এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > আন্দোলনকারী সংখ্যালঘুদের দেশ ছাড়ার হুমকি দিয়ে বিতর্ক বাড়ালেন বঙ্গ বিজেপির হেভিওয়েট নেতা

আন্দোলনকারী সংখ্যালঘুদের দেশ ছাড়ার হুমকি দিয়ে বিতর্ক বাড়ালেন বঙ্গ বিজেপির হেভিওয়েট নেতা



নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন লাগু হওয়ার পর থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে তা বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ চলছে। বিভিন্ন বিজেপি বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো যেমন এই ব্যাপারে বিক্ষোভ চালাচ্ছে, ঠিক তেমনই বাংলায় এই এনআরসি বিরোধী বিক্ষোভ চরম আকার ধারণ করেছে। রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস ইতিমধ্যেই সাধারণ মানুষকে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে এই আইনের বিরুদ্ধে রাস্তায় নামার আহ্বান জানিয়েছে।

যার ফলস্বরূপ রাজ্যের অনেক জায়গাতেই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অনেক মানুষ এই আইন বাতিলের দাবিতে রাস্তায় নেমেছেন। যেমন এই আইন লাগু হওয়ার পর থেকেই পার্ক সার্কাস ময়দানে বহু সংখ্যালঘু মানুষ বিক্ষোভ শুরু করেছেন। যেখানে ঘরের মহিলারা তাদের হাতের কাজ সেরে সন্তানদের নিয়ে এই বিক্ষোভ সমাবেশে যোগ দিচ্ছেন। এক্ষেত্রে প্রতিবাদের অংশ হিসেবে কারও হাতে প্ল্যাকার্ড, আবার কারও হাতে জাতীয় পতাকা দেখা যাচ্ছে।

আর গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে কেউ প্রতিবাদ করলেই, তাকে শাসকের আক্রমণের মুখে পড়তে হয় বলে মাঝেমধ্যেই অভিযোগ ওঠে বিরোধীদের তরফে। আর এবার বিরোধীদের সেই অভিযোগই সত্যি হতে চলেছে বলে জানা গেল। সূত্রের খবর, এদিন পার্ক সার্কাস ময়দানের বিক্ষোভ নিয়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন বিজেপির কেন্দ্রীয় সম্পাদক রহুল সিনহা।

তিনি বলেন, “পার্ক সার্কাসে যে বাচ্চারা আন্দোলন করছে, ওরা বিদেশি বাচ্চা। ওখানে সব বাংলাদেশী মুসলমান। ওদের ভারত ছাড়তেই হবে। আজাদী স্লোগান এখানে চলবে না। ভারতকে টুকরো টুকরো যারা করতে চায়, তারা জাতীয় পতাকা হাতে ধরলেই কি সব মেনে নিতে হবে! যতই চেষ্টা করুন, যারা এদেশের নন, তাদের এদেশ ছাড়তেই হবে।”


দেশে যে কোনো দিন ব্যান হয়ে যেতে পারে হোয়াটস্যাপ। তাই এখন থেকে আমরা শুধুমাত্র টেলিগ্রাম ও সিগন্যাল অ্যাপে। প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার নিউজ নিয়মিতভাবে পেতে যোগ দিন –

টেলিগ্রাম গ্রূপটাচ করুন এখানে

সিগন্যাল গ্রূপটাচ করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

বিশেষজ্ঞদের একাংশ বলছেন, বিজেপির কেন্দ্রীয় সম্পাদক রাহুল সিনহা কি করে জানলেন যে, এনআরসি বিরুদ্ধে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের শিশুরা বিদেশি? তাহলে কি শাসকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা অন্যায়? আর তাই কি এই সম্প্রদায়ের মানুষেরা এনআরসির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায়, তাদেরকে বিজেপি নেতার এহেন তকমার মুখে পড়তে হল?এখন তা নিয়ে নানা মহলে তৈরি হয়েছে প্রশ্ন।

অনেকে বলছেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ এই ভারতবর্ষ। কিন্তু এনআরসির মাধ্যমে সেই ভারতকে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষরা নয়, বরঞ্চ বিজেপি নেতারাই টুকরো টুকরো করতে চাইছে। আর তাইতো তার ফসল হিসেবে বিজেপির কেন্দ্রীয় সম্পাদক রাহুল সিনহা প্রতিবাদকারীদের “বাংলাদেশী মুসলমান” বলে দাবী করলেন।

যা নিঃসন্দেহে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ভারতবর্ষের সার্বভৌমত্বকেই বড়সড় প্রশ্নের মুখে ফেলে দিল বলে মত ওয়াকিবহাল মহলের। এদিন পার্কসার্কাসের এই বিক্ষোভ নিয়ে কটাক্ষ করার পাশাপাশি তৃণমূল নেত্রী তথা বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও একহাত নেন বিজেপির এই কেন্দ্রীয় নেতা।

তিনি বলেন, “উনি দেশবিরোধী কাজ করছেন। যাদবপুরকে ঠিক করতে পারলেন না। ক্ষমতায় এসে দু’মাসের মধ্যে ঠিক করে দেব।” সব মিলিয়ে এনআরসি নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে উত্তেজনার পারদ চড়ার মুহূর্তেই বিস্ফোরক মন্তব্য করে শোরগোল তুলে দিলেন বিজেপির রাহুল সিনহা।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!