরু করেছে বলে দাবি একাংশের। আর এই পরিস্থিতিতে বিজেপির অস্বস্তিকে বাড়িয়ে দিয়ে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক মন্তব্য করতে দেখা গেল মধ্যপ্রদেশের বিজেপি বিধায়ক নারায়ন ত্রিপাঠিকে। প্রসঙ্গত, সম্প্রতি মধ্যপ্রদেশের প্রায় 80 জন বিজেপি কর্মী সমর্থক নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বিরোধিতা দলত্যাগ করেছেন বলে জানা গেছে।

আর মধ্যপ্রদেশের মত বিজেপির গড়ে এইভাবে বিজেপিতে ভাঙ্গন ধরায় দল প্রবল অস্বস্তিতে পড়েছিল। আর এবার দলের এই ভাঙ্গন সম্পর্কে মুখ খুলতে গিয়ে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনকেই দায়ী করে বিজেপি বিধায়ক নারায়ন ত্রিপাঠী বিজেপির অস্বস্তিকে আরও বাড়িয়ে দিলেন বলেই মত রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের। কিন্তু কি এমন বললেন এই বিজেপি বিধায়ক?

সূত্রের খবর, এদিন এই নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বিরোধিতা করে মধ্যপ্রদেশের বিজেপি বিধায়ক নারায়ন ত্রিপাঠী বলেন, “দেশের মঙ্গলের জন্য নয়, ভোটব্যাঙ্ক বাড়াতেই সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন নিয়ে এসেছে বিজেপি। ধর্মের ভিত্তিতে দেশ বিভাজন করা উচিত নয়। কারণ এটা সংবিধান বিরোধী। হয় আমাদের বাবাসাহেব আম্বেদকরের সংবিধান মেনে চলা উচিত, নয় তো সংবিধান ছিঁড়ে ফেলা দরকার।”


ফেসবুকে আমাদের নতুন ঠিকানা, লেটেস্ট আপডেট পেতে আজই লাইক ও ফলো করুন – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের টেলিগ্রাম গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের সিগন্যাল গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

তিনি আরও বলেন, “পরে ধর্মের ভিত্তিতে ভেদাভেদ তৈরি করতে কোনো আইন আনা হলে, তা সংবিধানকে অমান্য করা হয়। আমাদের গ্রামে প্রচুর মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ থাকতেন। আমরা একসাথে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যেতাম। কিন্তু এখন তারা আমাদের দিকে ঘুরেও তাকায় না‌। এই পরিস্থিতিতে দেশের শান্তি বজায় রাখা সম্ভব নয়।”

এদিকে এদিন বিরোধীদের সুরে সুর মিলিয়ে কাগজ দেখানো নিয়ে গেরুয়া শিবিরের অস্বস্তি বাড়িয়ে দেন নারায়ন ত্রিপাঠী। বিজেপির এই বিধায়ক বলেন, “দেশের গ্রামাঞ্চলের সাধারণ মানুষের আধার কার্ড পেতে দিনের পর দিন কেটে যায়। নাগরিকত্ব প্রমাণের কাগজ তারা কোথা থেকে পাবেন! ধর্মের ভিত্তিতে দেশ ভাগাভাগি করা হলে এই দেশ চালানো কঠিন হয়ে পড়বে।”

আর নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বিরুদ্ধে বিজেপির বিধায়ক এভাবে মুখ খোলায় বিরোধীরা যে তাতে নতুন অস্ত্র পেয়ে গেল, সেই ব্যাপারে নিশ্চিত রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। এখন বিজেপি এই আইনের স্বপক্ষে নানা জায়গায় নানা বড়াই করে প্রচার করলেও, যেভাবে তাদের দলের বিধায়ক এই আইনের বিরুদ্ধে মুখ খুললেন, তাতে বিজেপি এখন জনসমক্ষে গিয়ে কি বলে, সেদিকে নজর থাকবে প্রত্যেকেরই।

পাশাপাশি এই ঘটনায় বিরোধীদের কড়া আক্রমণের মুখে পড়ে বিজেপি কিভাবে তার প্রতি উত্তর দেয়, তাও দেখার বিষয়। তবে বিজেপির বিধায়ক যেভাবে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বিরুদ্ধে মুখ খুললেন, তাতে তিনি শেষ পর্যন্ত বিজেপিতে থাকেন, নাকি জার্সি বদলান! এখন তার দিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!