এখন পড়ছেন
হোম > রাজনীতি > তৃণমূল > বড় ধাক্কা গেরুয়া শিবিরে! তৃণমূল ভাঙিয়ে আনা হেভিওয়েট বিধায়ক আবার ফিরে গেলেন ঘাসফুল শিবিরেই!

বড় ধাক্কা গেরুয়া শিবিরে! তৃণমূল ভাঙিয়ে আনা হেভিওয়েট বিধায়ক আবার ফিরে গেলেন ঘাসফুল শিবিরেই!



প্রিয় বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট – গত ২১ শে জুলাই এর তৃণমূলের শহীদ দিবসের ভার্চুয়াল মঞ্চ থেকে তৃণমূল সুপ্রিমো ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূল ছেড়ে বিজেপি ও অন্যান্য দলে চলে যাওয়া অভিমানী তৃণমূল সদস্যদের পুনরায় তৃণমূলে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছিলেন। সেইসঙ্গে অন্যান্য দলের সদস্যদেরও যোগ দেওয়ার আবেদন জানিয়েছিলেন তৃণমূল দলে। মুখ্যমন্ত্রীর এই আবেদনের পর তৃণমূল প্রার্থীরা যাতে পুনরায় দলে ফিরে আসে, সে জন্য নানা রকম ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল তৃণমূল দলের পক্ষ থেকে।

শাসক দলের বর্তমান রাজনৈতিক উপদেষ্টা পিকে বারবার চেষ্টা করছিলেন তৃণমূল দল থেকে যেসব সমস্যার কারণে এই প্রাক্তনীরা বিদায় নিয়েছেন, সেই সব সমস্যা গুলোর সুষ্ঠু সমাধান করে দিয়ে এদের তৃণমূল দলে আবার ফিরিয়ে আনার অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করা। আর এ কাজ করতে গিয়েই তৃণমূল দলের সংগঠনে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনও সাধন করা হয়েছিল। এবার তার ইতিবাচক ফলাফলও হাতে হাতে পাচ্ছে শাসকদল। প্রায় প্রতিদিনই রাজ্যের বিভিন্ন বিরোধী দল, মূলত বিজেপি থেকে তৃণমূলে আসার এক বিরাট হিড়িক পরে গেছে।

প্রসঙ্গত গত ২০১৯ এর লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূল দল তেমন সুবিধাজনক অবস্থায় নিজেকে দাঁড় করাতে পারেনি। তুলনায় বিজেপি অনেকটা নিজের শক্তি বৃদ্ধি করতে পেরেছিল। আর এই ভোটের আগে ও ভোট পরবর্তী সময়ে তৃণমূল দলের বেশকিছু নেতা-কর্মী তথা সদস্যরা তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে চলে গিয়েছিলেন। কিন্তু বর্তমানে পিকে টিমের কার্জকলাপের পরেই বেশকিছু প্রাক্তনী আবার তৃণমূলে ফিরতে শুরু করেছেন। এর ফলে আগামী বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে ক্রমশই শক্তি বৃদ্ধি ঘটছে তৃণমূলের।

অপরপক্ষে দুর্বল থেকে দুর্বলতর করছে রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল বিজেপি। প্রতিদিন চলছে বিজেপির রক্তক্ষরণের পালা। আজ শুক্রবার বাঁকুড়া জেলার বিষ্ণুপুর বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক তুষার কান্তি ভট্টাচার্য্য তার অনুগামীদের সঙ্গে নিয়ে বিজেপি ত্যাগ করলেন ও যোগদান করলেন শাসকদল তৃণমূলে। প্রসঙ্গত তৃণমূল বিজেপি ছেড়ে সদ্য তৃণমূলে যোগদান করা বিজেপি বিধায়ক তুষার কান্তি ভট্টাচার্য্য গত ১৯৬৫ সাল থেকে ব্যাটিং করছেন রাজনীতির ময়দানে। ১৯৬৫ সাল থেকে শুরু করে ১৯৮৯ পর্যন্ত টানা ২৫ বছর বিষ্ণুপুর পৌরসভার কাউন্সিলর ছিলেন তিনি।


WhatsApp-এ প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার খবর পেতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া গ্রূপের লিঙ্ক – টেলিগ্রামফেসবুক গ্রূপ, ট্যুইটার, ইউটিউব, ফেসবুক পেজ

আমাদের Subscribe করতে নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।

এবার থেকে আমাদের খবর পড়ুন DailyHunt-এও। এই লিঙ্কে ক্লিক করুন ও ‘Follow‘ করুন।



আপনার মতামত জানান -

এরপর ১৯৮৯ সাল থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত বিষ্ণুপুর পৌরসভার পৌর প্রধান ছিলেন তিনি। পরবর্তী ১৯৯৮ সালে তিনি বাঁকুড়া জেলা তৃণমূলের চেয়ারম্যান পদে উন্নীত হন ও অধিষ্ঠিত থাকেন বেশ কিছু বছর। তারপর অকস্মাৎ বেশ কয়েক বছর তার রাজনীতি থেকে অজ্ঞাতবাস গ্রহণ। এরপর গত ২০১৬ সালে পুনরায় বাম কংগ্রেসের প্রার্থী হয়ে রাজনীতি জগতে তাঁর পুনরাগমন। এই নির্বাচনে জয়যুক্ত হয়ে তুষার তুষার কান্তি ভট্টাচার্য্য হলেন বিষ্ণুপুরের বিধায়ক। এর পরবর্তী গত ২০১৯ সালে লোকসভা নির্বাচনের সময় তিনি যোগদান করলেন বিজেপিতে।

কিন্তু আশ্চর্যজনক ভাবেই এক বছরের মধ্যেই বিজেপির প্রতি বিশেষভাবে ক্ষুব্ধ হয়ে ফিরে এলেন তিনি পুরোনো দোল তৃণমূলে, সেইসঙ্গে নিয়ে এলেন তাঁর বহু সংখ্যক অনুগামীকেও। মাত্র একবছরের কি এমন ঘটলো যে বিধায়ক তুষার বাবু শেষপর্যন্ত বিজেপি ত্যাগ করে আজ শুক্রবার পুনরায় যোগ দিলেন তৃণমূলে? এর উত্তরে তিনি নিজেই জানালেন, ” মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেভাবে বাংলার উন্নয়ন করে চলেছেন তাঁর কাজের সঙ্গী হতে আমার তৃণমূলে আসা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সর্বদা মানুষের পাশে থেকে কাজ করেন। আর সে কারণেই সাধারণ মানুষের কাছে মুখ্যমন্ত্রী এত জনপ্রিয়। মুখ্যমন্ত্রীর সৈনিক হিসেবে যোগদান করতে তৃণমূল কংগ্রেসের ছত্রছায়ায় আসা।”

আজ আজ বিধায়ক তুষার কান্তি ভট্টাচার্য ও তার অনুগামীদের বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগদানকে নিয়ে আনন্দ অনুষ্ঠান চললো তৃণমূল দলে। বিষ্ণুপুরের তৃণমূল দলীয় কার্যালয়ে চলল এই দলবদল পর্ব। সেখানে সদ্য প্রাক্তন হওয়া বিজেপি বিধায়ক তুষার বাবু ও তাঁর অনুগামী যাঁরা সদ্য বিজেপি ছেড়ে এসেছেন তৃণমূলে তাঁদেরকে বিশেষভাবে স্বাগত জানালো শাসকদল। তাদের হাতে তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় পতাকা তুলে দিলেন বিষ্ণুপুরের তৃণমূল নেতা শ্যামল সাঁতরা।

প্রসঙ্গত অল্প কিছুদিন আগে বাঁকুড়া জেলার মতো হাওড়া জেলাতেও বিজেপিও সিপিএম দল ত্যাগ করে বহু সদস্য যোগ দেন করেছিলেন তৃণমূল দলে। তৃণমূলে দলে সদ্য যোগদানকারীর এই সংখ্যাটা কোনভাবেই ১০০০ এর কম ছিল না। মূলত মধ্য ও দক্ষিণ হাওড়া ও শিবপুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে এই সিপিএম ও বিজেপি সদস্যেরা পূর্বোক্ত দোল ছেড়ে তৃণমূল দলে যোগদান করেছিলেন। সেদিন অন্যদল ছেড়ে আসা এই নব্য তৃণমূলীদের হাতে তৃণমূল দলের পতাকা তুলে দিয়েছিলেন রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী অরূপ রায়।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!