এখন পড়ছেন
হোম > রাজনীতি > বিজেপি > বিধানসভা নির্বাচনে তুরুপের তাস থেকে গেমচেঞ্জার – গেরুয়া শিবিরের বড় রহস্য ‘ফাঁস’ করলেন রূপা

বিধানসভা নির্বাচনে তুরুপের তাস থেকে গেমচেঞ্জার – গেরুয়া শিবিরের বড় রহস্য ‘ফাঁস’ করলেন রূপা



প্রিয় বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট – সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সরকারের যে দুটি বিল বা আইনকে সবচেয়ে বেশি বিরোধীদের সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল সেদুটি হল এবং সিএএ ও নয়া কৃষি বিল বা আইন। কিন্তু এই দুটি বিলকে কেন্দ্রীয় সরকারের ঐতিহাসিক পদক্ষেপ বলে মন্তব্য করলেন রাজ্যসভার বিজেপি সাংসদ রূপা গাঙ্গুলী। সেইসঙ্গে তিনি জানালেন যে, আগামী ২০২১ এর বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসতে চলেছে বিজেপি। আর আগামী বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির পক্ষ থেকে বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠতে চলেছেন মুকুল রায়।

প্রসঙ্গত, বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ রূপা গাঙ্গুলী, গত ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে হাওড়া উত্তর কেন্দ্র থেকে প্রাক্তন ক্রিকেটার লক্ষ্মীরতন শুক্লার বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন। নির্বাচনে তিনি পরাস্ত হয়েছিলেন। এরপর নভজ্যোত সিং সিধুর স্থানে তাঁকে রাজ্যসভায় মনোনীত করে বিজেপি। সম্প্রতি সর্বভারতীয় এক সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ রূপা গাঙ্গুলী জানালেন যে, আগামী ২০২১ এর বিধানসভা নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করতে চলেছে সিএএ।

তিনি অভিযোগ করেছেন যে, কংগ্রেস-তৃণমূল উভয়েই নিজেদেরকে হিন্দুদের দল বলে দাবি করে থাকে। কিন্তু বিজেপি এই দাবী করতে গেলেই তাদের বলা হয় মৌলবাদী। তিনি আরো জানান যে, মানুষ চাকরি চায়, চায় নিরাপত্তা। তাঁর দাবি, একমাত্র বিজেপিই মানুষকে এসব দিতে পারে। সিএএ প্রসঙ্গে তিনি জানালেন যে, সিএএ তাদের জন্যই যারা অবৈধভাবে, কোন খারাপ উদ্দেশ্য নিয়ে এদেশে এসেছে। এ সম্পর্কে তিনি এনআইএর দ্বারা জঙ্গিদের গ্রেপ্তারের প্রসঙ্গ উত্থাপন করলেন।

ফেসবুকে আমাদের নতুন ঠিকানা, লেটেস্ট আপডেট পেতে আজই লাইক ও ফলো করুন – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের টেলিগ্রাম গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের সিগন্যাল গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

দেশের মুসলিমদের উপর সিএএ কোন প্রভাব ফেলতে পারে কিনা? এর উত্তরে তিনি জানালেন যে, মুসলিমদের এ বিষয়ে ভয় পাওয়ার কোন কারণ নেই। তিনি জানালেন, এই আইনে পরিষ্কারভাবে বলা হয়েছে, যারা অবৈধভাবে এ দেশে এসেছেন তাদেরকে দেশ ছাড়তে হবে। যারা সিএএর শর্তগুলো পূরণ করবেন, তাদের কোন ভয় থাকার ব্যাপার নেই। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, গত ৮ বছর ধরে ব্যাপক সংখ্যায় মুসলিম ভারতে প্রবেশ করেছে। আর তাদের একটা বিরাট অংশ বসবাস করছে এই রাজ্যে। বিজেপি কখনোই কোনো সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে নয়। ধর্মের নামে মানুষকে পুশব্যাক করে না বিজেপি। বিজেপির প্রতি বিরোধীরা অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে, অভিযোগ জানালেন তিনি।

এরপর তিনি জানালেন যে, আগামী ২০২১ এর বিধানসভা নির্বাচনে বড় ফ্যাক্টর হতে চলেছেন মুকুল রায়। মুকুল রায়কে তিনি ‘গেম চেঞ্জার’ রূপে অভিহিত করলেন। মুকুল রায় প্রসঙ্গে তিনি বললেন যে, কয়েক বছর আগে তৃণমূলে মুকুল রায়ের তৃণমূলে থাকাকালীন, মুকুল রায় তাঁকে ফোন করেছিলেন। তাঁকে বিজেপিতে যোগদান করতে বলেছিলেন। সেসময় মুকুল রায় জানিয়ে ছিলেন যে, সুযোগ এলে তিনি যোগ দেবেন বিজেপিতে। পরে মুকুল রায়কে বিজেপিতে যোগদানের অনুরোধ করেন তিনি। মুকুল রায়ের প্রশংসা করে রুপা গাঙ্গুলি বললেন যে, মুকুলবাবু অনেক কঠিন কাজে দলকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করবেন বলে তিনি আশা করছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি জানালেন যে, মুকুল রায়ের অনেক শুভানুধ্যায়ী আছেন তৃণমূলে, আবার মুকুল রায়ের অনেক বন্ধু তৃণমূলে রয়েছেন, যারা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের খুব কাছের মানুষ।

আগামী ২০২১ বিধানসভা নির্বাচন সম্পর্কে তিনি জানালেন যে, ২০২১ এ রাজ্যে ক্ষমতা দখল করতে চলেছে বিজেপি। বিজেপির প্রতি বিশ্বাস রেখেছে বাঙালিরা। তাই তিনি নিশ্চিত তৃণমূলকে ক্ষমতা থেকে উৎখাত করতে পারবে বিজেপি। তৃণমূলের অপশাসনের কারণেই তিনি যোগ দিয়েছেন রাজনীতিতে। তিনি জানান যে, গত ২০১১ – ২০১৩ সাল পর্যন্ত তিনি তৃণমূলে আস্থা রেখেছিলেন। কিন্তু পরে তিনি বুঝতে পারেন, তৃণমূল বাংলার উন্নয়নের জন্য ভালো নয়, বাংলার সংস্কৃতির বিরুদ্ধে তারা কাজ করে, এছাড়া গণতন্ত্রে বিশ্বাসী নয় তারা।

তিনি আরো জানালেন যে, বিজেপিকে এরাজ্যে ক্ষমতায় দেখতে চান তিনি। এরপর তিনি রাজনীতি ছেড়ে দিতে পারেন। আগামী ২০২২ সালে তিনি রাজনীতি থেকে সরে আসতে পারেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!