এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > নদীয়া-২৪ পরগনা > আজ অর্জুন বনাম মমতার প্রেস্টিজ ফাইট, ভোট যুদ্ধক্ষেত্র ভাটপাড়া

আজ অর্জুন বনাম মমতার প্রেস্টিজ ফাইট, ভোট যুদ্ধক্ষেত্র ভাটপাড়া



 

রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসকে অনেকটা অস্বস্তিতে ফেলে এবার ভাটপাড়া পৌরসভায় পুনরায় আস্থা ভোট করার নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। এই বিষয়ে আজ মঙ্গলবার সম্পূর্ণ পুলিশি নিরাপত্তায় দুপুর একটার সময় পৌরসভার মূল ভবনে আস্থা ভোট অনুষ্ঠিত করতে হবে প্রশাসনকে। এমনকি আস্থা ভোটের নোটিশ দিয়ে কাউন্সিলরদেরকে জানাতে হবে স্বয়ং পৌরসভার চেয়ারম্যান এবং জেলা শাসককে।

এমনটাই নির্দেশ দিতে দেখা গেছে কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চকে। বস্তুত, লোকসভা নির্বাচনে ব্যারাকপুর লোকসভা কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী দীনেশ ত্রিবেদীকে পরাজিত করে বিপুল ভোটে জয় যুক্ত হন ভারতীয় জনতা পার্টির প্রার্থী তথা ভাটপাড়া এলাকার দোদণ্ডপ্রতাপ প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক। পরবর্তীতে বিজেপি নেতা অর্জুন সিংহ জয়ের পরেই ভাটপাড়া পৌরসভার 29 জন কাউন্সিলর তৃণমূল কংগ্রেস ত্যাগ করে ভারতীয় জনতা পার্টিতে যোগদান করেন।

এই যোগদানের সাথে সাথেই তৃণমূল কংগ্রেসের দখলে থাকা ভাটপাড়া পৌরসভা আস্থা ভোটের মাধ্যমে ভারতীয় জনতা পার্টির দখলে চলে আসে। কিন্তু পরবর্তীতে তৃণমূল কংগ্রেসের তরফ থেকে ভাটপাড়ায় সংগঠনকে চাঙ্গা করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। যার ফলস্বরূপ মাস কয়েক আগে ভারতীয় জনতা পার্টিতে চলে যাওয়া 29 জন কাউন্সিলরের মধ্যে 12 জন কাউন্সিলর পুনরায় রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসে ফিরে আসে। এরপর থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসের তরফ থেকে ভাটপাড়া পৌরসভাকে পুনরায় দখল করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয় এবং পরবর্তীতে তিনজন কাউন্সিলরের পক্ষ থেকে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনা হয়।


দেশে যে কোনো দিন ব্যান হয়ে যেতে পারে হোয়াটস্যাপ। তাই এখন থেকে আমরা শুধুমাত্র টেলিগ্রাম ও সিগন্যাল অ্যাপে। প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার নিউজ নিয়মিতভাবে পেতে যোগ দিন –

টেলিগ্রাম গ্রূপটাচ করুন এখানে

সিগন্যাল গ্রূপটাচ করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

গত বৃহস্পতিবার এই অনাস্থা প্রস্তাবে ভোটদান পর্বে বিপুল ভোটে জয়যুক্ত হয় তৃণমূল কংগ্রেস। যার ফলে পৌরসভা পুনরায় দখলে চলে আসে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের। কিন্তু এই আস্থা ভোটকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হন বাংলার বিরোধী দল ভারতীয় জনতা পার্টি। পাশাপাশি ওই আস্থা ভোটে অংশগ্রহণ করেনি ভারতীয় জনতা পার্টির কাউন্সিলররা। হাইকোর্টের তরফ থেকে আস্থা ভোটের দিনই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্রস্তাব এবং আস্থা ভোটের প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ খারিজ করে দেয় কলকাতা হাইকোর্টের সিঙ্গেল বেঞ্চ।

পরবর্তীতে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে সিঙ্গেল বেঞ্চের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হন চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনা তিনজন কাউন্সিলার। কলকাতা হাইকোর্টের কাছে ভারতীয় জনতা পার্টির কাউন্সিলররা দাবি করেন, তিনজন কাউন্সিলরের অনাস্থা প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে ভাটপাড়া পৌরসভার চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে আগামী কুড়ি জানুয়ারি অনাস্থা সভার ডাক দেওয়া হয়েছিল।

কিন্তু এর আগেই সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে অনাস্থা সভা ডেকে অনাস্থা প্রস্তাব পাশ করিয়েছে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস এবং তার কাউন্সিলররা। পরবর্তীতে ডিভিশন বেঞ্চের কাছে তৃণমূল কংগ্রেস কাউন্সিলরদের আইনজীবী বলেছিলেন, “ভাটপাড়া পৌরসভার চেয়ারম্যান 6 ডিসেম্বর নোটিশ জারি করে 20 জানুয়ারি আস্থাভোটে কথা জানিয়েছিলেন। এক্ষেত্রে তৃণমূল কাউন্সিলরদের আইনজীবীর পক্ষে যুক্তি দেওয়া হয়, আইন অনুসারে নোটিশ জারী করার 15 দিনের মধ্যে আস্থা ভোট করাতে হয়। আবার প্রয়োজন পড়লে 7 দিনের মধ্যে আস্থা ভোট করাতে পারে ভাইস চেয়ারম্যান।

তবে ভাটপাড়া পৌরসভা আস্থা ভোটে এর কোনটাই হয়নি। সেই জন্যই তৃণমূল কাউন্সিলররা সভা ডেকে অনাস্থা প্রস্তাব পাশ করিয়ে নিয়েছিলেন এবং ভোটাভুটি হয়েছে।” কিন্তু কলকাতা হাইকোর্টের পক্ষ থেকে আইনজীবীর এই যুক্তিতে মান্যতা দেওয়া হলেও মঙ্গলবার পুনরায় আস্থা ভোট করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ডিভিশনাল বেঞ্চের বিচারক দীপঙ্কর দত্ত এবং বিচারক প্রকাশ মজুমদারের ডিভিশন বেঞ্চ। এক্ষেত্রে চেয়ারম্যান এবং জেলাশাসককে কাউন্সিলরদেরকে মঙ্গলবারের আস্থা ভোটের জন্য নোটিশ করতে নির্দেশ দিয়েছেন কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ।

নিজের পর্যবেক্ষণে জানিয়েছেন, সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকলে কেউ ক্ষমতায় থাকতে পারেনা। গত বৃহস্পতিবার ভাটপাড়া পৌরসভার চেয়ারম্যানের সঙ্গে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিল না, আর সেই আস্থা ভোটের পর যাই হোক না কেন। আবার আস্থা ভোটের সময়সীমা সম্পর্কে ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছেন, আস্থা ভোটের নোটিশ জারির একমাস পর আর ভোটাভুটি করানো যায় না। তাহলে তো নোটিশ জারির এক বছরের পরেও কেউ ভোটাভুটি করাতে পারে।

আদালতের তরফ থেকে আস্থা ভোট প্রক্রিয়ায় এবং এই সংক্রান্ত মিটিংয়ে জেলাশাসককে উপস্থিত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং সমস্ত আস্থা ভোট প্রক্রিয়া সম্পর্কে আদালতের কাছে রিপোর্ট জমা করার নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, গত বৃহস্পতিবার আস্থা ভোটে বিপুল ভোটে জয়যুক্ত হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। সেই আস্থা ভোটের প্রক্রিয়াকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি। তাই আদালতের তরফ থেকে মঙ্গলবার পুনরায় আস্থা ভোট করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কিন্তু এই আস্থাভোটেও যদি ভারতীয় জনতা পার্টির পরাজয় ঘটে, তাহলে তাদের সমস্ত দাবি বুমেরাং বলে প্রমাণিত হতে পারে। আবার আদালতের নির্দেশ মোতাবেক মঙ্গলবারের আস্থা ভোট প্রক্রিয়ায় যদি ভারতীয় জনতা পার্টি জয়যুক্ত হয়, তাহলে অস্বস্তিতে পড়বে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। তাই মঙ্গলবারের ভাটপাড়া পৌরসভার আস্থাভোটের দিকে নজর থাকবে সকলের।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!