এখন পড়ছেন
হোম > রাজনীতি > কংগ্রেস > বিধানসভার বহু আগেই চূড়ান্ত হয়ে গেল এই হেভিওয়েট কেন্দ্রের প্রার্থীর নাম, শুরু তীব্র বিতর্ক

বিধানসভার বহু আগেই চূড়ান্ত হয়ে গেল এই হেভিওয়েট কেন্দ্রের প্রার্থীর নাম, শুরু তীব্র বিতর্ক



প্রিয় বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট – বিধানসভা নির্বাচনের এখনও বেশ কিছু মাস বাকি। কিন্তু এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে প্রতিটা রাজনৈতিক দল। তবে এখনও তেমন সময় আসেনি, যখন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে দিতে হবে! তবে এবার সেই কাজটাই করতে দেখা গেল পুরুলিয়া জেলা কংগ্রেসকে। সূত্রের খবর, মঙ্গলবার রাতে সাংবাদিকদের ডেকে জানিয়ে দেওয়া হল, পুরুলিয়া বিধানসভা কেন্দ্রে করবেন পার্থপ্রতিম বন্দ্যোপাধ্যায়।

স্বাভাবিক ভাবেই যেখানে এবার কংগ্রেস এবং সিপিএমের জোটের পর এই ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা, সেখানে আগেভাগেই কংগ্রেসের পক্ষ থেকে পার্থপ্রতিমবাবুকে টিকিট দেওয়া হবে বলে ঘোষণা করায় রীতিমত শোরগোল তৈরি হয়ে গিয়েছে জেলার রাজনৈতিক মহলে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, পুরুলিয়া বিধানসভা কেন্দ্রের কংগ্রেস বিধায়ক সুদীপ মুখোপাধ্যায় কিছুদিন আগেই বিজেপিতে যোগদান করেছেন। আর তারপরেই পুরুলিয়া বিধানসভায় কাকে আগামী দিনে প্রার্থী করা যাবে, তা নিয়ে বৈঠকে বসতে দেখা গিয়েছিল জেলা কংগ্রেস সভাপতি নেপাল মাহাতোকে।

আর সেই বৈঠকের পরই প্রদেশ কংগ্রেসের সম্পাদক পার্থপ্রতিম বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম পুরুলিয়া বিধানসভা কেন্দ্রে কংগ্রেসের টিকিট পাওয়ার ব্যাপারে উঠে আসে। কিন্তু এবার কোনোরূপ আলোচনা না করেই হঠাৎ করে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে সেই পুরুলিয়ার বিধানসভায় তাদের দলের টিকিটে পার্থপ্রতিমবাবু দাঁড়াবেন বলে জানিয়ে দেওয়া হল। যার ফলে ব্যাপক জল্পনা তৈরি হয়েছে।

আর এখানেই একাংশের প্রশ্ন, সিপিএমের সঙ্গে এবার কংগ্রেসের জোট হবে বলে মনে করা হচ্ছে। দুই দল সেই ব্যাপারে উদ্যোগ নিতে শুরু করেছে। কিন্তু তার আগেই যেভাবে পুরুলিয়া বিধানসভায় কংগ্রেস নিজেদের প্রার্থীর নাম জানিয়ে দিল, তাতেই বামফ্রন্টের অনেকেও হতবাক হয়েছে বলে দাবি একাংশের। কেন এইভাবে প্রার্থীর নাম ঘোষনা করে দেওয়া হল?

এদিন এই প্রসঙ্গে কংগ্রেস বিধায়ক তথা পুরুলিয়া জেলা কংগ্রেসের সভাপতি নেপাল মাহাতো বলেন, “সুদীপবাবু বিজেপিতে যাওয়ায় কংগ্রেসের সুবিধা হবে। তিনি কংগ্রেস নেতা কর্মীদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করতেন না। বিধায়ক যাওয়ার পর কিভাবে সংগঠনকে মজবুত করা যায়, সেই বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। কর্মীদের দাবি মেনে পার্থপ্রতিমকে পুরুলিয়া বিধানসভার ইনচার্জ করা হয়েছে। একই সঙ্গে পার্থবাবুকেই পুরুলিয়া বিধানসভার প্রার্থী করা হবে। সেই সুপারিশ জেলা কংগ্রেসের পক্ষ থেকে প্রদেশ নেতৃত্বকে জানানো হবে।”

আমাদের নতুন ফেসবুক পেজ (Bloggers Park) লাইক ও ফলো করুন – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের টেলিগ্রাম গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের সিগন্যাল গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

এদিকে এই ব্যাপারে জেলা কমিটির সহ-সভাপতি উত্তম বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “পার্থবাবু পুরুলিয়া বিধানসভা কেন্দ্রে কংগ্রেসের মুখ। পার্থবাবুই ওই আসনে কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে লড়াই করবেন।” কিন্তু বামফ্রন্টের সঙ্গে জোটের আগেই যেভাবে তাদের প্রার্থীর নাম ঘোষনা করে দেওয়া হল, তাতে বামেদের পক্ষ থেকে যদি এই ব্যাপারে আপত্তি জানানো হয়, তাহলে তারা কি পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন! এদিন এই প্রসঙ্গে উত্তমবাবু বলেন, “বামফ্রন্টের সঙ্গে সমঝোতার বিষয় এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তবে পুরুলিয়া যেহেতু কংগ্রেসের জেতা আসন, তাই এখানে কংগ্রেস লড়াই করবে।”

এদিকে এই ব্যাপারে পুরুলিয়া জেলা সিপিএমের সম্পাদক প্রদীপ রায় বলেন, “এখনও পর্যন্ত আসন সমঝোতা চূড়ান্ত হয়নি। রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব তা ঠিক করবে। ইতিমধ্যেই এই ব্যাপারে দুইবার বৈঠক হয়েছে। তবে পুরুলিয়ায় কংগ্রেস কাকে প্রার্থী করবে, সেটা কংগ্রেসের নিজস্ব ব্যাপার। এতে আমাদের কিছু বলার নেই। শুধু এটুকু বলতে পারি, বামফ্রন্ট ও কংগ্রেস কোন কোন আসনে লড়াই করবে, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। বাকি যে যার ইচ্ছামত যা খুশি করতে পারেন।”

তবে যাকে নিয়ে এত কিছু, সেই পার্থবাবু বলেন, “পুরুলিয়া শহরে কংগ্রেসের প্রায় 10 বছর সভাপতি ছিলাম। দীর্ঘদিন কর্মীদের সঙ্গে থেকে কাজ করেছি। আমাকে নিয়ে কংগ্রেস কর্মীদের একটা আবেগ রয়েছে। সেই আবেগের ফলেই প্রার্থী হিসেবে আমার নাম দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।” তবে যেভাবে নির্বাচনের কয়েক মাস আগে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে তড়িঘড়ি প্রার্থীর নাম ঘোষনা করে দেওয়া হল, তাতে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। এখন কংগ্রেসের সঙ্গে সিপিএমের জোটের পর যদি এই ব্যাপারে সিপিএমের পক্ষ থেকে আপত্তি আসে, তখন কংগ্রেস নেতৃত্ব কি সিদ্ধান্ত নেয়, সেদিকেই নজর রয়েছে সকলের।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!