এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > উত্তরবঙ্গ > দ্রুত বিজেপির গ্রাসে গোটা জেলার সংগঠন! দীর্ঘদিনের দূরত্ব ভুলে একান্ত বৈঠকে দুই হেভিওয়েট নেতা

দ্রুত বিজেপির গ্রাসে গোটা জেলার সংগঠন! দীর্ঘদিনের দূরত্ব ভুলে একান্ত বৈঠকে দুই হেভিওয়েট নেতা



লোকসভার পর রাজ্যে শাসকদলের সংগঠনে কিছুটা হলেও ধ্বস নেমেছে। তবে সেই ধ্বসের মূল কারণ যে তৃনমূলের ভেতরকার দ্বন্দ্ব, তা বুঝতে বাকি নেই কারোরই। তবে নিজেদের মধ্যেকার এই সমস্ত দ্বন্দ্বকে দূরীভূত করতে অনেকদিন পর দুই তৃনমূল নেতাকে একসাথে দেখা গেল।

সূত্রের খবর, তৃণমূল পরিচালিত জলপাইগুড়ি পুরসভার চেয়ারম্যান মোহন বসুকে কাছে টানতে শনিবার পুরসভায় গিয়ে তাঁর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন দলের জেলা তৃণমূলের সভাপতি কিষাণ কল্যাণী। জানা যায়, পুরসভার বন্ধ ঘরে ঘণ্টাখানেক ওই দুই নেতা আলোচনা করেন।

বস্তুত, দীর্ঘদিন ধরে কার্যত মুখ দেখাদেখি বন্ধ থাকা ওই দুই নেতার বৈঠক ঘিরেই এবার তীব্র জল্পনা শুরু হয়েছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, আগামী 2021 এর বিধানসভা আগে ঘর গোছাচ্ছেন জেলা তৃণমূলের সভাপতি। আর তাই একদা একে অপরের প্রতি বিষোদগার করা দুই নেতাই পরস্পরের প্রশংসায় এদিন পঞ্চমুখ ছিলেন। এদিন এই প্রসঙ্গে তৃণমূলের জেলা সভাপতি কিষাণ কল্যাণী বলেন, “মোহনদা অনেক সিনিয়ার লিডার। সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এসেছি। পুরসভা যেভাবে শহরের উন্নয়ন করেছে তাতে পুরভোট নিয়ে আমরা চিন্তিত নই। তবে পুজোর আগে শহরের কিছু রাস্তাঘাট যাতে দ্রুত সংস্কার করে দেওয়া হয় সেবিষয়ে কথা হয়েছে।”

অন্যদিকে এই সাক্ষাৎ নিয়ে জলপাইগুড়ি পুরসভার চেয়ারম্যান মোহনবাবু বলেন, “কিষাণ কল্যাণীর সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক লড়াই নেই। দু’জনেই আগে কংগ্রেস করতাম, এখন তৃণমূল করি। লোকসভা ভোটে জেলায় দলের ভরাডুবির ফলে কর্মীরা হতাশায় ভুগছিলেন। এখন তা অনেকটা কেটে গিয়েছে। রাজ্য নেতৃত্বের নেওয়া বিভিন্ন কর্মসূচির ফলে জেলার রাজনীতিতে পরিবর্তন এসেছে। বুথ স্তর থেকে সংগঠন গড়ে তোলার উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।”


দেশে যে কোনো দিন ব্যান হয়ে যেতে পারে হোয়াটস্যাপ। তাই এখন থেকে আমরা শুধুমাত্র টেলিগ্রাম ও সিগন্যাল অ্যাপে। প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার নিউজ নিয়মিতভাবে পেতে যোগ দিন –

টেলিগ্রাম গ্রূপটাচ করুন এখানে

সিগন্যাল গ্রূপটাচ করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, সদ্য সমাপ্ত লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি জলপাইগুড়িতে ভালো ফল করে। শাসক দলের কাছ থেকে কেন্দ্রটি ছিনিয়ে নেওয়ায় উজ্জীবিত হয়ে উঠে বিজেপির নেতা কর্মীরা। অন্যদিকে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরে কোণঠাসা শাসকদল ঘুরে দাঁড়াতে সাংগঠনিক স্তরে পরিবর্তন করে। জেলায় দলের ভার দায়িত্ব দেওয়া হয় প্রবীণ নেতা কিষাণ কল্যাণীকে।

দীর্ঘদিনের বঞ্চনায় দলের প্রতি মুখ ফিরিয়ে নেওয়া নেতাকর্মীদের ঘরে ফেরাতে উদ্যোগী হন নতুন জেলা সভাপতি। ঘাসফুল ছেড়ে পদ্মফুলে নাম লেখানো ময়নাগুড়ির দাপুটে নেতা শিবশঙ্কর দত্তকে দলে ফিরিয়ে ব্লক সভাপতির দায়িত্ব দেওয়ার পাশাপাশি সম্প্রতি দলের জেলার যুব সভাপতি সৈকত চট্টোপাধ্যায়কে পাশে বসিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করে সবাইকে নিয়ে চলার বার্তাও দেন কিষান কল্যানী। তবে সেই কিষানবাবুর এদিন মোহন বসুর সৌজন্য সাক্ষাৎ, বিক্ষুব্ধদের নিজের পক্ষে আনার কৌশল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

জানা যায়, গত আগস্ট মাসে কিষাণ কল্যাণীকে জেলা সভাপতির ঘোষণার অনুষ্ঠানে গরহাজির ছিলেন মোহন বসু। তার কয়েকদিন পরে নিজের চেম্বারে সাংবাদিকদের সামনে নয়া জেলা সভাপতির নাম না করে ‘চা শিল্পপতি’ বলে তোপ দাগতেও দেখা গিয়েছিল। যার পাল্টা জবাব দেন কিষাণ কল্যাণীও। তবে এবার এই দুই নেতার সাক্ষাৎ চরম জল্পনা বাড়িয়ে দেয়। তবে এই দুই নেতার হাসিমুখে করমর্দন কতটা বরফ গলাতে পারল! তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!