এখন পড়ছেন
হোম > বিশেষ খবর > সবং উপনির্বাচনের আগে বিরোধীদের হাতে বড় ‘অস্ত্র’ তুলে দিল শাসকদল

সবং উপনির্বাচনের আগে বিরোধীদের হাতে বড় ‘অস্ত্র’ তুলে দিল শাসকদল



তৃণমূল কংগ্রেস ত্যাগ করে বিজেপিতে যোগদানের পর বিভিন্ন সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মুকুল রায় তাঁর দল ছাড়ার পিছনে অনেক কারণ বলেছেন, তারমধ্যে অন্যতম হল শাসকদলের মধ্যে ক্রমে ‘পরিবারতন্ত্র’ কায়েম হয়ে ওঠা। সবাই তখন ভেবেছিলেন তাঁকে দলের দুনম্বর জায়গা থেকে সরিয়ে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের পরিবারের লোককে দলে বেশি গুরুত্ত্ব দিচ্ছেন বলে মুকুল রায় ইঙ্গিত করছেন। কিন্তু মুকুলবাবু স্পষ্ট করেছিলেন তিনি কোনো বিশেষ ব্যক্তির দিকে আঙ্গুল তোলেননি, তিনি বলছেন দলে সামগ্রিক পরিস্থিতির কথা।
আর সবং বিধানসভা উপনির্বাচনে শাসকদল প্রার্থী ঘোষণা করতেই মুকুল রায় সহ বিরোধীরা বড় অস্ত্র হাতে পেয়ে গেলেন যা কিনা তুলে দিল শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস নিজে। কেননা সবংয়ে প্রার্থী করা হয়েছে মানস ভূঁইয়ার পত্নী গীতা ভূঁইয়াকে। প্রথমত মানস ভূঁইয়া নিজে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ, দ্বিতীয়ত মানসবাবু এই সবং থেকেই ২০১৬ তে কংগ্রেসের টিকিটে জিতে বিধায়ক হন, পরে রাজ্যসভার সাংসদ নির্বাচিত হওয়ায় বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দেন, যার ফলেই এই উপনির্বাচন। কিন্তু মানসবাবুর ছেড়ে যাওয়া আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তাঁর স্ত্রী, মানে সেই পরিবারতন্ত্র। ২০১৬ তে এখানে তৃণমূলের টিকিটে লড়েছিলেন নির্মল ঘোষ, যিনি ‘কঠিন’ আসন হওয়া সত্ত্বেও যথেষ্ট ভালো লড়াই দিয়েছিলেন, কিন্তু ‘পরিবারতন্ত্রের’ কাছে হেরে গিয়ে পুনরায় টিকিট পেলেন না বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা। আর মুকুলবাবুর মত দুঁদে রাজনীতিক এর পূর্ণ সদ্ব্যবহার আগামী দিনে করবেন না হতে পারে না, সবং নির্বাচনে তো বটেই পরবর্তীকালেও তিনি অন্য তৃণমূলীদের কাছে বার্তা দিতে পারেন যে তৃণমূল কংগ্রেসে ‘কর্মীদের’ জায়গায় পরিবারতন্ত্র বেশি যোগ্যতা রাখে, আর এই বার্তা সামনে রেখেই তিনি আরো বেশি দল ভাঙ্গানোর চেষ্টা করবেন বলেই রাজনৈতিক মহলের ধারণা। আর তাই গীতাদেবীর নাম ঘোষণা করায় যত না উল্লাস স্থানীয় তৃণমূল কর্মীদের তার থেকে বেশি উচ্ছাস বিরোধী শিবিরে।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!