এখন পড়ছেন
হোম > রাজনীতি > তৃণমূল > Big Breaking উত্তরসূরি অভিষেকের হাত ধরেই তৃনমূলে পূর্বসূরি মুকুল, মায়াদৃষ্টি মমতার!

Big Breaking উত্তরসূরি অভিষেকের হাত ধরেই তৃনমূলে পূর্বসূরি মুকুল, মায়াদৃষ্টি মমতার!



প্রিয় বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট –  রাজনৈতিক মহলে বারবার প্রশ্ন উঠেছে, মূলত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে মতান্তরের জন্যই তৃণমূল কংগ্রেস ত্যাগ করেছিলেন মুকুল রায়। এই নিয়ে মুকুল রায়ের কথাতেও ধন্ধ বেড়েছে রাজনৈতিক মহলে। বিজেপিতে যোগদান করার পর কোনো একটি বিশেষ সভা থেকে মুকুল রায় বলেছিলেন, “তৃণমূল কংগ্রেস বর্তমানে দল নেই। সেটা পিসি-ভাইপোর কোম্পানিতে পরিণত হয়েছে।” আর এর মধ্যে দিয়েই সাংবাদিক মহলের কাছে কার্যত পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল, মূলত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কারণেই তৃণমূল কংগ্রেসে থাকতে পারেননি মুকুল রায়। আর তাই তিনি ভারতীয় জনতা পার্টির ছত্রছায়ায় এসেছেন।

কিন্তু আজ অবশেষে তৃণমূল কংগ্রেসের যোগদানের সময় সেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত থেকেই উত্তরীয় গলায় নিতে দেখা গেল ভারতীয় জনতা পার্টির সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি মুকুল রায়কে। যার কারণে বিশেষজ্ঞদের মনে প্রশ্ন উঁকিঝুঁকি মারতে শুরু করেছে, তাহলে কি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কোনোরকম মতান্তর ছিল না মুকুল রায়ের?

নাকি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ফিগার তৃণমূল কংগ্রেসে এতটাই বেড়ে গিয়েছে যে, বর্তমানে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হতে গেলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে মেনেই রাজনীতিতে থাকতে হবে। আর সেই কারণেই পুরনো অবস্থানের 180 ডিগ্রি ঘুরে বর্তমানে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সুসম্পর্কের রাস্তায় দুঁদে রাজনীতিবিদ মুকুল রায়।

বস্তুত, আজ শুক্রবার সমস্ত জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে তৃণমূল ভবনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে ঘাসফুল শিবিরে নাম লেখান মুকুল রায়। বিগত দিনে ভারতীয় জনতা পার্টিতে থেকে তিনি একাধিকবার আওয়াজ তুলেছিলেন, তৃণমূল কংগ্রেসকে বাংলার বুক থেকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার জন্য। কিন্তু সময় যত গড়িয়েছে, একদিকে যেমন মুকুল রায়ের সেই কথার প্রভাব অনেকটা কমে গেছে, অন্যদিকে তেমনই 2021 সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টি মনমত ব্যবহার করতে পারেনি সেই মুকুল রায়কে।

এমনকি মুকুল রায় যে সমস্ত জায়গায় তার সাংগঠনিক শক্তি প্রদর্শন করতে পারত, সেই সমস্ত জায়গাতেও, তাকে শক্তি প্রদর্শন করতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ মুকুলবাবুর ঘনিষ্ঠ একাংশের। সেই কারণে ভারতীয় জনতা পার্টি এবারের নির্বাচনের ফল যখন আশানুরূপ হয়নি, যে সময় গোটা ভারতীয় জনতা পার্টির মধ্যে নীচুতলার কর্মী থেকে শুরু করে বঙ্গ বিজেপি নেতৃত্বদের মধ্যে দলত্যাগের হিড়িক পড়ে গেছে, সেই সময় সবার আগে সকলকে চমকে দিয়ে সবথেকে বড় উইকেট পড়ে গেল ভারতীয় জনতা পার্টির বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

কারণ 2018 সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময় থেকে প্রত্যেকের মতবাদ ছিল, মুকুল রায়ের কারণে তৃণমূলে ভাঙ্গন ধরিয়ে একের পর এক বিজয় এসেছে ভারতীয় জনতা পার্টির। আর তা আরও বদ্ধমূল হয়, 2019 সালের লোকসভা নির্বাচনে। যখন তৃণমূল কংগ্রেস 42 এ 42 এর স্বপ্ন দেখছিল, সেই সময় তৃণমূলের স্বপ্নকে কার্যত নস্যাৎ করে দিয়ে ভারতীয় জনতা পার্টির পক্ষে 18 টি আসন জয়যুক্ত করিয়ে দেন তৃণমূলের একদা চাণক্য বলে পরিচিত মুকুল রায়।

আমাদের নতুন ফেসবুক পেজ (Bloggers Park) লাইক ও ফলো করুন – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের টেলিগ্রাম গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের সিগন্যাল গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

আর এরপরই বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের আস্থা বাড়ে মুকুল রায়ের প্রতি। কিন্তু যত দিন গেছে, তৃণমূল কংগ্রেস থেকে তাবড় তাবড় নেতা যোগ দিয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টিতে। আর সেই সমস্ত নেতা-নেত্রীরা বিজেপিতে যোগদান করার পরে এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি নিয়ে সচেতন হওয়ার পরেই বিজেপিতে গুরুত্ব কমতে থাকে মুকুল রায়ের। যার কারণে কৃষ্ণনগর উত্তরে মুকুল রায়কে আটকে রেখে ভোট পরিচালনা করেছিল ভারতীয় জনতা পার্টি।

যার পরিণাম দেখেছে গোটা বাংলা। একদিকে যেমন প্রবল শক্তি নিয়ে রাজ্যে পুনর্বার ক্ষমতায় বসেছে তৃণমূল কংগ্রেস, অন্যদিকে তেমনই ভারতীয় জনতা পার্টির বিজয়রথ 77-এ থমকে গিয়েছে। আর এরপরই সমস্ত রকম জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে আজ তৃনমূল কংগ্রেসে যোগদান করলেন মুকুল রায়। কিন্তু সেই যোগদান হল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে নয়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে।

আর এতে করেই রাজনৈতিক মহলের মনে প্রশ্ন, আগামী দিনে যখন সর্বভারতীয় রাজনীতিতে পদার্পণ করতে চলেছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, সেই সময় মুকুল রায়ের মত বিচক্ষণ ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়েই কি আগামী দিনে সর্বভারতীয় নেতার মুখ হতে চলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাইপো? সেদিকেই নজর থাকবে সকলের।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!