এখন পড়ছেন
হোম > জাতীয় > চরম পর্যায়ে বিজেপির গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব, এবার কি এই রাজ্যেও সরকার হারাতে চলেছে গেরুয়া শিবির! জোর শোরগোল

চরম পর্যায়ে বিজেপির গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব, এবার কি এই রাজ্যেও সরকার হারাতে চলেছে গেরুয়া শিবির! জোর শোরগোল



লোকসভা নির্বাচনে সারাদেশে বিজেপি অভূতপূর্ব ফলাফল করেছিল। তবে সব সময় নির্বাচনী ফলাফল শেষ কথা বলে না। একটি নির্বাচনের ফলাফল কোনো একটি রাজনৈতিক দলের পক্ষে গেলেই যে পরবর্তীতে সেই রাজনৈতিক দলের উত্থান ঘটবে, এমন নজির রাজনীতিতে নেই। ফলাফল যাই হোক না কেন, দলে শৃঙ্খলা রাখা অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি ভালো ফলাফল করলেও বর্তমানে বিভিন্ন জায়গায় তাদের অন্তর্কোন্দল প্রকাশ্যে চলে আসছে। যা নিঃসন্দেহে ভারতীয় জনতা পার্টির অস্বস্তিকে তীব্র থেকে তীব্রতর করে তুলতে শুরু করেছে। ইতিমধ্যেই মহারাষ্ট্র, ঝাড়খণ্ডের মত রাজ্যগুলিতে ক্ষমতা হাতছাড়া হয়েছে বিজেপির।

আর এবার ত্রিপুরায় বিজেপি সরকার থাকা সত্ত্বেও, দুই হেভিওয়েট বিজেপি নেতার দ্বন্দ্বে উত্তপ্ত হল সেখানকার রাজনীতি। বস্তুত, ত্রিপুরার বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবের সঙ্গে সেই রাজ্যের প্রাক্তন বিরোধী দলনেতা তথা প্রাক্তন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সুদীপ রায় বর্মনের দ্বৈরথের কথা কারোরই অজানা নয়। আর এবার নিজের দলের পরিচালিত সরকারের বিরুদ্ধে রীতিমতো মিছিল করে বিক্ষোভ দেখালেন সেই সুদীপ রায় বর্মন। যা ত্রিপুরায় বিজেপি সরকার এবং তার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবকে প্রবল অস্বস্তিতে ফেলে দিল বলে মত রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের।

ফেসবুকে আমাদের নতুন ঠিকানা, লেটেস্ট আপডেট পেতে আজই লাইক ও ফলো করুন – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের টেলিগ্রাম গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের সিগন্যাল গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে ত্রিপুরার প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতির পদ সামলেছেন এই সুদীপ রায় বর্মন। কিন্তু প্রায় দুই বছর আগে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ওপর বীতশ্রদ্ধ হয়ে তিনি কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করেন। তারপর তিনি ত্রিপুরায় বিরোধী দলনেতা হন। কিন্তু যত দিন গেছে, ততই ত্রিপুরায় তৎকালীন বাম সরকারের বিরুদ্ধে নিজেদের শক্তি প্রদর্শন করে দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসতে দেখা গেছে ভারতীয় জনতা পার্টিকে। যার পরবর্তীতে তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে নাম লেখান সুদীপ রায় বর্মন। বর্তমানে ত্রিপুরায় বিজেপি সরকার রয়েছে।

যার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব। আর এই বিপ্লব দেবের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই সম্পর্ক খারাপ সুদীপবাবুর। যার ফলে এবার নিজের দলের নেতা তথা মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে সুদীপবাবুর রাস্তায় নামাকে রীতিমত অস্বস্তির চোখেই দেখছে গোটা পদ্মফুল শিবির। সূত্রের খবর, পরিস্থিতি এতটাই বেগতিক আকার ধারণ করেছে যে, এদিন নারী নির্যাতন ইস্যুতে আগরতলায় নিজের দলের সরকারের বিরুদ্ধেই একটি মিছিল করতে দেখা যায় বিজেপি সুদীপ রায় বর্মনকে।

জানা যায়, এই মিছিলে এদিন জনসমাগম ছিল চোখে পড়ার মত। আর সেই মিছিল থেকেই নিজের দলের পরিচালিত সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দাগতে দেখা যায় এই বিজেপি নেতাকে। তবে একপক্ষ শুধুমাত্র বিক্ষোভ করলে তাও না হয় মেনে নেওয়া যেত। কিন্তু সুদীপ রায় বর্মন নিজের দলের সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করার পরেই পাল্টা বিপ্লব দেবের অনুগামীরা ময়দানে নেমে পড়েন। যেখানে মুখ্যমন্ত্রীর তরফে মহিলা মোর্চা রাস্তায় নেমে সেই সুদীপ রায় বর্মনকে কটাক্ষ করে পাল্টা মিছিল করেন। আর এই মিছিল পাল্টা মিছিলে রীতিমতো উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ত্রিপুরায় বিজেপির অন্দরমহল।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এমনিতেই সারা দেশজুড়ে বিজেপি নাগরিকত্ব সংশোধনী ইস্যুতে বিরোধীদের সাঁড়াশি চাপে কিছুটা হলেও ব্যাকফুটে। পাশাপাশি বেশকিছু রাজ্য বর্তমানে হাতছাড়া হয়ে গিয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টির। তাই এই পরিস্থিতিতে যদি বিজেপিতে শৃঙ্খলা না থাকে, তাহলে তা তাদের পক্ষে অত্যন্ত অস্বস্তিকর হবে।

কিন্তু এবার ত্রিপুরায় যেভাবে বিজেপির দুই শীর্ষ নেতা নিজেদের মধ্যে গন্ডগোল জড়িয়ে পড়লেন, তাতে শেষপর্যন্ত ত্রিপুরাতেও বিজেপির ভাঙ্গন ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন একাংশ। এখন শেষ পর্যন্ত বিপ্লব দেব বনাম সুদীপ রায় বর্মনের এই দ্বন্দ্ব মেটাতে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব কোনোরূপ হস্তক্ষেপ করে কিনা, সেদিকেই নজর থাকবে সকলের।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!