এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > মালদা-মুর্শিদাবাদ-বীরভূম > তফশিলি ও জনজাতি ভোট আরও বেশি করে নিজেদের দিকে টানতে বড়সড় পদক্ষেপ বিজেপির

তফশিলি ও জনজাতি ভোট আরও বেশি করে নিজেদের দিকে টানতে বড়সড় পদক্ষেপ বিজেপির



লোকসভায় তৃণমূলকে পর্যুদস্ত করে বিজেপি ভালো ভোট পেলেও সদ্যসমাপ্ত 3 বিধানসভা উপনির্বাচনে বিজেপির পরাজয় ঘটেছে। যেখানে নিজেদের জয়ের ধারা অব্যাহত রেখেছে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। আর বিধানসভা উপনির্বাচনে তিনটি কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থীদের পরাজিত হওয়ার পরেই এবার নিজেদের ভাবমূর্তি ভালো করতে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ময়দানে নামতে শুরু করেছে গেরুয়া শিবির।

ইতিমধ্যেই এনআরসির সুফল মানুষকে বোঝানোর জন্য তৈরি হচ্ছে তারা। আর এবার তপশিলি জাতি এবং জনজাতি সমাজের দাবিদাওয়া নিয়ে আন্দোলনে নেমে সেই সম্প্রদায়ের মানুষের মন জয় করতে উদ্যোগী ভারতীয় জনতা পার্টি। সূত্রের খবর, আগামী 19 থেকে 23 ডিসেম্বর গোটা রাজ্যজুড়ে বিজেপির পক্ষ থেকে তপশিলি জাতির প্রতি বঞ্চনা এবং দাবিদাওয়া সামনে রেখে তপশিলি জনজাগরণ যাত্রা করা হবে।

জানা গেছে, সোমবার এই ব্যাপারে মালদহ জেলা বিজেপির কার্যালয়ে একটি প্রস্তুতি বৈঠক হয়। যেখানে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিজেপি সভাপতি গোবিন্দ মন্ডল, সংগঠনের রাজ্য সভাপতি অরুণ হালদার সহ রাজ্য তপশিলি মোর্চার নেতৃত্বরা। এদিন এই প্রসঙ্গে বৈঠকের পর রাজ্য তপশিলি মোর্চার সভাপতি অরুণ হালদার বলেন, “লোকসভা নির্বাচনে তপশিলি শ্রেনীভুক্ত নাগরিকরা দুহাত তুলে বিজেপিকে সমর্থন করেছেন। কেন্দ্রীয় সরকার তাদের সংবিধান প্রদত্ত অধিকার রক্ষায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।”

আমাদের নতুন ফেসবুক পেজ (Bloggers Park) লাইক ও ফলো করুন – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের টেলিগ্রাম গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের সিগন্যাল গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

তিনি আরও বলেন, “কিন্তু রাজ্য সরকারের অসহযোগিতার কারণেই পশ্চিমবঙ্গে তাদের কেন্দ্রীয় উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে না। আমরা এই বঞ্চনার প্রতিবাদে রাজ্যজুড়ে জন জাগরণ যাত্রা সিদ্ধান্ত নিয়েছি। প্রতিটি জেলায় আমরা প্রস্তুতি সভা করছি। মালদা আমাদের কাছে অত্যন্ত প্রিয়। কারণ এখান থেকে একজন সাংসদ নাগরিকরা আমাদের উপহার দিয়েছেন। তাই তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে এবং একইসঙ্গে তপশিলি জাতির বঞ্চনা, অপমানের বিরুদ্ধে তাদের সংগঠিত করতে আমরা এই কর্মসূচি গ্রহণ করছি।”

অন্যদিকে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের আমলে অন্তত 21 জন তপশিলি কার্যকর্তা খুন হয়েছেন বলেও জানান অরুণ হালদার। অন্যদিকে এই প্রসঙ্গে মালদহ জেলা বিজেপির সভাপতি গোবিন্দ চন্দ্র মন্ডল বলেন, “মালদহেও আমরা সব ব্লকে এই তপশিলি জনজাগরণ যাত্রা বের করব। তার প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে।” বিশেষজ্ঞদের একাংশ বলছেন, লোকসভা নির্বাচনে তপশিলি সম্প্রদায়ের মানুষদের সমর্থন বিজেপির পক্ষেই গেছে।

কিন্তু রাজ্যের সদ্যসমাপ্ত তিন বিধানসভা উপনির্বাচনের সেই সমাজের সমর্থন তৃণমূলের দিকে যাওয়ায় আগামী বিধানসভা নির্বাচনের আগে সেই ভোটব্যাঙ্ক নিজেদের দিকে আনতেই বিজেপির এই পদক্ষেপ। তবে বিজেপির এই কর্মসূচিকে গুরুত্ব দিতে নারাজ শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। এদিন এই প্রসঙ্গে মালদহ জেলা তৃণমূলের সভানেত্রী মৌসম বেনজির নূর মুখ খোলেন।

তিনি বলেন, “বিজেপি যে পরিকল্পনাই নিক না কেন, ব্যর্থ হবে। রাজ্য সরকার সবশ্রেণীর নাগরিকদের জন্য যা যা উন্নয়ন করেছে, তা বাংলার মানুষ জানে। আমরা গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে বিজেপির যে কোনো কর্মসূচির মোকাবিলা করার জন্য প্রস্তুত রয়েছি। সাম্প্রদায়িক তাস খেলা পরিনত রাজনীতির পরিচয় নয়।” তবে জেলা তৃণমূল সভানেত্রী এই কথা বলে বিজেপিকে কটাক্ষ করার চেষ্টা করলেও তফসিলিদের মন জয় করতে বিজেপির এই পদক্ষেপ কতটা কার্যকরী হয়, সেদিকেই নজর থাকবে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!