এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > বাংলায় রাষ্ট্রপতি শাসন নিয়ে মুখ খুললেন বিমান বসু, কোন পক্ষে মত তাঁর?

বাংলায় রাষ্ট্রপতি শাসন নিয়ে মুখ খুললেন বিমান বসু, কোন পক্ষে মত তাঁর?



রাজ্যে কয়েক দশকের বাম শাসনের অবসানের পর নতুন শাসক তৃণমূল কংগ্রেসের শাসনেরও প্রায় পৌনে এক দশক অতিক্রান্ত হয়ে গেলো। এর মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গের মানুষ নানা রাজনৈতিক উত্থান পতনের সাক্ষী। ভূতপূর্ব বাম শাসক দল এখন দাবি করছেন রাজ্যের বর্তমান শাসক দলের সৌজন্যে রাজ্যের সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার চরমভাবে খর্ব করা হয়েছে। তাদের রাজনৈতিক কাজকর্মে প্রবলভাবে বাধা দেওয়া হয়েছে। এমনকি অনেকক্ষেত্রে শাসক দল নিজেদের অনুকূলে তাদের পরিচালনা করার মতো পদক্ষেপ ও নিয়েছেন। আসন্ন পঞ্চায়েত নির্বাচনের ক্ষেত্রেও শাসক দল মিথ্যা মামলা দায়ের সহ বাম দলীয় কর্মীদের শারীরিক নিগ্রহ কোনোটিতেই পিছিয়ে নেই বলে তারা জানাচ্ছেন। কিন্তু এসব সত্বেও তারা মনে করছেন এখনও রাজ্যে ৩৫৬ ধারা প্রয়োগ করে রাষ্ট্রপতি শাসন জারির মতো অবস্থা হয়নি। বৃহস্পতিবার কলকাতা প্রেস ক্লাব আয়োজিত মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে প্রবীন বাম নেতা তথা বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান খোদ বিমান বসু সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এই কথা জানালেন। তিনি এদিন বললেন, ” তৃণমূল রাজত্বে রাজ্যে গণতন্ত্র সার্বিকভাবে ভূলুণ্ঠিত। কেবল বিরোধী রাজনৈতিক দল বা সংগঠনের নয়, যে কোনও প্রতিবাদীর কণ্ঠরোধ করতে বদ্ধপরিকর শাসকদল। সর্বোপরি, ভোটদানের মতো সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারও আজ প্রতি পদে খর্ব করা হচ্ছে। ফ্যাসিস্ট শাসনের কায়দায় চলছে এই সরকার। কিন্তু তবু আমরা রাজ্যে রাষ্ট্রপতির শাসন জারি করে নির্বাচিত এই সরকারকে উৎখাত করার পক্ষে নই।

আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

যদিও যেভাবে রাজ্যের অবস্থা দিন দিন খারাপ হচ্ছে, তাতে বাংলার ভবিষ্যৎ কোন দিকে যাচ্ছে, তা বোঝা যাচ্ছে না। আসলে আমরা বামপন্থীরা বরাবরই ৩৫৬ ধারার বিরোধী। আমরা চাই, মানুষের ভোটেই কোনও শাসনের অবসান হোক।” তাঁর মতে রাজ্যের আসন্ন পঞ্চায়েত নির্বাচনে শাসক দল নজিরবিহীন ভাবে সন্ত্রাস চালিয়ে ৩৪ শতাংশ আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় জয়লাভ করেছেন। এই প্রসঙ্গে বিমান বাবু বললেন, “আমাদের সময় সর্বোচ্চ ১০ শতাংশের মতো আসনে এই ধরনের ঘটনা ঘটেছিল। আর এবার তা একলাফে ৩৪ শতাংশে চলে গিয়েছে। মনোনয়ন পর্বে এই ধরনের সন্ত্রাস কেউ কখনও আগে দেখেনি এ রাজ্যে। এমনকী, এই জমানায় ২০১৩ সালে যে পঞ্চায়েত ভোট হয়েছিল, তাতে অনেক সন্ত্রাস হলেও এবারের মতো এমন লাগামছাড়া অবস্থা ছিল না। আর আরামবাগ, গোঘাট সহ যে সব তল্লাটে আমাদের লোকজন তখন এমন সব কাণ্ড করেছিল, তাদের আমরা দল থেকে ছেঁটে দিয়েছি পরবর্তীকালে। তার মধ্যে ছোট থেকে বড় সব মাপের নেতা-কর্মী রয়েছেন। অন্য কোনও একটি দলের নাম বলা যাবে না যারা এই ধরনের পদক্ষেপ করেছে বা করার হিম্মৎ দেখাতে পারে। আমাদের দলের অভ্যন্তরে গণতন্ত্র আছে বলেই এটা সম্ভব হয়েছে।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!