এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > পুরুলিয়া-ঝাড়গ্রাম-বাঁকুড়া > বিধানসভায় বাজিমাত করতে একেবারে তৃণমূলস্তর নতুন কৌশল রচনায় মন দিল বঙ্গ বিজেপি

বিধানসভায় বাজিমাত করতে একেবারে তৃণমূলস্তর নতুন কৌশল রচনায় মন দিল বঙ্গ বিজেপি



গত লোকসভা নির্বাচনে রাজ্যের 42 টি লোকসভা কেন্দ্রের মধ্যে 18 টি লোকসভা কেন্দ্র দখল করেছিল ভারতীয় জনতা পার্টি। আর বিজেপি ব্যাপক সংখ্যক আসন দখল করার পর বিজেপি নেতাদের মধ্যে তৈরি হয়েছিল আত্মতুষ্টি। অনেকেই ভেবেছিলেন, হয়ত অনায়াসেই পরবর্তী বিধানসভা নির্বাচনে জয় লাভ করা যাবে। কিন্তু লোকসভা নির্বাচনের পর তিনটি বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে পর্যুদস্ত হতে হয়েছিল ভারতীয় জনতা পার্টিকে।

তাই এই পরিস্থিতিতে আত্মতুষ্টিতে না ভুগে একদম নিচুতলার সংগঠনকে শক্তিশালী না করলে যে 2021 এর বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়ে সাফল্য পাওয়া যাবে না, তা ভালই উপলব্ধি করেছেন বিজেপি নেতৃত্বরা। তাই এবারে সেই বুথের সংগঠনকে শক্তিশালী করার দিকে নজর দিতে উদ্যোগী হয়েছে তারা। বস্তুত, ইতিমধ্যেই পুরুলিয়া জেলা বিজেপির কমিটি ঘোষণা হয়ে গিয়েছে।

আর জেলা কমিটি ঘোষণার পর পূর্ণাঙ্গ মন্ডল কমিটি গঠনের দিকে জোর দিয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, এই পুরুলিয়া জেলায় বিজেপির 48 টি মন্ডল কমিটি রয়েছে। বর্তমানে প্রতিটি মন্ডলের 16 জন সদস্যকে নিয়ে একটি করে পদাধিকারী কমিটি গঠন করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই বিজেপির তরফ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রতিটি মন্ডল কমিটিতে 16 জন পদাধিকারী সহ মোট 61 জন সদস্য থাকবেন।

কিন্তু যে 16 জনকে পদাধিকারী রাখা হবে, সেখানে কারা কোন পদ পাবেন! বিজেপি সূত্রের খবর, 16 জন পদাধিকারীর মধ্যে একজন মন্ডল সভাপতি, একজন কোষাধ্যক্ষ, দুজন সাধারণ সম্পাদক, 6 জন সহকারী সভাপতি এবং 6 জন সম্পাদক পদে থাকবেন। বিজেপির অনেকে বলছেন, অতীতে এই মণ্ডল কমিটির ক্ষেত্রে কিছুটা অন্যরকম পদক্ষেপ নিতে দেখা যেত দলকে। সেক্ষেত্রে এই পুরুলিয়া জেলায় মোট 47 টি মন্ডল কমিটি ছিল।


দেশে যে কোনো দিন ব্যান হয়ে যেতে পারে হোয়াটস্যাপ। তাই এখন থেকে আমরা শুধুমাত্র টেলিগ্রাম ও সিগন্যাল অ্যাপে। প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার নিউজ নিয়মিতভাবে পেতে যোগ দিন –

টেলিগ্রাম গ্রূপটাচ করুন এখানে

সিগন্যাল গ্রূপটাচ করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

কিন্তু এখন সংগঠন সাজানোর সুবিধার্থে সেটা 48 করা হয়েছে। অন্যদিকে প্রতিটি প্রতিটি মন্ডল কমিটিতে 12 জন পদাধিকারী এবং 31 জন সদস্য থাকত। কিন্তু এবার সেখানেও পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে দাবি একাংশের। শুধু তাই নয়, তৃণমূলের তরফে যখন মহিলা সংগঠনকে চাঙ্গা করার বার্তা দেওয়া হচ্ছে, ঠিক তখনই বিজেপিও চাইছে, তাদের সংগঠনে মহিলাদের আধিক্য বাড়াতে।

আর তাই তো প্রতিটি মন্ডল কমিটিতে বিজেপি 30 শতাংশ আসন মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত করেছে বলে খবর। এদিন এই প্রসঙ্গে পুরুলিয়া জেলা বিজেপির সভাপতি বিদ্যাসাগর চক্রবর্তী বলেন, একমাস আগে প্রতিটি “মন্ডলের সভাপতির নাম ঘোষণা করা হয়েছিল। সম্প্রতি জেলা কমিটি গঠন হওয়ার পর মণ্ডল কমিটিগুলো গঠন করা হচ্ছে। গত 3 ফেব্রুয়ারি থেকে সেই কাজ চলছে। আগামী 10 ফেব্রুয়ারির মধ্যে সমস্ত মন্ডল কমিটিগুলো গঠিত হয়ে যাবে।”

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধুমাত্র নরেন্দ্র মোদির মুখের ওপর ভরসা করে বিজেপি যে ভবিষ্যতে নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে পারবে না, তা কার্যত স্পষ্ট হয়ে গেছে। তাই সেদিক থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূল কংগ্রেসের মতো দোর্দণ্ডপ্রতাপ শক্তির সঙ্গে লড়াই করতে গেলে সংগঠনকে যে শক্তিশালী করতে হবে, তা আঁচ করতে পেরেই এবার এখন থেকে দলীয় সংগঠনকে শক্তিশালী করার কাজে নেমে পড়ল ভারতীয় জনতা পার্টি।

বিজেপির প্রাক্তন সর্বভারতীয় সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ স্পষ্ট দিয়েছেন, যতদিন না বাংলার রঙ গেরুয়া হবে, ততদিন বলা যাবে না বিজেপির স্বর্নযুগ এসেছে। আর তাই, তাঁর স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করতে কোমর বেঁধে ময়দানে নেমেছেন দিলীপ ঘোষ-মুকুল রায়রা। এখন দেখার বিষয়, বিজেপি তাদের এই সাংগঠনিক ভিতকে মজবুত করে তৃণমূলকে আগামী নির্বাচনে কতটা বেগ দিতে পারে! যার দিকে নজর রয়েছে সকলের।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!