এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > ভয়াবহ দুর্যোগে ক্ষতিপূরণ নিয়ে ব্যাপক বিক্ষোভ! শুরু ধরপাকড়!

ভয়াবহ দুর্যোগে ক্ষতিপূরণ নিয়ে ব্যাপক বিক্ষোভ! শুরু ধরপাকড়!



প্রিয় বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট – কদিন আগেই পশ্চিমবঙ্গের উপর দিয়ে বয়ে গেছে ভয়ঙ্কর ঘূর্ণিঝড় আমফান। সরকারি দল এবং বিশেষজ্ঞদের মতে বিগত দিনে আয়লা ঝড়ের প্রভাবেও বাংলা এতটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। এই ঝড়ের তাণ্ডবে বিধ্বস্ত হয়ে পড়া বিদ্যুৎ সংযোগ ফিরিয়ে আনতে রীতিমত হিমশিম খেতে হয় রাজ্য সরকারকে। স্বয়ং মহানগরী তিলোত্তমা কলকাতাতে দফায় দফায় বিদ্যুৎ পরিষেবা ফেরত পাওয়া নিয়ে পথ অবরোধ সহ একাধিক আন্দোলন চলে।

আর এবার দেগঙ্গায় ক্ষতিপূরণের টাকায় গড়মিলের অভিযোগে বিডিও অফিস ঘেরাও করতে দেখা যায় সাধারণ মানুষকে। যা নিয়ে রীতিমতো উত্তপ্ত হয়ে পড়ে এলাকা। গোলমালের জেরে 14 জনকে গ্রেপ্তার পর্যন্ত করতে হয়েছে। জানা যাচ্ছে, যারা গ্রেফতার হয়েছেন, তার মধ্যে 8 জন গ্রামবাসী। আবার উল্লেখযোগ্যভাবে 6 জন কলকাতার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া। আর গ্রেফতার হওয়া প্রত্যেককেই গত মঙ্গলবার বারাসাত জেলা আদালতে পেশ করা হয়।

আদালতের তরফ থেকে 6 জনকে পুলিশ হেফাজত এবং এবং বাকিদেরকে জেল হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। এদিন এই ঘটনা প্রসঙ্গে বারাসাত পুলিশ জেলার সুপারিনটেনডেন্ট অফ পুলিশ শ্রী অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ধৃতদের উপরে সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করা, পুলিশকে ধাক্কা মারা, সরকারি কাজে বাধা প্রদান করা সহ একাধিক অভিযোগে মামলা রুজু করা হয়েছে। আগামী দিনে গোটা ঘটনা নিয়ে পুলিশ আরও জোরদার তদন্ত চালাবে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার।

ফেসবুকে আমাদের নতুন ঠিকানা, লেটেস্ট আপডেট পেতে আজই লাইক ও ফলো করুন – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের টেলিগ্রাম গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের সিগন্যাল গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

বিশেষজ্ঞদের একাংশ অবশ্য এই গোটা ঘটনার মধ্যে বিগত দিনের ভাঙ্গড়ের পাওয়ার গ্রীড আন্দোলনের ছায়া দেখতে পাচ্ছেন এবং আগামী দিনে আন্দোলনের তীব্রতা সেই দিকে পৌঁছে যেতে পারে বলেও মনে করছেন অনেকে। বস্তুত, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিগত দিনে একাধিকবার সাংবাদিক সম্মেলনে জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্তদের কাছে সরকারি সাহায্য পৌঁছে যাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো রকমের দুর্নীতি বরদাস্ত করা হবে না।

তা সত্ত্বেও বহুবার ক্ষতিপূরণের টাকা নিয়ে স্বজনপোষণ, পঞ্চায়েত সদস্যদের অসাধু উপায়ে নিজেদের নাম ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকায় নথিভুক্ত করা, পাকা বাড়ি থাকা সত্ত্বেও বাড়ি ভাঙার টাকা পাওয়া সহ একাধিক অভিযোগ উঠেছে পঞ্চায়েত এবং স্থানীয় জেলা প্রশাসনের বিরুদ্ধে। যা নিয়ে গত সোমবার থেকেই দফায় দফায় উত্তপ্ত হতে শুরু করে দেগঙ্গা এলাকা। একাধিকবার বারাসাত এবং টাকি রোড অবরোধ পর্যন্ত করা হয়েছে বিক্ষোভকারীদের তরফ থেকে। শুধু তাই নয়, প্রকৃত অর্থে কারা কারা টাকা পেয়েছে, সেই শ্বেতপত্র প্রকাশের দাবিতে বিডিও অফিস ঘেরাও এবং অফিস উদ্দেশ্য করে ইট-পাথর নিয়ে বিক্ষোভ দেখানোর মতো ঘটনাও চোখে পড়েছে।

পরবর্তীতে পুলিশ এসে জমায়েত সরাতে চাইলে আন্দোলনকারীরা পুলিশের উপর চড়াও হয় ইটপাথরের বৃষ্টি করে বলে অভিযোগ। পরবর্তীতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে সক্ষম হয়। দেগঙ্গা থানার তরফ থেকে পুলিশ আধিকারিক সুমিত মন্ডল জানিয়েছেন, কোনোমতেই হিংসাত্মক আন্দোলনকে মেনে নেওয়া হবে না। তবে এক্ষেত্রে আন্দোলনকারীদের তরফ থেকে দাবি করা হয়েছে, সরকারের তরফ থেকে বিগত দিনে তদন্ত সাপেক্ষে ক্ষতিপূরণের টাকা দেওয়ার কথা বলা হলেও কি করে অন্যেরা টাকা পেয়ে গেল, কি করেই বা স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য থেকে শুরু করে প্রভাবশালী ব্যক্তিরা বাড়ি না ভাঙ্গা সত্ত্বেও ক্ষতিপূরণের টাকা আত্মসাৎ করেছেন! সেই বিষয়ে জানতেই স্থানীয়রা আন্দোলনমুখী হয়েছে।

উল্লেখ্য, উত্তর 24 পরগনা জেলা জুড়ে ভয়াবহ দুর্যোগের পরবর্তী পরিস্থিতিতে দফায় দফায় আন্দোলন চলছে। কখনও সাহায্য না পাওয়ার অভিযোগ, কখনও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার অভিযোগ সহ একাধিক অভিযোগে প্রশাসনের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে স্থানীয়রা। প্রশাসন অবশ্য জানিয়েছে, ঝড়ের তীব্রতা ব্যাপক পরিমাণে হওয়ায় উত্তর 24 পরগনায় বেশিরভাগ এলাকাতেই প্রায় সবারই অল্পবিস্তর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তবে কিছু কিছু বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও, ক্ষতির পরিমাণ সামান্য হওয়া সত্ত্বেও প্রায় প্রত্যেকেই ক্ষতিপূরণের জন্য আবেদন করেছেন। ফলে তালিকাটা অনেক বড় হওয়ায় প্রশাসনের তরফে সরেজমিনে খতিয়ে দেখে তারপর এই আবেদনকে স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে। সেক্ষেত্রে করোনা বিপর্যয় কিছুটা স্পিড ব্রেক লাগিয়েছে। তবে আগামী দিনের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে আশা প্রকাশ করেছে স্থানীয়রা। প্রশাসন সূত্রের খবর, বিগত দিনে আমরা ঝড়ে 5 লক্ষেরও বেশি বাড়ি আংশিক এবং সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিন্তু তার মধ্যে এখনও পর্যন্ত এক লক্ষ 27 হাজার মানুষকে ক্ষতিপূরণের টাকা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হলেও বাকিদের ক্ষেত্রে এখনও কিছুটা সময় লাগতে পারে।

এদিন এই বিষয়ে জেলাশাসক চৈতালি চক্রবর্তী জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত যে সমস্ত ক্ষতিগ্রস্তরা টাকা পায়নি, তারা যত তাড়াতাড়ি টাকা পায়, সেই ব্যবস্থা করা হচ্ছে। অন্যদিকে যাদের বিরুদ্ধে অন্যায় ভাবে টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে, সেই অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে। রাজনৈতিক মহলের মতে, আগামী দিনে 2021 সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে ক্ষতিগ্রস্ত ঝড়ে বিধ্বস্ত মানুষদের ত্রাণ নিয়ে যদি দুর্নীতি হয়, তাহলে সরকারি দলের পক্ষে তা কিন্তু ইতিবাচক হবে না। তাই প্রশাসন আগামী দিনে এই সমস্যার কিভাবে সমাধান করে, সেদিকে নজর থাকবে সকলের।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!