এখন পড়ছেন
হোম > রাজনীতি > তৃণমূল > বিধানসভার প্রার্থী নিয়ে তৃণমূলে দ্বন্দ্ব শুরু! পরিবারতন্ত্রে জোর নেতাদের! বাড়ছে অস্বস্তি!

বিধানসভার প্রার্থী নিয়ে তৃণমূলে দ্বন্দ্ব শুরু! পরিবারতন্ত্রে জোর নেতাদের! বাড়ছে অস্বস্তি!



প্রিয় বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট – আগামী 2021 এর বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের বর্তমান সমস্ত বিধায়ক যে প্রার্থী হবেন, তা বেশ কিছুদিন আগেই দলের বৈঠকে জানিয়ে দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যার ফলে দলের যে সমস্ত বিধায়করা টিকিট না পাওয়ার আশঙ্কায় ভুগছিলেন, তারা অনেকটাই নিশ্চিন্ত হয়েছেন। তবে প্রার্থী নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তার অবস্থান জানিয়ে দিলেও বাসন্তী বিধানসভা নিয়ে এবার চিন্তা বাড়তে শুরু করল তৃণমূল কংগ্রেসের।

এই বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূলের প্রার্থী কে হবেন, তা নিয়ে শাসক দলের অনেক নেতাই তাদের পরিবারের মেয়ে থেকে শুরু করে ভাইয়ের ব্যাপারে দলের কাছে তদবির করতে শুরু করেছেন। অর্থাৎ নিজেরা না দাঁড়ালে ও পরিবারের অন্য কোন সদস্যদের যাতে দাঁড় করানো যায় তার জন্য শেষ পর্যন্ত চেষ্টায় কোনো খামতি রাখতে চাইছেন না এই বাসন্তী বিধানসভা কেন্দ্রের একাধিক তৃণমূল নেতা।

কিন্তু প্রার্থী তো হবেন একজন! সেক্ষেত্রে দলের ঘোষণা মত এই ব্যাপারে তো শেষ সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। কিন্তু লড়াই করার আগে যেভাবে প্রার্থী নিয়ে এই বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল নেতারা নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতা শুরু করে দিলেন, তাতে তারা বিরোধীদের সঙ্গে কিভাবে লড়াই দেবে, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে তৈরি হয়েছে প্রশ্ন।

জানা যায়, গত বিধানসভা নির্বাচনে গোসাবার তৃণমূল বিধায়ক জয়ন্ত নস্কর তার ভাই অরবিন্দ নস্করকে এই বাসন্তী বিধানসভা কেন্দ্রে প্রার্থী করতে চেয়েছিলেন। যা নিয়ে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে দরবার করতেও দেখা গিয়েছিল তাকে। কিন্তু তৃণমূল নেতৃত্বের পক্ষ থেকে দুই ভাইকে একসাথে যে প্রার্থী করা যাবে না, তা জানিয়ে দেওয়া হয়।

আর এর পরেই বাসন্তীতে প্রার্থী করা হয় বর্ষিয়ান নেতা গোবিন্দ নস্করকে। আর এরপরই দীর্ঘদিন আরএসপির দখলে থাকা বাসন্তী বিধানসভা কেন্দ্রে জয়লাভ করে তৃণমূল কংগ্রেস। কিন্তু বর্তমানে সেই গোবিন্দবাবুর বয়স অনেক হয়েছে। তাই তিনি এবারের বিধানসভা নির্বাচনে দাঁড়াবেন না বলেই মনে করছে একাংশ। সেদিক থেকে তৃণমূলের একটা বড় অংশ চাইছে বাসন্তী বিধানসভা কেন্দ্রে স্থানীয় কাউকে প্রার্থী করা হোক। তাই আবার নতুন করে জয়ন্তবাবু তার ভাইকে যাতে প্রার্থী করা হয়, তার জন্য তৎপরতা অবলম্বন করতে শুরু করেছেন।

অন্যদিকে গোবিন্দ নস্করও পিছিয়ে নেই। তিনিও চাইছেন, যদি তাকে দল টিকিট না দেয়, তাহলে তার ছোট মেয়ে বা ভাইকে এই বিধানসভা কেন্দ্রে দাঁড় করানো হোক। একইভাবে জেলা যুব তৃনমূলের সভাপতি শওকত মোল্লা নিজের অনুগামীকে এই কেন্দ্রে দাঁড় করানোর জন্য তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্বের দৃষ্টি আকর্ষন করার চেষ্টা করছেন বলে খবর।

স্বাভাবিকভাবেই এক বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূলের নেতারা নিজের আত্মীয় থেকে শুরু করে অনুগামীদের দাঁড় করানো নিয়ে যেভাবে এখন থেকেই তৎপরতা শুরু করেছেন, তাতে যদি তৃণমূল এখানে সামঞ্জস্য বজায় রেখে প্রার্থী না করে, তাহলে গোষ্ঠী কোন্দলে এই বাসন্তী বিধানসভা কেন্দ্র হাতছাড়া হতে পারে শাসকদলের বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

একাংশ বলছেন, অতীতের মত এবারের বিধানসভা নির্বাচনের লড়াইটা খুব একটা সহজ নয় তৃণমূলের কাছে। কেননা বিজেপি এবারের নির্বাচনকে পাখির চোখ করেছে। তাদের টার্গেট বাংলা দখল। ইতিমধ্যেই তারা বিভিন্ন বিধানসভা কেন্দ্রে নিজেদের মতো করে ময়দানে নামতে শুরু করেছে। সেদিক থেকে অন্যান্য বিধানসভা কেন্দ্রের সঙ্গে বাসন্তী বিধানসভা কেন্দ্রের অনেকটাই পার্থক্য রয়েছে। কেননা একদিকে যেমন এখানে বিজেপির শক্তি বাড়ছে, ঠিক তেমনই একটা শক্ত ভোটব্যাঙ্ক এখানে রয়েছে।

এছাড়াও ফুরফুরা শরীফের একটা প্রভাব যে এখানে আছে, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। সেদিক থেকে যদি এই সংখ্যালঘু সংগঠনের পক্ষ থেকে কোনো প্রার্থী দেওয়া হয়, তাহলে তৃণমূলের সংখ্যালঘু ভোটে প্রভাব পড়তে পারে। যার জেরে শাসকদল কোণঠাসা হয়ে যাতে পারে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে। আর তাই যদি হয়, তাহলে তৃণমূল প্রার্থী নিয়ে নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্ব যদি তৈরি করে দিতে শুরু করে, তাহলে এই বিধানসভা কেন্দ্রে একদিকে বিরোধীদের চাপ এবং অন্যদিকে তৃণমূলের দ্বন্দ্বের কারণে শাসক দলকে কার্যত পিছনের সারিতে করে যেতে হবে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।


WhatsApp-এ প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার খবর পেতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া গ্রূপের লিঙ্ক – টেলিগ্রামফেসবুক গ্রূপ, ট্যুইটার, ইউটিউব, ফেসবুক পেজ

আমাদের Subscribe করতে নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।

এবার থেকে আমাদের খবর পড়ুন DailyHunt-এও। এই লিঙ্কে ক্লিক করুন ও ‘Follow‘ করুন।



আপনার মতামত জানান -

তাই সেই সমস্ত কিছুর ওপর নির্ভর করে যদি এখন থেকে তৃণমূল নেতারা প্রার্থীর ব্যাপারে দ্বন্দ্ব না করে সংগঠনকে শক্তিশালী করেন, তাহলে তা তাদের পক্ষে শুভ লক্ষণ বলেই দাবি করছেন তৃণমূলের নিচুতলার কর্মী সমর্থকরা। এদিন এই প্রসঙ্গে তৃণমূলের ব্লক নেতা মন্টু গাজী বলেন, “এলাকার লোক প্রার্থী হলে ভালো হয়।” অন্যদিকে এই ব্যাপারে জেলা তৃণমূল সভাপতি শুভাশিস চক্রবর্তী বলেন, “সর্বোপরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যাকে প্রার্থী করবেন, আমরা তার জন্যই লড়াই করব।”

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তৃণমূলের শেষ কথা বলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রে যখন নির্বাচন চলে আসে, তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখ থেকে প্রার্থী ঘোষণা হওয়ার পরেও বিভিন্ন জেলায় সেই প্রার্থী দিয়ে তৈরি হয় অসন্তোষ। যার জেরে প্রভাব পড়ে ভোটবাক্সে।

আর এবার বিধানসভা নির্বাচনের জন্য তৃণমূল যখন এখন থেকেই বিজেপির বিরোধিতার রাস্তা বেছে নিয়েছে, ঠিক তখনই বাসন্তী বিধানসভা কেন্দ্রে প্রার্থী করা নিয়ে যেভাবে তৃণমূলের নেতারা নিজেদের পরিবারের সদস্যদের সামনে এগিয়ে দিতে শুরু করল এবং তার ব্যাপারে তৃণমূল নেতৃত্বের কাছে তদবির করতে শুরু করল, তাতে এদের মধ্যে যদি কেউ প্রার্থী না হয়, তাহলে বাসন্তীতে তৃণমূলের অন্দরমহলে ঝড় উঠতে পারে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। এখন শেষ পর্যন্ত তৃণমূল নেতাদের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে মান্যতা দিয়ে এবং বিরোধীদেরকে চাপে রেখে বাসন্তী বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেস কাকে প্রার্থী করে, সেদিকেই নজর থাকবে সকলের।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!