এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > বিজেপি বিরোধিতায় কোন কোন বিষয়ের ওপর জোর দিলেন মমতা! জেনে নিন

বিজেপি বিরোধিতায় কোন কোন বিষয়ের ওপর জোর দিলেন মমতা! জেনে নিন



প্রিয় বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট- একুশে জুলাইয়ের শহীদ দিবসের ভার্চুয়াল মঞ্চ থেকে তার প্রধান আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দু যে হবে ভারতীয় জনতা পার্টি, তাতে আগেভাগেই নিশ্চিত ছিল বিশেষজ্ঞরা। আর সেই মতো করেই বক্তব্য রাখতে উঠেই একদম প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত বিজেপিকে আক্রমণ করেন তৃণমূল নেত্রী তথা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কখনও ফোনে আড়িপাতা নিয়ে, আবার কখনও বা বিজেপিকে ধ্বংসাত্মক দল বলে সরব হতে দেখা যায় তাকে। শুধু তাই নয়, পশ্চিমবঙ্গের সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের পক্ষ থেকে যে খেলা হবে স্লোগানকে হাতিয়ার করে বাজিমাত করা হয়েছিল, আগামী দিনে দেশের মাটিতেও সেই “খেলা হবে” বলে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে বার্তা দেন বাংলার প্রশাসনিক প্রধান।

এক্ষেত্রে বর্তমান পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষকে অস্বস্তিতে ফেলে যেভাবে পেট্রোল, ডিজেল থেকে শুরু করে রান্নার গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে, তার বিরুদ্ধে দলকে আরও বেশি করে প্রতিবাদ করার ক্ষেত্রে এগিয়ে আসার কথা বলেন তৃণমূল নেত্রী। স্বাভাবিক ভাবেই বিজেপির বিরুদ্ধে একাধিক ইস্যুকে সামনে রেখে একুশে জুলাই শহীদ দিবসের মঞ্চ থেকে রীতিমতো রাজ্য তথা জাতীয় রাজনীতিতে শোরগোল ফেলে দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এক্ষেত্রে নিজেকে আরও একবার বিজেপি বিরোধী প্রধান নেত্রী হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করলেন তৃণমূল নেত্রী বলেই দাবি করছেন বিশেষজ্ঞরা।

 

প্রসঙ্গত, করোনা পরিস্থিতির কারণে এবার ভার্চুয়ালি তৃণমূলের একুশে জুলাইয়ের শহীদ দিবস পালন করা হয়। আর সেখানেই বক্তব্য রাখতে উঠে প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত গেরুয়া শিবিরকে একাধিক ইস্যুতে কটাক্ষ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “সবাইকে মিলিয়ে আমার ইউনাইটেড ইন্ডিয়া করতে চাই। যতদিন বিজেপিকে দেশ ছাড়া করতে পারি, ততদিন রাজ্যে রাজ্যে খেলা হবে। গোটা দেশে খেলা হবে। প্রতিদিন 30 মিনিট করে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, করোনা ভ্যাকসিনের আকালের প্রতিবাদে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করবে। বিজেপির মগজে মরুভূমি। তৃতীয় ঢেউ নিয়ে কোনো পরিকল্পনা করেনি। টাকা দিয়ে চেয়ারে থাকা যায় না। মানবতা দিয়ে থাকতে হয়। ভালোবাসা দিয়ে থাকতে হয়। হিংসা বিভাজনের রাজনীতি করে বিজেপি।

আমাদের নতুন ফেসবুক পেজ (Bloggers Park) লাইক ও ফলো করুন – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের টেলিগ্রাম গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের সিগন্যাল গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

কিন্তু আমরা তা চাই না। আমরা বাংলার মানুষ। আমরা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জমি, স্বামী বিবেকানন্দের মাটি থেকে এসেছি। এখন থেকেই সকলে জোট বাধুন।” পাশাপাশি বেকারত্বের বিষয় তুলে ধরেও বিজেপিকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন তিনি। তবে বিজেপির পক্ষ থেকে গোটা দেশে সর্বনাশা নীতি গ্রহণ করা হলেও, বাংলার তৃণমূল সরকার যে মানুষের জন্য সব সময় চেষ্টা করছে, সেই কথাও নিজের বক্তব্যের মধ্যে দিয়ে তুলে ধরেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এক্ষেত্রে বাংলার মানুষ উন্নয়নের ওপর ভরসা রেখে তৃতীয়বারের জন্য তৃণমূল কংগ্রেসকে সমর্থন করেছেন বলেও জানিয়ে দেন তিনি। অর্থাৎ একদিকে বিজেপির বিরোধিতা এবং অন্যদিকে নিজেদের বাংলার সরকারের কাজের কথা তুলে ধরে দেশের মানচিত্র তৃণমূলের গ্রহণযোগ্যতা আরও বেশি করে তুলে ধরার চেষ্টা করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

পর্যবেক্ষকদের মতে, এবারের একুশে জুলাইয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত বিজেপিকে কটাক্ষ করবেন, তা আগেভাগেই ধরে নেওয়া হয়েছিল। তবে কোন কোন বিষয়ের ওপর তিনি বেশি আলোকপাত করবেন, তা দেখার বিষয় হয়েছিল সকলের কাছে। অবশেষে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বক্তব্য শুরু করতেই জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি থেকে শুরু করে পেগাসাস ইস্যু, বিভিন্ন বিষয়ে মন্তব্য করে বিজেপিকে চাপের মুখে ফেলে দিলেন। এক্ষেত্রে আগামী দিনে বৃহত্তর বিরোধী মহাজোট গঠনের ক্ষেত্রে অন্যান্য বিজেপি বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতা-নেত্রীদের কাছে আবেদন রাখলেন বাংলার প্রশাসনিক প্রধান। যা রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একুশে জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে যে সমস্ত বিষয় তুলে ধরে গেরুয়া শিবিরকে কটাক্ষ করেছেন, তাতে ভারতীয় জনতা পার্টির রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব যে যথেষ্ট চাপের মুখে পড়ে গেলেন, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। শুধু তাই নয়, আগামী দিনে এই সমস্ত বিষয়কে সামনে রেখে যে রাজ্য সহ দেশের অন্যান্য রাজ্যে তৃণমূল নিজেদের বিস্তারের ক্ষেত্রে আরও বিজেপির বিরুদ্ধে সোচ্চার হবে, সেই বিষয়টিও পরিষ্কার বিশেষজ্ঞদের কাছে। সব মিলিয়ে গোটা পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, সেদিকেই নজর থাকবে সকলের।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!