এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > উত্তরবঙ্গ > বিধায়কের রহস্য মৃত্যুর আবেগকে কাজে লাগিয়ে উত্তরে বাজিমাতের চেষ্টায় বাম বিজেপি – দুই শিবিরই

বিধায়কের রহস্য মৃত্যুর আবেগকে কাজে লাগিয়ে উত্তরে বাজিমাতের চেষ্টায় বাম বিজেপি – দুই শিবিরই



প্রিয় বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট – এবারের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের সঙ্গেই যে বিজেপির প্রধান লড়াই হবে, তা ইতিমধ্যেই পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে। কিন্তু এই দুই রাজনৈতিক দলকে কোনোমতেই ময়দান ছেড়ে দিতে নারাজ বামফ্রন্ট এবং কংগ্রেস। তাই উত্তর দিনাজপুরে আসন সমঝোতা নিয়ে ইতিমধ্যেই বামেদের সঙ্গে কংগ্রেসের আলোচনা শুরু হয়ে গিয়েছে। গত বিধানসভা নির্বাচনে হেমতাবাদ বিধানসভা কেন্দ্র থেকে জয়লাভ করেছিলেন বামফ্রন্টের প্রার্থী দেবেন্দ্রনাথ রায়। কিন্তু 2019 সালের লোকসভা নির্বাচনের পর দিল্লি গিয়ে তিনি বিজেপিতে যোগদান করেছিলেন।

তবে গত বছরের 13 জুলাই তার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে রীতিমত শোরগোল তৈরি হয় রাজ্য রাজনীতিতে। বিজেপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, তৃণমূলের পক্ষ থেকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার দেওয়া হয়েছে তাদের বিধায়ককে। কিন্তু এবার সেই বিধায়কের রহস্যমৃত্যুর আবেগকে কাজে লাগিয়ে হেমতাবাদ বিধানসভা কেন্দ্র দখলের জন্য ব্লুপ্রিন্ট সাজাতে শুরু করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি এবং বাম শিবির। উভয়পক্ষই চাইছে, এই বিধায়কের আবেগকে কাজে লাগিয়ে এখানে নিজেদের ভিতকে শক্তিশালী করতে।

বিশেষ সূত্র মারফত খবর, হেমতাবাদ বিধানসভা কেন্দ্রে সিপিএম তাদের প্রার্থী হিসেবে প্রয়াত বিধায়কের কোনো আত্মীয়কে প্রস্তাব দিয়েছে। তবে প্রয়াত বিধায়কের স্ত্রী এবং মেয়ে বর্তমানে সক্রিয়ভাবে বিজেপি করছেন। ফলে তারা আদৌ সিপিএমের হয়ে ভোট প্রচারে নামবেন কিনা, তা নিঃসন্দেহে সংশয়ের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এদিন এই প্রসঙ্গে সিপিএমের জেলা সম্পাদক অপূর্ব পাল বলেন, “দেবেনের স্ত্রী বিজেপিতে রয়েছেন। তাই তাকে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হবে না। দেবেনবাবুর স্ত্রী এবং মেয়ে বাদে তার অনেক আত্মীয় এখন হেমতাবাদের বাম রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। ওই কেন্দ্রের প্রার্থী কে হবে, সেই ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়নি। দেবেনবাবুর কোনো আত্মীয় রাজি না হলে অন্য কাউকে প্রার্থী করা হবে।”

আমাদের নতুন ফেসবুক পেজ (Bloggers Park) লাইক ও ফলো করুন – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের টেলিগ্রাম গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের সিগন্যাল গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

অর্থাৎ প্রয়াত বিধায়কের আবেগকে কাজে লাগিয়ে সিপিএম যে তার পরিবার থেকেই কাউকে প্রার্থী করে এখানে বাজিমাত করতে চাইছে, তা কার্যত পরিষ্কার বিশেষজ্ঞদের কাছে। তবে বিজেপিও এক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই। দেবেনবাবু প্রয়াত হওয়ার পর থেকেই তার মেয়ে এবং স্ত্রী বিজেপিতে সক্রিয়ভাবে রয়েছেন। স্বাভাবিকভাবেই প্রয়াত বিধায়কের সহধর্মিনীকে বিজেপি আগামী বিধানসভা নির্বাচনে হেমতাবাদ প্রার্থী করতে পারে বলে জল্পনা ছড়িয়ে পড়েছে।

এদিন এই প্রসঙ্গে উত্তর দিনাজপুর জেলা বিজেপির সভাপতি বিশ্বজিৎ লাহিড়ী বলেন, “দেবেনবাবু বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর তার সমস্ত অনুগামী এবং বেশিরভাগ আত্মীয় সিপিএম ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। তার মৃত্যুর পর বাকি আত্মীয়রাও বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। আসলে সিপিএম যোগ্য প্রার্থী না পেয়ে দেবেনবাবুর আবেগকে কাজে লাগাতে তার আত্মীয়দের প্রার্থী হওয়ার টোপ দিতে শুরু করেছে।”

যদিও বা বিজেপির এই অভিযোগকে মানতে নারাজ মার্কসবাদী কমিউনিস্ট পার্টি। এদিন এই প্রসঙ্গে জেলা সিপিএমের সম্পাদক অপূর্ব পাল বলেন, “বিধানসভা ভোটে হেমতাবাদের মানুষ বিজেপির এই মিথ্যা প্রচারের জবাব দেবেন।” তবে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের মাঝে প্রয়াত বিধায়কের আবেগকে হাতিয়ার করেই যে আগামীদিনে সিপিএম থেকে শুরু করে বিজেপি এখানে প্রার্থী দিতে চলেছে, তা পরিষ্কার। স্বাভাবিক ভাবেই গোটা পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, প্রার্থী তালিকায় সিপিএম এবং বিজেপির পক্ষ থেকে কি চমক থাকে, সেদিকেই নজর থাকবে সকলের।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!