এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > জনতা কারফিউয়ের দিন বাংলায় খোলা স্কুল? জোর চাঞ্চল্য!

জনতা কারফিউয়ের দিন বাংলায় খোলা স্কুল? জোর চাঞ্চল্য!



জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আবেদন করেছিলেন, 22 মার্চ সকলে জনতা কারফিউ পালন করুন। আশা করা হয়েছিল, যেহেতু করোনাভাইরাস একটি সংক্রমিত রোগ, সেহেতু প্রধানমন্ত্রীর এই আবেদনে সাড়া দেবেন সকলে। সকাল থেকে যা দেখা যাচ্ছে, তাতে প্রধানমন্ত্রীর আবেদনে সাড়া দিয়ে রীতিমত গৃহবন্ধি সাধারণ মানুষ। সকলেই চাইছেন, একদিন ঘরের বাইরে না বেরিয়ে যদি এই মারণ রোগকে আটকানো যায়, তাহলে প্রধানমন্ত্রীর এই আহ্বান শোনা যেতেই পারে। তবে প্রথম থেকেই প্রধানমন্ত্রীর তরফে আবেদন জানানো এই জনতা কার্ফু নিয়ে বিরোধিতা করতে দেখা যায় তৃণমূলের সোশ্যাল মিডিয়া সেলের নেতাকর্মীদের।

বিভিন্ন জায়গায় তারা পোস্ট করে এই কারফিউ মানবো না বলে দাবি জানান। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা তৃণমূলের কোনো স্তরের নেতা নেত্রী এই ব্যাপারে অবশ্য মুখ খোলেননি। বিশেষত, আজ একদিকে যেমন জনতা কারফিউ, ঠিক তেমনই আজ রবিবার।আর এর মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের তরফে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানানো হয়েছে, সমস্ত স্কুল-কলেজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে জনতা কারফিউয়ের দিন স্কুল খোলা থাকাকে কেন্দ্র করে রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়াল বাংলায়।

সূত্রের খবর, শুক্রবার বর্ধমান জেলা পরিদর্শকের অফিস থেকে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে বলা হয়েছে, স্কুল ছুটি থাকার জন্য প্রথম শ্রেণী থেকে অষ্টম শ্রেণীর প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে মিড ডে মিলের চাল এবং আলু দেওয়া হবে। তার জন্য সোম এবং মঙ্গলবার এই কর্মসূচি চলবে। যার প্রস্তুতি হিসেবে রবিবার স্কুল খোলার নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা দপ্তর। যা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন একাংশ।


ফেসবুকে আমাদের নতুন ঠিকানা, লেটেস্ট আপডেট পেতে আজই লাইক ও ফলো করুন – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের টেলিগ্রাম গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের সিগন্যাল গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

আর একদিকে রবিবার, তার ওপর যখন এই ভাইরাসকে আটকানোর জন্য জনতা কারফিউ জারি হয়েছে, তখন কেন এভাবে শুধুমাত্র মিড ডে মিলের প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য স্কুল খোলা থাকবে! তা নিয়ে ইতিমধ্যেই সোচ্চার হয়েছে একাংশ। ইতিমধ্যেই এই ব্যাপারে রাজ্যের শিক্ষা দপ্তরের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন বিজেপির টিচার্স সেল। এদিন এই প্রসঙ্গে বিজেপির টিচার্স সেলের নেতারা বলেন, “এই নির্দেশের একটাই কারণ রবিবার প্রধানমন্ত্রী যে জনতা কারফিউয়ের ডাক দিয়েছেন, তাকে উপেক্ষা করা বলেআমরা মনে করি। তাই করোনাভাইরাস মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর ডাকা জনতা কারফিউকে সফল করার জন্য প্রত্যেক শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং শিক্ষাকর্মী প্রত্যেকটি কাছে আবেদন করব এবং পশ্চিমবঙ্গের প্রত্যেকটি স্কুল বন্ধ রাখার আহবান করছি। শনিবারের মধ্যেই এই ব্যাপারে মুখ্যমন্ত্রীর বিবৃতি দাবি করছে। তিনি পরিষ্কার করে বলুন, প্রধানমন্ত্রীর ডাকে সাড়া দিয়ে তিনি জনতার সমর্থন করছেন কি করছেন না, যদি সমর্থন করেন। তাহলে অবিলম্বে শিক্ষা দপ্তরের যেন আপৎকালীন পরিস্থিতিতে দেশের সরকারের বিরুদ্ধে গিয়ে যারা এই ধরনের ষড়যন্ত্রমূলক দেশের জন্য দায়ী, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিন।”

মিড ডে মিল বিতরণের সরকারি নির্দেশে রাজনীতির ছোঁয়া দেখছে বিজেপি। দলের রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের অভিযোগ, ”প্রধানমন্ত্রীর ডাকা জনতা কার্ফু কর্মসূচি ব্যর্থ করার জন্যই রবিবার মিড ডে মিল বিতরণের উদ্দেশ্যে স্কুল খোলা রাখার নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে। আর একটা উদ্দেশ্যও থাকতে পারে। হয়তো ধরে নেওয়া হয়েছে, বড় জমায়েত এড়ানোর যে পরামর্শ ক্রমাগত কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার দিয়ে চলেছে, তা মানার জন্য এবং মোদীজির ডাকা জনতা কার্ফু পালন করতে রবিবার মিড ডে মিল নিতে কেউ স্কুলে যাবে না। তখন খাবার লুঠ করে বাড়ি নিয়ে যাওয়া যাবে।”

বিশেষজ্ঞদের প্রশ্ন, প্রধানমন্ত্রী কাউকেই এই জনতা কার্ফু পালন করতে জোর করেননি। বরঞ্চ তার অনুরোধ প্রত্যেকেই মেনে নিয়েছেন। কেননা প্রত্যেকেই জানেন, এই করোনা ভাইরাস বেশি পরিমাণে সংক্রমিত হয়। সেদিক থেকে বিজেপির বিরোধী দল হিসেবে পশ্চিমবঙ্গের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস হলেও, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই জনতা কারফিউয়ের বিরুদ্ধে কোনো মত জানাননি। অর্থ্যাৎ, সকলেই চাইছেন সাধারণ মানুষ বাড়িতে থাকুন। আর এমন একটা সময় যখন রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকেও স্কুলগুলো বন্ধের বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে, ঠিক তখনই মিড ডে মিলের প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য কেন হঠাৎ জনতা কারফিউয়ের দিনকেই বেছে নেওয়া হল, তা নিয়ে রাজ্যে শিক্ষা দপ্তরের ভূমিকায় উঠতে শুরু করেছে প্রশ্ন।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!