এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > দায়িত্ব পেয়ে নিজের লোকেদের আধিপত্য বিস্তার, পদ নিয়ে চরম দ্বন্দ্ব বিজেপিতে!

দায়িত্ব পেয়ে নিজের লোকেদের আধিপত্য বিস্তার, পদ নিয়ে চরম দ্বন্দ্ব বিজেপিতে!



গত লোকসভা নির্বাচনে কিছুটা হলেও সাফল্য পেয়েছিল ভারতীয় জনতা পার্টি। কিন্তু বিজেপি সাফল্য পাওয়ার পর থেকেই যেভাবে তাদের নেতা কর্মীদের মধ্যে পদ পাওয়ার স্পৃহা জেগে উঠেছে এবং তাকে কেন্দ্র করে যেভাবে একে অপরের সাথে দ্বন্দ্বে মশগুল রয়েছেন, তাতে নিঃসন্দেহে বিজেপির অস্বস্তি বাড়ছে। দলীয় নেতৃত্বের পক্ষ থেকে শৃংখলার জন্য বার্তা দেওয়া হলেও, কোনমতেই তা কানে নিতে চাইছেন না জেলা থেকে নিচু স্তরের নেতৃত্বরা।

অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রে পদ পেয়েই নিজের অনুগামীদের সমস্ত পদে বসানোর শুরু করেছেন অনেক জেলা সভাপতি। যা নিঃসন্দেহে সেই জেলার প্রাক্তন বনাম বর্তমান সভাপতির মধ্যকার দ্বন্দ্বকে আরও জোরালো করছে। সূত্রের খবর, এবার বিজেপির নদীয়া উত্তর সাংগঠনিক জেলার সভাপতির পদে দায়িত্ব পেয়েই নিজের অনুগামীদের জায়গা করে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করে দিলেন আশুতোষ ঘোষ। জানা গেছে, নতুন কমিটিতে যাদের জায়গা দেওয়া হয়েছে তারা একেবারেই নতুন মুখ। সেদিক থেকে পুরনো কমিটিতে মহাদেব সরকারের ঘনিষ্ঠরা জায়গা পেলেও এই কমিটিতে তাদের আদৌ জায়গা দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ একাংশের।


ফেসবুকে আমাদের নতুন ঠিকানা, লেটেস্ট আপডেট পেতে আজই লাইক ও ফলো করুন – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের টেলিগ্রাম গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের সিগন্যাল গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, গত 2018 সালের জানুয়ারি মাসে অবিভক্ত নদীয়া জেলা কমিটির বিজেপির সভাপতির পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল এই আশুতোষ ঘোষকে। নদীয়া জেলাকে দুটি সাংগঠনিকভাবে বিভক্ত করে উত্তর সাংগঠনিক জেলায় মহাদেব সরকার এবং দক্ষিণ সাংগঠনিক জেলা জগন্নাথ সরকারকে সভাপতি করে ভারতীয় জনতা পার্টি। পরবর্তীতে জগন্নাথবাবু সাংসদ হয়ে গেলে তাকে জেলা সভাপতির পদ থেকে সরিয়ে দিলেও, মহাদেববাবুকে তার পদে রেখে দেওয়া হয়। তবে হঠাৎ সেই মহাদেব সরকারকে তার পদ থেকে সরিয়ে সেখানে ফের দায়িত্ব দেওয়া হয় আশুতোষ ঘোষকে। আর আশুতোষবাবু দায়িত্ব পাওয়ার পর, যেভাবে মহাদেববাবুর ঘনিষ্ঠদের ছাটতে শুরু করেছেন এবং যেভাবে নতুন কমিটি গঠন করে, সেখানে নতুন লোকদের এনেছেন, তাতে রীতিমত ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছেন বিজেপির অনেক নেতাকর্মী।

সূত্রের খবর, নদিয়া উত্তর সাংগঠনিক জেলার কমিটিতে যে তিনজনকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে, সেই অর্জুন বিশ্বাস, অপর্ণা নন্দী এবং রঞ্জন অধিকারী মহাদেব সরকারের অত্যন্ত বিরোধী বলেই পরিচিত। তাই তাদেরকে এই কমিটিতে জায়গা দিয়ে, আশুতোষবাবু মহাদেববাবুর বিরুদ্ধে লড়তে চাইলেন বলেই মনে করছে একাংশ। এদিন এই প্রসঙ্গে জেলা কমিটির সহ সভাপতির পদ হারানো সন্দীপ গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, “কেন সেবার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই আশুতোষ পালকে সরিয়ে দেওয়া হল, আবার এর মধ্যে কি এমন ঘটল যে মহাদেব সরকারকে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই সরিয়ে আগেরজনকে ফিরিয়ে আনা হল, সেটাই বুঝতে পারছি না। তবে পদে থাকি, বা না থাকি দল করে যাব।”

কিন্তু যেভাবে তিনি বিরোধী গোষ্ঠির নেতাকর্মীদের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিচ্ছেন, তা কি ঠিক? এতে তো দলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব আরও বাড়বে! এদিন এই প্রসঙ্গে নদিয়া উত্তর সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সভাপতি আশুতোষ পাল বলেন, “নতুন সভাপতি হলে নতুন জেলা কমিটিও তৈরি হয়। যারা দায়িত্বে ছিলেন, তারা এবং যারা নতুন দায়িত্ব পেলেন, তারা সকলেই দলের একনিষ্ঠ কর্মী। নতুন পুরনো বলে কিছু হয় না। সকলে মিলেই তৃণমূলের অত্যাচার থেকে মানুষকে রক্ষা করব।”

এদিকে এই ব্যাপারে মহাদেববাবুর সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা হলেও, তা সম্ভব হয়নি। তবে আশুতোষবাবু যে কথাই বলার চেষ্টা করুন না কেন, জেলা কমিটির পদ নিয়ে বিজেপিতে যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়েছে, তা যে অতি সহজে মিটবে না, তা বুঝতে পারছেন প্রত্যেকেই। এখন এই দ্বন্দ্ব ভয়াবহ আকার নেওয়ার আগে, রাজ্য কমিটির পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয় কিনা, সেদিকেই নজর থাকবে সকলের।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!