এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > পুরুলিয়া-ঝাড়গ্রাম-বাঁকুড়া > গেরুয়াকে টেক্কা দিতে সাদা গামছা নিয়ে শাসকদলের দাপাদাপি, পুরুলিয়াতে এবারেও “ভোট করল” বজরং দল

গেরুয়াকে টেক্কা দিতে সাদা গামছা নিয়ে শাসকদলের দাপাদাপি, পুরুলিয়াতে এবারেও “ভোট করল” বজরং দল



যেকোনো ভোটেই নির্বাচনের দিন প্রায় প্রতিটা রাজনৈতিক দলই একে অপরের বিরুদ্ধে ভোটারদের প্রভাবিত করার অভিযোগ তোলেন। আর ষষ্ঠদফার লোকসভা নির্বাচনে পুরুলিয়ায় সেই একই অভিযোগে একে অপরের বিরুদ্ধে সরব হল শাসক দল তৃণমূল এবং বিরোধী দল বিজেপি।

সূত্রের খবর, রবিবার ভোট চলাকালীন পুরুলিয়ার বিভিন্ন প্রান্তে ভোটারদের মধ্যে টিফিন বিলি করতে দেখা যায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মীদের। কোথাও মুড়ি ঘুগনি, তো কোথাও বা ছোলা গুড় – বুথের 100 মিটারের মধ্যে এইভাবে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মীদের পক্ষ থেকে ভোটারদের খাবার বিতরণ করা হলেও সেই ভাবে কোনো ভূমিকাই নিতে দেখা গেল না নির্বাচন কমিশন বা পুলিশকে বলে অভিযোগ অনেকের।

জানা গেছে, এদিন বলরামপুরের 239/235 নম্বর বুথে ভোটগ্রহণ কেন্দ্রের 100 মিটারের মধ্যেই বিজেপির পক্ষ থেকে ভোটারদের মুড়ি ঘুগনি বিলি করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। কেন এভাবে খাবার বিলি করা হচ্ছে? এদিন এই প্রসঙ্গে স্থানীয় বিজেপি কর্মী নারায়ন বাউরি এবং আশিষ মাহাতোরা বলেন, “দলের পক্ষ থেকে সকালবেলা ভোটারদের ছোলা সেদ্ধ খাওয়ানো হয়। তবে দুপুরের পরে তা বন্ধ করে দেওয়া হয়।”

এদিকে বিজেপির পক্ষ থেকে যে এই ভোটের দিন ছোলা সেদ্ধ এবং মুড়ি বিক্রি করা হয়েছে তা জানিয়েছেন এই গ্রামেরই বাসিন্দা সন্ধ্যারানী মাহাতো এবং জয়ন্তী মাহাতোরা। তবে বিজেপির বিরুদ্ধে যখন খাবারবিলির অভিযোগ উঠছে, ঠিক তখনই একই অভিযোগ উঠেছে শাসক দল তৃণমূলের বিরুদ্ধেও। জানা গেছে, তৃণমূলের ক্যাম্প অফিস থেকেও একাধিক জায়গায় এদিন ছোলা গুড়, গুড়ের লাড্ডু আবার কোথাও শুধু ছোলা এবং জল বিলি করা হয়েছে।


WhatsApp-এ প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার খবর পেতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া গ্রূপের লিঙ্ক – টেলিগ্রামফেসবুক গ্রূপ, ট্যুইটার, ইউটিউব, ফেসবুক পেজ

আমাদের Subscribe করতে নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।

এবার থেকে আমাদের খবর পড়ুন DailyHunt-এও। এই লিঙ্কে ক্লিক করুন ও ‘Follow‘ করুন।



আপনার মতামত জানান -

এদিন এই ব্যাপারে তৃণমূলের বিরুদ্ধে সরব হয়ে পুরুলিয়া জেলা বিজেপির সভাপতি বিদ্যাসাগর চক্রবর্তী বলেন, “বিজেপি টিফিন খাইয়েছে। সব দলই এটা করে থাকে। তবে তৃণমূল টিফিন খাওয়ানোর নামে আর কি কি করেছে তারও আমরা খেয়াল রেখেছি। ওরা এদিনও ভোট কেনার চেষ্টা করেছে।” তবে কোথাও তৃনমূলের পক্ষ থেকে দলগতভাবে এরকম কোনো কর্মসূচি নেওয়া হয়নি বলে জানিয়ে দিয়েছেন পুরুলিয়া জেলা তৃণমূল সভাপতি তথা মন্ত্রী শান্তিরাম মাহাতো।

আর ভোটের দিন খাবার নিয়ে ভোটারদের প্রভাবিত করার অভিযোগে যখন একে অপরের বিরুদ্ধে সরব হচ্ছে শাসক-বিরোধী দুই শিবির, ঠিক তখনই এদিন পুরুলিয়ার বলরামপুরের একাধিক বুকে শাসক দলের সাদা গামছাধারীদের সঙ্গে লড়াইয়ে নামতে দেখা গেল বিজেপির গেরুয়া গামছাধারীদের।

সূত্রের খবর, এদিন ভোট চলাকালীন ফুলচাঁদ হাইস্কুলের সামনে বিজেপির পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য বিরিঞ্চি কুমার সহ অন্যান্যরা অভিযোগ করেন যে, ভোটগ্রহণ কেন্দ্রের ভেতরে সাদা গামছা গলায় নিয়ে ভোটারদের প্রভাবিত করছেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। আর এরপরই তৃণমূলের নেতাকর্মীদের বুথ থেকে বাইরে বের করে দেওয়ার দাবি জানালে পুলিশের পক্ষ থেকে সকলকে বের করে দেওয়া হয়।

অন্যদিকে এদিন পুরুলিয়ার বলরামপুরের অধিকাংশ বুথে বিজেপি কর্মীদের গেরুয়া গামছা গলায় দিয়ে দাপিয়ে বেড়াতে দেখা যায় বলে অভিযোগ ওঠে শাসকদলের পক্ষ থেকে। এদিন এই প্রসঙ্গে বিজেপির বিরিঞ্চি কুমার বলেন, “আমরা একটি গাড়ি নিয়ে ঘুরেছি। কিন্তু ওরা সাদা গামছা গলায় দিয়ে ভোটারদের ভোট কেন্দ্রের ভেতরে প্রভাবিত করেছিল। আমরা তার প্রতিবাদ করেছি।”

অন্যদিকে পাল্টা এই ব্যাপারে বলরামপুর ব্লক তৃণমূল সভাপতি অঘোর হেমব্রম বলেন, “তৃণমূল কর্মীরা রোদের তাপ থেকে বাঁচতে সাদা গামছা ব্যবহার করেছে। আর বিজেপি নিজেদের জাহির করতে গেরুয়া গামছা নিয়ে ঘুরেছে।” সবমিলিয়ে সাদা বনাম গেরুয়া গামছার টক্করে ভোটযুদ্ধ জমে উঠল পুরুলিয়ায়।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!