এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > টিকিট না জুটতেই রাজ্য বিজেপিতে ক্ষোভের পাহাড় – ভোটে না নামার সিদ্ধান্ত আরেক শীর্ষ রাজ্যনেত্রীর

টিকিট না জুটতেই রাজ্য বিজেপিতে ক্ষোভের পাহাড় – ভোটে না নামার সিদ্ধান্ত আরেক শীর্ষ রাজ্যনেত্রীর



আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির প্রথম দফার প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পরই বাংলার অনেক লোকসভা আসন থেকে প্রার্থী হতে না পেরে প্রবল বিক্ষোভ করতে দেখা গেছে বিজেপির একাংশকে। এমনকি এই প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পরই দলের অস্বস্তি বাড়িয়ে বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের কাছে নিজের ইস্তফাপত্র পাঠিয়ে দিয়েছিলেন রাজ্য বিজেপির সহ-সভাপতি রাজকমল পাঠক। আর এবার হুগলি লোকসভা কেন্দ্রে বিজেপির প্রার্থী হওয়া লকেট চট্টোপাধ্যায়কে নিয়ে দলের একাংশের ক্ষোভে তীব্র অস্বস্তিতে গেরুয়া শিবির।

সূত্রের খবর, বাইরের লোককে কোনোভাবেই প্রার্থী হিসেবে মানা যাবে না বলে এদিন প্রকাশ্যেই সেই লকেট চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে মুখ খুলে সরব হতে দেখা গেল রাজ্য বিজেপির আরও এক সহ-সভানেত্রী রাজকুমার কেশরীকে। এদিন তিনি বলেন, “বাইরের প্রার্থীকে আমি কোনভাবেই মানবো না। দলের রাজ্য সভাপতি নিজের এলাকা দখলে রাখতে প্রার্থী হয়েছেন।

অথচ অন্যের এলাকায় লোক ঢুকিয়ে দিয়ে উনি মজা দেখছেন। হুগলি লোকসভা কেন্দ্রের সংগঠনটা আমার নিজের হাতে তৈরি। তাই জেলা থেকেই কাউকে প্রার্থী করা হবে বলে আশা করেছিলাম। কিন্তু যেভাবে বাইরে থেকে নিয়ে এসে একজনকে প্রার্থী করা হল আমরা তা কোনোভাবেই মেনে নেব না। তাই আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে কাজ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”


WhatsApp-এ প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার খবর পেতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া গ্রূপের লিঙ্ক – টেলিগ্রামফেসবুক গ্রূপ, ট্যুইটার, ইউটিউব, ফেসবুক পেজ

আমাদের Subscribe করতে নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।

এবার থেকে আমাদের খবর পড়ুন DailyHunt-এও। এই লিঙ্কে ক্লিক করুন ও ‘Follow‘ করুন।



আপনার মতামত জানান -

অন্যদিকে রাজ্য বিজেপির সহ-সভানেত্রী রাজকুমার কেশরীর তোপের মুখে এদিন পড়তে দেখা গেল রাজ্য বিজেপির অন্যতম নেতা সায়ন্তন বসু, দীপাঞ্জন গ্রহ এবং হুগলি জেলা বিজেপির সভাপতি সুবীর নাগকেও। এদিন তিনি বলেন, “হুগলি কেন্দ্রে আমার প্রার্থী হওয়া নিশ্চিত থাকলেও জেলা বিজেপির সভাপতি সুবীর নাগের ইন্ধনে আমার হাতে তৈরি এলাকায় বাইরের লোককে প্রার্থী করা হয়েছে। নির্বাচনেই এর যোগ্য জবাব দেওয়া হবে।”

এদিকে আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে যখন বাংলাকে টার্গেট করে বাংলার 42 টি লোকসভা আসনের মধ্যে 22 থেকে 23 টি আসন নিজেদের দখলে রাখার জন্য রাজ্য নেতৃত্বকে নির্দেশ দিচ্ছে বিজেপি কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব, ঠিক তখনই প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পর যেভাবে রাজ্যের বিভিন্ন লোকসভা কেন্দ্রের হেভিওয়েট নেতা নেত্রীরা রাজ্য বিজেপির নেতা নেত্রীদের বিরুদ্ধে অসন্তোষ প্রকাশ করছেন, তাতে কি করে আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে তারা বৈতরণী পার হবে! তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও উঠতে শুরু করেছে নানা প্রশ্ন।

তবে রাজকুমার কেশরীর প্রকাশ্যে এহেন বিদ্রোহ ঘোষণা করলেও লোকসভা নির্বাচনে সব ঠিক হয়ে যাবে বলে আশাবাদী হুগলি জেলা বিজেপির সভাপতি সুবীর নাগ। এদিন তিনি বলেন, “রাজকুমারী দেবী রাজ্যের সহ-সভানেত্রী হয়ে সরাসরি দলের সভাপতির বিরুদ্ধে যেভাবে অভিযোগ তুলেছেন তা সত্যিই দুঃখজনক। আশা করি উনি এবারের নির্বাচনে একসঙ্গে কাজ করবেন। আর যদি না করেন তাহলেও বিন্দুমাত্র ক্ষতি হবে না। কারণ এখানে দলই শেষ কথা।”

তবে প্রকাশ্যে এইভাবে তাকে প্রার্থী করা নিয়ে হুগলি লোকসভা কেন্দ্রের বিজেপি নেত্রী রাজকুমারী কেশরী যেভাবে বিদ্রোহ ঘোষণা করছেন, তাতে কি তার জয় কাটা হয়ে দাঁড়াল না? এদিন এই প্রসঙ্গে হুগলি লোকসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী লকেট চট্টোপাধ্যায় বলেন, “প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছা অনেকের থাকতেই পারে। কিন্তু দল যা সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা সকলকেই মানতে হবে। সবাইকে একসঙ্গে নিয়ে চলার চেষ্টা করব।”

সব মিলিয়ে এবার রাজকমল পাঠকের পর হুগলি লোকসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী লকেট চট্টোপাধ্যায়কে নিয়ে প্রকাশ্যে দলের বিরুদ্ধেই বিদ্রোহ ঘোষণা করতে দেখা গেল রাজ্য বিজেপির সহ-সভানেত্রী রাজকুমারী কেশরীকে।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!