এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > পুরুলিয়া-ঝাড়গ্রাম-বাঁকুড়া > বাড়ছে দ্বন্দ্ব, পরিস্থিতি সামলাতে ওষ্ঠাগত তৃণমূল নেতাদের, পুরভোটের আগে বাড়ছে জল্পনা !

বাড়ছে দ্বন্দ্ব, পরিস্থিতি সামলাতে ওষ্ঠাগত তৃণমূল নেতাদের, পুরভোটের আগে বাড়ছে জল্পনা !



বারবার তৃণমূলের তরফে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব বন্ধ করবার জন্য দেওয়া হচ্ছে কড়া বার্তা। কিন্তু তা সত্ত্বেও নেতাদের হুশ ফিরছে না কিছুতেই। এবার ঝাড়গ্রামের বেলিয়াবেড়া ব্লক তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব থামাতে গিয়ে রীতিমতো প্রাণ ওষ্ঠাগত হয়ে যাওয়ার জোগাড় জেলা তৃণমূল নেতৃত্বের। প্রসঙ্গত, গত 2014 সালে এই ব্লকের তৃণমূলের সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন স্বপন পাত্র। বর্তমানে তিনি জেলা পরিষদের অন্যতম সদস্য। স্বপনবাবুকে গত লোকসভা নির্বাচনের সময় ব্লক সভাপতির পদ থেকে সরিয়ে সেখানে বসানো হয় কালিপদ সুরকে। অনেকেরই দাবি, বর্তমান বিজেপি নেত্রী তথা তৎকালীন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ পুলিশ সুপার বলে পরিচিত ভারতী ঘোষের রোষানলে পড়েই স্বপনবাবুর এমন অবস্থা হয়েছিল।

পরবর্তীতে গত 2018 সালের পঞ্চায়েত ভোটে এই বেলিয়াবেড়ি পঞ্চায়েত সমিতি তৃণমূল দ্বিতীয়বারের জন্য দখল করলে শাসক দলের 11 জন সদস্যের মধ্যে 9 জন কালিপদবাবুর এবং দুজন স্বপনবাবুর অনুগামীকে দেখা যায়। অভিযোগ, স্বপনবাবুর গোষ্ঠীর যে দুইজন ছিলেন সেই শর্বরী অধিকারী এবং শক্তিপদ বারিককে প্রতিহিংসাবশত কোনোরূপ কর্মাধ্যক্ষ পদ দেওয়া হয়নি। আর এরপরই বিভিন্ন সময়ে স্বপন পাত্র বনাম কালীপদ সুরের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের সাক্ষী থাকতে হয়েছে ঝাড়গ্রাম জেলা তৃণমূল নেতৃত্বকে। জানা যায়, গত লোকসভা নির্বাচনের সময় এই কালিপদ সুরকে ব্লক সভাপতির পদ থেকে সরিয়ে স্বপন পাত্রের অনুগামী টিংকু পালকে ব্লক সভাপতির দায়িত্ব দেন তৃণমূল মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়।

ফেসবুকে আমাদের নতুন ঠিকানা, লেটেস্ট আপডেট পেতে আজই লাইক ও ফলো করুন – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের টেলিগ্রাম গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের সিগন্যাল গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

কিন্তু তারপরেও গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব কমছে না কিছুতেই। ইতিমধ্যেই বেলিয়াবেড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের পক্ষপাতিত্বের অভিযোগে টিংকুবাবুর গোষ্ঠীর অনুগামীরা কালিপদবাবুর গোষ্ঠীর অনুগামীদের বিরুদ্ধে ডেপুটেশন দিয়েছেন। আর তৃণমূল পরিচালিত পঞ্চায়েত সমিতির বিরুদ্ধে তৃণমূলই ডেপুটেশন দেওয়ায় এখন তা রীতিমতো চর্চার কেন্দ্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। এদিন এই প্রসঙ্গে ব্লক সভাপতি টিংকু পাল বলেন, “বিজেপিকে সঙ্গে নিয়ে পঞ্চায়েত সমিতি চলছে। বারবার এই বিষয়ে ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।” অন্যদিকে টিংকুবাবুর এই অভিযোগকে অস্বীকার করে কালিপদ সুর বলেন, “বেলিয়াবেড়া গ্রাম পঞ্চায়েতে বিজেপির সমর্থন রয়েছে। ওখানে বিজেপির সদস্যরা তৃণমূলে যোগ দেয়নি। তাই আমরাও পঞ্চায়েত সমিতিতে বিজেপির দুই সদস্যকে কর্মাধ্যক্ষ করেছি।”

তবে যেখানে বারবার গোটা ঝাড়গ্রাম জেলার মধ্যে বেলিয়াবেড়া তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব উত্তপ্ত হয়ে উঠছে, যেখানে পার্থ চট্টোপাধ্যায় থেকে শুরু করে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বরা বারবার সমস্যা সমাধানের জন্য হস্তক্ষেপ করছেন, সেখানে কেন সমস্যা মিটছে না! এদিন এই প্রসঙ্গে জেলা তৃণমূলের সভানেত্রী বীরবাহা সোরেন বলেন, “বিষয়টি দলের মহাসচিবের নজরে আছে। বেলিয়াবেরা ব্লকে দলের সবাইকে একযোগে কাজ করতে বলা হয়েছে।” তবে জেলা তৃণমূলের সভানেত্রী যে কথাই বলুন না কেন, অতীতেও তারা বারবার এই ব্যাপারে এই ব্লকের নেতাদের সতর্ক করে দিলেও, পরিস্থিতির যে কোনো উন্নতি হচ্ছে না, তা নিয়ে চিন্তিত জেলা নেতৃত্বরা। এখন গোটা পরিস্থিতি কোন দিকে এগোয়, সেদিকেই নজর থাকবে সকলের।

আপনার মতামত জানান -

ট্যাগড
Top
error: Content is protected !!