এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > বিধানসভা ভোটে বিজেপির আসন কোন সমীকরণে বাড়বে জানালেন দিলীপ ঘোষ

বিধানসভা ভোটে বিজেপির আসন কোন সমীকরণে বাড়বে জানালেন দিলীপ ঘোষ



নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন নিয়ে ইতিমধ্যেই জোর তরজা সৃষ্টি হয়েছে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস বনাম বিরোধী দল ভারতীয় জনতা পার্টির মধ্যে। প্রথম দিন থেকেই এই আইন লাগু হওয়ার সাথে সাথে তার চরম বিরোধিতা করতে শুরু করেছে তৃনমূল কংগ্রেস ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একাধিক পদযাত্রা সভা-সমিতির মধ্যে দিয়ে এই আইন বাতিলের দাবি জানিয়েছেন তিনি। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূল কংগ্রেস এই আইনের বিরোধিতা করায় তাদের পাল্টা কটাক্ষ করে অনুপ্রবেশকারীদের আশ্রয় দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছিলেন দীলিপ ঘোষ।

আর এবার নিজের দাবির একধাপ উপরে উঠে সেই অনুপ্রবেশকারী মুসলিমদের দেশ থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। সূত্রের খবর, মঙ্গলবার কোচবিহারের তুফানগঞ্জে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের সমর্থনে অভিনন্দন যাত্রায় অংশগ্রহণ করেন মেদিনীপুরের বিজেপি সাংসদ দিলীপ ঘোষ। আর সেখানেই বাংলায় অনুপ্রবেশকারীদের বাড়বাড়ন্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

আর তারপরই সেই অনুপ্রবেশকারীদের দেশ থেকে তাড়ানোর হুঁশিয়ারি দিতে দেখা যায় দিলীপ ঘোষকে। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ থেকে আসা অনুপ্রবেশকারী মুসলমানদের তাড়িয়ে দেওয়া হবে। যদি তারা এই রাজ্যের ভোটার হয়ে থাকেন, তাহলে সেই ভোটার কার্ড বাতিল করে তাদের তাড়ানো হবে। পশ্চিমবঙ্গে 1 কোটি অনুপ্রবেশকারী রয়েছে। যার মধ্যে 60 লক্ষ অনুপ্রবেশকারী তৃণমূলকে গত লোকসভায় ভোট দিয়েছে। রোহিঙ্গা এবং অনুপ্রবেশকারীদের ভোট কেটে দিলে তৃণমূলের আর কিছু থাকবে না।”


দেশে যে কোনো দিন ব্যান হয়ে যেতে পারে হোয়াটস্যাপ। তাই এখন থেকে আমরা শুধুমাত্র টেলিগ্রাম ও সিগন্যাল অ্যাপে। প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার নিউজ নিয়মিতভাবে পেতে যোগ দিন –

টেলিগ্রাম গ্রূপটাচ করুন এখানে

সিগন্যাল গ্রূপটাচ করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

বিশ্লেষকদের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নাগরিকত্ব আইনের বিরোধিতায় আওয়াজ তুলে বিজেপিকে ইতিমধ্যেই বিপাকে ফেলে দিয়েছেন। তাই এই পরিস্থিতিতে এই আইনের সমর্থনে সাধারন মানুষের জনাদেশ নিয়ে আসতে অনুপ্রবেশকারীরা “তৃণমূলের আশ্রয়ে আছে” বলে দাবি করে তৃণমূলকে বিপাকে ফেলার চেষ্টা করলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি বলে মত একাংশের। এদিকে এদিন কোচবিহারের তুফানগঞ্জের এই সভা থেকে রাজ্যের উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষকেও কটাক্ষ করেন দিলীপ ঘোষ।

তিনি বলেন, “আশা করেছিলাম রবিবাবু অভিনন্দন যাত্রা দেখবেন। পরে শুনলাম, তিনি অসুস্থ। যাই হোক, আবার তুফানগঞ্জে মিছিল হবে। আশা করি, সেই মিছিলে পুষ্পবৃষ্টি হবে। লোকসভা ভোটের পর তৃণমূল কোমায় চলে গিয়েছে। পুলিশকে ধরে আবার ওরা ওঠার চেষ্টা করছে। কিন্তু ভয় পাওয়ার কিছু নেই। বিধানসভা ভোটের আগে তৃণমূলকে খুঁজে পাওয়া যাবে না।” কিন্তু যেভাবে তিনি বিতর্কিত মন্তব্য করে চলেছেন, তাতে দিলীপ ঘোষ যে কথাই বলুন না কেন, তা তো ব্যাকফুটে চলে যাচ্ছে!

এদিন এই প্রসঙ্গেও নিজের বিতর্কিত মন্তব্যের স্বপক্ষে থেকে নিজের বক্তব্য পেশ করেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি। তিনি বলেন, “ভাষা নিয়ে চারিদিকে নানা কথা হচ্ছে। সন্তান হারানো মায়ের মুখ, স্বামী হারানো স্ত্রীর মুখ দেখে কারও মুখ থেকে ভালো ভাষা বের হয় না।” তবে রবীন্দ্রনাথবাবুর গড়ে দাঁড়িয়ে দিলীপ ঘোষ তৃণমূলকে প্রবল কটাক্ষ করলেও, তার পাল্টা প্রতি উত্তর দিতে ছাড়েনি তৃণমূল কংগ্রেস।

এদিন এই প্রসঙ্গে রাজ্যের উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ বলেন, “ভাড়াটে লোক এনে বিজেপি মিছিল করেছে। আর দীলিপবাবুর ভাষার জবাব মানুষ নির্বাচনের মাধ্যমেই দেবে।” সব মিলিয়ে এবার উত্তরবঙ্গের মাটি থেকে তৃণমূলকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!