এখন পড়ছেন
হোম > রাজনীতি > বামফ্রন্ট > বামেদের রক্তক্ষরণ অব্যাহত! একুশের মহাযুদ্ধের আগে কোন অশনি সংকেত? জেনে নিন বিস্তারিত ভাবে

বামেদের রক্তক্ষরণ অব্যাহত! একুশের মহাযুদ্ধের আগে কোন অশনি সংকেত? জেনে নিন বিস্তারিত ভাবে



প্রিয় বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট – পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ৩৪ বছর ধরে রাজত্ব করেছিল বামপন্থী দল সিপিএম। সেসময়ে একটি কথা চালু ছিল, যা হলো ‘বাংলার মাটি দুর্জয় ঘাঁটি কিন্তু’ । কিন্তু গত ২০১১ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিচালনাধীন তৃণমূল কংগ্রেসের কাছে শোচনীয় পরাজয় হয় সিপিএম পরিচালিত বামফ্রন্ট সরকারের। তারপর থেকে সময় যতই এগিয়েছে, রাজ্য থেকে ততই দিনে দিনে কমে আসছে সিপিএমের জোর ।

কমছে দলের সদস্য সংখ্যা। একারণেই রাজনৈতিক ক্ষমতালাভ তো দূরের কথা, নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে পারাটাই একটি বিরাট বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে পূর্বের ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলটির কাছে। অনেকেই মনে করেন নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতেই, একসময় প্রতিদ্বন্দ্বী কংগ্রেসের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে এই দলটি। আর আগামী নির্বাচনর প্রাক্কালে নতুন সদস্য সংগ্রহ দূরের কথা, পুরনো সদস্যদের দলে টিকিয়ে রাখতেই রীতিমতো নাজেহাল অবস্থা এই দলটির।

সম্প্রতি, দলের একটি হিসেবে ধরা পড়েছে যে, গত বছরের তুলনায় এ বছরে সিপিএমের সদস্য সংখ্যা হ্রাস পেয়েছে ৭৫৫৭ জন। প্রসঙ্গত, পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বেশ কিছু সদস্য সিপিএম ত্যাগ করে তৃণমূল দলে যোগদান করেছিলেন, বর্তমানে বিজেপি শক্তিশালী হয়ে ওঠাতে বহু সিপিএম সদস্য বিজেপিতে যোগদান করতে শুরু করেছেন।

ফলে এই দলগুলোর অবস্থা হতাশাজনক হয়ে পড়েছে। সিপিএমের বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে দলের যুব সদস্যেরা যুক্ত থাকলেও নতুন করে কোন যুবক এই দলে নিজের নাম নথিভূতকরণে উৎসাহিত হচ্ছেন না। সম্প্রতি রাজ্যের করোনা এবং অম্ফান বিপর্যয় নিয়ে এই দলের যুব সদস্যেরা রাজ্যের মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে ছিল ঠিকই। কিন্তু তাতেও তেমন কোনো বিশেষ ফল হয়নি বলে দলের তরফ থেকে জানানো হয়েছে।

আমাদের নতুন ফেসবুক পেজ (Bloggers Park) লাইক ও ফলো করুন – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের টেলিগ্রাম গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের সিগন্যাল গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

রাজ্য সিপিএম দলের তরফ থেকে আসা একটি বিশেষ রাজনৈতিক চিঠিতে দলের কঙ্কালসার অবস্থার কথা বারেবারে উঠে এসেছে। এই চিঠিতে জানানো হয়েছে, গত এক বছরের তুলনায় এবছরে সিপিএম দলের সদস্য সংখ্যা উল্লেখযোগ্য ভাবে হ্রাস পেয়েছে। এই চিঠিতে জানা গেছেগত ২০১৯ সালে সিপিএম দলের মোট সদস্য সংখ্যা ছিল১,৬৮,০৪২ জন কিন্তু বর্তমানা অনেক সদস্য দলত্যাগ করে এই সংখ্যা এসে দাঁড়িয়েছে ১,৬০,৪৮৫ জনে । অর্থাৎ এই বছরে ৭৫৫৭ জন সিপিএম সদস্য সিপিএম দল ত্যাগ করেছেন।

অন্যদিকে এই চিঠিতে জানানো হয়েছে যুব সদস্য সংগ্রহ করা থেকে শুরু করে মহিলা সদস্য সংগ্রহ, কোন কিছুতেই কৃতকার্য হতে পারেনি রাজ্যের প্রাক্তন ক্ষমতাসীন দলটি। দলের এই অকৃতকার্যদের জন্য দলের নেতৃত্বের ব্যর্থতাকেই দায়ী করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত চলতি বছরে সিপিএমের মোট সদস্যের মধ্যে যুব সদস্য সংখ্যা ২০ শতাংশ এবং মহিলা সদস্য সংখ্যা ২৫ শতাংশ করার লক্ষ্যমাত্রা স্থির করা হয়েছিল। কিন্তু কোনোভাবেই এই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি । বর্তমানে দলের মোট যুব সদস্য উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়ে সেই সংখ্যা ৭.৬৮ শতাংশ হয়েছে। অন্যদিকে দলের মোট মহিলা সদস্য সংখ্যা ১০.৯৬ শতাংশ রয়েছে। যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

এই চিঠির মধ্যে দলের সংগঠনকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে এই চরম ব্যর্থতার জন্য দলীয় নেতৃত্বের দিকে অভিযোগের আঙুল তোলা হয়েছে। রাজ্যর যুবকদের কেন দলের দিকে আকর্ষণ করা সম্ভব হয় নি এর বিষয়টি নিয়েও হাজার প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। সেই সঙ্গে দলের সদস্যসংখ্যা নিয়ে বারবার সতর্ক করা হয়েছে দলকে।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!